০৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

আবাসনে ঘর থাকলেও সড়ক ও জনপদের জায়গায় বসবাস

প্রতিনিধির নাম

আবাসনে ঘর থাকলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা বসবাস।

কুষ্টিয়ার খোকসায় আবাসনে ঘর ও মালিকানা সম্পত্তি থাকলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের কুষ্টিয়া রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জায়গায় একটি পরিবার বসবাসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারটি শুধুমাত্র সড়ক সংলগ্ন মালিকানা সম্পত্তির উত্তরাধিকারের নিকট থেকে অর্থ আদায়ের জন্য এই কৌশল অবলম্বন করছে বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত খোকসা শহীদ বরকত ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় আকুব্বর নামক ব্যক্তি তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও নাতনিকে নিয়ে বসবাস করছেন। আকুব্বর ও তার ছেলের নামে খোকসা হাসপাতালের পাশে কাদিরপুর ১৩ শতাংশ জমি থাকলেও বাড়ি করার সামর্থ্য না থাকায় তারা সরকারি সম্পত্তিতে বসবাস করেন। এরই মধ্যে আকুব্বরের নিজ নামীয় সম্পত্তি সাড়ে ৬ শতাংশ বিক্রি করেন তার জামাই আজাদের নিকট। এবং অবশিষ্ট সম্পত্তি তার ছেলে শাহিনের নামে বর্তমানে রয়েছে। সম্প্রতি তাদের দুর্দশা দেখে হেলিপ্যাড আবাসনের শেষ লাইনের ৪ নং ঘর আকুব্বরের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু আকুব্বর তার দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে আবাসনে না গিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় বসবাস করছেন শুধুমাত্র সড়ক সংলগ্ন মালিকানা সম্পত্তির উত্তরাধিকারের নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের জন্য। তারা আরো জানান গত বৃহস্পতিবার হটাৎ করেই পিছনের জমির মালিক মো. হাবিল বালু ফেলতে শুরু করলে আকুব্বরের বসবাসরত ঘরের মধ্যে বালু ঢুকে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পরে। যেকারণে আকুব্বরের স্ত্রী হামিদা খাতুন থানায় অভিযোগ দিলে থানা থেকে বালু ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে আকুব্বরের স্ত্রী হামিদা খাতুন জানান, তার ছেলের নামে যে সম্পত্তি রয়েছে সেটি ছোট ছেলের চিকিৎসার জন্য জামাইয়ের কাছে বিক্রির জন্য বায়নানামা করা হয়েছে। আবাসনে তার পরিবারের লোক বেশি থাকার কারনে যাচ্ছেন না বলে জানান। তিনি আরো জানান কিছু না জানিয়ে হটাৎ করেই হাবিল বালু ফেলে তাদের বসবাসের অনুপযোগী করে দিয়েছে। তিনি বলেন ২ লাখ টাকা দিলে উঠে যাবেন।

এ বিষয়ে জমির মালিক হাবিল জানান, তাদের ব্যাংক লোন রয়েছে ১০ লাখ টাকা। এছাড়াও সম্প্রতি তার ভাই মারা গেছেন।সেই ভাইয়ের মেয়ে বিয়ে দেবার জন্য টাকার প্রয়োজন হওয়ায় জমি বিক্রি করতে চাচ্ছেন। কিন্তু আকুব্বরের স্ত্রী হামিদা কোনভাবেই তাদের জমি বিক্রি করতে দিচ্ছেনা। হামিদা উঠে যাবার জন্য দুই লাখ টাকা দাবী করছে। তারা ৬০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছেন বলে জানান।

খোকসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইছাহক আলী জানান, আকুব্বর নামক ব্যক্তির আবাসনে ঘর দেয়া হয়েছে। তাদের নিজেস্ব সম্পত্তি আছে বিষয়টি আমাদের জানা ছিলোনা। আর সড়ক ও জনপদ বিভাগ যদি আমাদের বরাবর দরখাস্ত দেয় সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবো।

