০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

আল আকসায় নামাজরত মুসল্লিদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী

প্রতিনিধির নাম

বুধবার ভোরে সেখানে থাকা শত শত মুসল্লির ওপর আকস্মিক হামলা চালায় তারা। এ সময় মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের গ্রেফতার, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। রমজানের রাতে ইবাদত করতে আসা বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এতে সেখানে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বড় সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরাইলি পুলিশ দাবি করেছে, দাঙ্গার জবাব দিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, দক্ষিণের শহরগুলোতে সাইরেন বাজানোর পর গাজা থেকে ইসরাইলের দিকে ৯টি রকেট ছোড়া হয়েছে।

এ ঘটনা ফিলিস্তিনসহ বিশ্ব মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অধিকৃত পশ্চিমতীর এবং জেরুজালেমে সহিংসতা গত বছর ধরে বেড়েছে। উদ্বেগ রয়েছে, এই মাসে উত্তেজনা বাড়তে পারে। কারণ মুসলিম পবিত্র রমজান মাস, ইহুদি ধর্মের পাসওভার এবং খ্রিস্টান ইস্টারের সঙ্গে মিলে যায়।

ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি পুলিশের হামলায় সাত ফিলিস্তিনি রাবার-টিপড বুলেট এবং মারধরে আহত হয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, ইসরাইলি বাহিনী চিকিৎসকদের মসজিদে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে।

মসজিদের বাইরে থাকা এক বয়স্ক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে রয়টার্সকে বলেন, আমি একটি চেয়ারে বসে (কুরআন) তিলাওয়াত করছিলাম। আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তারা স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে, এটি আমার বুকে আঘাত করেছে।

ইসরাইলি পুলিশ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, মুখোশধারীরা আতশবাজি, লাঠি এবং পাথর ছুড়েছিল। তারা মসজিদের ভেতর থাকায় সেখানে ইসরাইলি বাহিনী প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে।

বিবৃতিতে ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, পুলিশ প্রবেশ করলে, তাদের দিকে পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং আন্দোলনকারীদের একটি বড় দল মসজিদের ভেতর থেকে আতশবাজি ছোড়ে। এতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংস ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটিয়েছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনের দলগুলো মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলের হামলার নিন্দা করেছে। এ ঘটনাকে তারা অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনেহ বলেছেন, আমরা পবিত্র স্থানগুলোতে লাল রেখা অতিক্রম করার বিরুদ্ধে দখলদারত্বকে সতর্ক করছি, যা একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটাবে।

জর্ডান ও মিশর— উভয়ই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস করার জন্য সাম্প্রতিক মার্কিন-সমর্থিত প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছে। দুই দেশই এ ঘটনার নিন্দা করে পৃথক বিবৃতি জারি করেছে।

হামাস ইসরাইলের এ হামলাকে ‘অভূতপূর্ব অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে এই নিন্দা করেছে। আল আকসা রক্ষার জন্য পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে সেখানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

ফিলিস্তিনিরা অতি-ডানপন্থি ইসরাইলি আন্দোলন নিয়ে চিন্তিত যারা আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসলামিক কাঠামো ভেঙে ইহুদি মন্দির নির্মাণ করতে চায়।

সূত্র: রয়টার্স ও আলজাজিরা

ট্যাগস :
আপডেট : ১১:১০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ এপ্রিল ২০২৩
২২২ বার পড়া হয়েছে

আল আকসায় নামাজরত মুসল্লিদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী

আপডেট : ১১:১০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ এপ্রিল ২০২৩

বুধবার ভোরে সেখানে থাকা শত শত মুসল্লির ওপর আকস্মিক হামলা চালায় তারা। এ সময় মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের গ্রেফতার, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। রমজানের রাতে ইবাদত করতে আসা বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এতে সেখানে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বড় সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরাইলি পুলিশ দাবি করেছে, দাঙ্গার জবাব দিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, দক্ষিণের শহরগুলোতে সাইরেন বাজানোর পর গাজা থেকে ইসরাইলের দিকে ৯টি রকেট ছোড়া হয়েছে।

এ ঘটনা ফিলিস্তিনসহ বিশ্ব মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অধিকৃত পশ্চিমতীর এবং জেরুজালেমে সহিংসতা গত বছর ধরে বেড়েছে। উদ্বেগ রয়েছে, এই মাসে উত্তেজনা বাড়তে পারে। কারণ মুসলিম পবিত্র রমজান মাস, ইহুদি ধর্মের পাসওভার এবং খ্রিস্টান ইস্টারের সঙ্গে মিলে যায়।

ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি পুলিশের হামলায় সাত ফিলিস্তিনি রাবার-টিপড বুলেট এবং মারধরে আহত হয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, ইসরাইলি বাহিনী চিকিৎসকদের মসজিদে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে।

মসজিদের বাইরে থাকা এক বয়স্ক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে রয়টার্সকে বলেন, আমি একটি চেয়ারে বসে (কুরআন) তিলাওয়াত করছিলাম। আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তারা স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে, এটি আমার বুকে আঘাত করেছে।

ইসরাইলি পুলিশ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, মুখোশধারীরা আতশবাজি, লাঠি এবং পাথর ছুড়েছিল। তারা মসজিদের ভেতর থাকায় সেখানে ইসরাইলি বাহিনী প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে।

বিবৃতিতে ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, পুলিশ প্রবেশ করলে, তাদের দিকে পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং আন্দোলনকারীদের একটি বড় দল মসজিদের ভেতর থেকে আতশবাজি ছোড়ে। এতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংস ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটিয়েছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনের দলগুলো মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলের হামলার নিন্দা করেছে। এ ঘটনাকে তারা অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনেহ বলেছেন, আমরা পবিত্র স্থানগুলোতে লাল রেখা অতিক্রম করার বিরুদ্ধে দখলদারত্বকে সতর্ক করছি, যা একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটাবে।

জর্ডান ও মিশর— উভয়ই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস করার জন্য সাম্প্রতিক মার্কিন-সমর্থিত প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছে। দুই দেশই এ ঘটনার নিন্দা করে পৃথক বিবৃতি জারি করেছে।

হামাস ইসরাইলের এ হামলাকে ‘অভূতপূর্ব অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে এই নিন্দা করেছে। আল আকসা রক্ষার জন্য পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে সেখানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

ফিলিস্তিনিরা অতি-ডানপন্থি ইসরাইলি আন্দোলন নিয়ে চিন্তিত যারা আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসলামিক কাঠামো ভেঙে ইহুদি মন্দির নির্মাণ করতে চায়।

সূত্র: রয়টার্স ও আলজাজিরা