ট্যাগস :
আপডেট : ০৫:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২২
১৪৬ বার পড়া হয়েছে

আবাসনে ঘর থাকলেও সড়ক ও জনপদের জায়গায় বসবাস

আপডেট : ০৫:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কুষ্টিয়ার খোকসায় আবাসনে ঘর ও মালিকানা সম্পত্তি থাকলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের কুষ্টিয়া রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জায়গায় একটি পরিবার বসবাসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারটি শুধুমাত্র সড়ক সংলগ্ন মালিকানা সম্পত্তির উত্তরাধিকারের নিকট থেকে অর্থ আদায়ের জন্য এই কৌশল অবলম্বন করছে বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত খোকসা শহীদ বরকত ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় আকুব্বর নামক ব্যক্তি তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও নাতনিকে নিয়ে বসবাস করছেন। আকুব্বর ও তার ছেলের নামে খোকসা হাসপাতালের পাশে কাদিরপুর ১৩ শতাংশ জমি থাকলেও বাড়ি করার সামর্থ্য না থাকায় তারা সরকারি সম্পত্তিতে বসবাস করেন। এরই মধ্যে আকুব্বরের নিজ নামীয় সম্পত্তি সাড়ে ৬ শতাংশ বিক্রি করেন তার জামাই আজাদের নিকট। এবং অবশিষ্ট সম্পত্তি তার ছেলে শাহিনের নামে বর্তমানে রয়েছে। সম্প্রতি তাদের দুর্দশা দেখে হেলিপ্যাড আবাসনের শেষ লাইনের ৪ নং ঘর আকুব্বরের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু আকুব্বর তার দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে আবাসনে না গিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় বসবাস করছেন শুধুমাত্র সড়ক সংলগ্ন মালিকানা সম্পত্তির উত্তরাধিকারের নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের জন্য। তারা আরো জানান গত বৃহস্পতিবার হটাৎ করেই পিছনের জমির মালিক মো. হাবিল বালু ফেলতে শুরু করলে আকুব্বরের বসবাসরত ঘরের মধ্যে বালু ঢুকে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পরে। যেকারণে আকুব্বরের স্ত্রী হামিদা খাতুন থানায় অভিযোগ দিলে থানা থেকে বালু ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে আকুব্বরের স্ত্রী হামিদা খাতুন জানান, তার ছেলের নামে যে সম্পত্তি রয়েছে সেটি ছোট ছেলের চিকিৎসার জন্য জামাইয়ের কাছে বিক্রির জন্য বায়নানামা করা হয়েছে। আবাসনে তার পরিবারের লোক বেশি থাকার কারনে যাচ্ছেন না বলে জানান। তিনি আরো জানান কিছু না জানিয়ে হটাৎ করেই হাবিল বালু ফেলে তাদের বসবাসের অনুপযোগী করে দিয়েছে। তিনি বলেন ২ লাখ টাকা দিলে উঠে যাবেন।

এ বিষয়ে জমির মালিক হাবিল জানান, তাদের ব্যাংক লোন রয়েছে ১০ লাখ টাকা। এছাড়াও সম্প্রতি তার ভাই মারা গেছেন।সেই ভাইয়ের মেয়ে বিয়ে দেবার জন্য টাকার প্রয়োজন হওয়ায় জমি বিক্রি করতে চাচ্ছেন। কিন্তু আকুব্বরের স্ত্রী হামিদা কোনভাবেই তাদের জমি বিক্রি করতে দিচ্ছেনা। হামিদা উঠে যাবার জন্য দুই লাখ টাকা দাবী করছে। তারা ৬০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছেন বলে জানান।

খোকসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইছাহক আলী জানান, আকুব্বর নামক ব্যক্তির আবাসনে ঘর দেয়া হয়েছে। তাদের নিজেস্ব সম্পত্তি আছে বিষয়টি আমাদের জানা ছিলোনা। আর সড়ক ও জনপদ বিভাগ যদি আমাদের বরাবর দরখাস্ত দেয় সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবো।