০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

আশুলিয়ায় সরকারের বিধি নিষেধ অমান্য করে করোনা চাষে ব্যস্ত আ’লীগের নেতারা

প্রতিনিধির নাম

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সারা দেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নে কয়েক হাজার লোকজন নিয়ে আওয়ামী লীগের জনসমাবেশ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই জনসমাবেশ চলে পাচঁ ঘণ্টাব্যাপী। সমাবেশে দলে দলে মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন হাজারো নেতাকর্মী। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা অধিকাংশ লোকজনের মুখে মাস্কও ছিল না।সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। ১০০ জনের অধিক লোক নিয়ে সমাবেশ করা যাবে না। তবে অনেক লোক নিয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশ করার কথা জেনেছি। ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তৈয়বপুর মাঠ এলাকায় সমাবেশস্থলে দুপুর ২টার পর থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। এ সময় গাদাগাদি করে আসা মিছিলগুলোতে কারও মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। ছিল না সামাজিক দূরত্ব। ঠাসাঠাসি করে চেয়ারে বসে ছিলেন নেতাকর্মীরা।অনুষ্ঠানে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফারুক হাসান তুহিন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় প্রধান অতিথি আগামী তিন বছরের জন্য মুজিবর রহমান শাহেদকে সভাপতি ও মো. মুসাকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ও এলাকাবাসী বলেন, ‘নতুন করে করোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময়ে হাজার লোক নিয়ে জনসমাগম করার প্রয়োজন ছিল না। এই সমাবেশের কারণে এলাকায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ঘরোয়াভাবে অল্প লোকজন নিতেও তারা অনুষ্ঠানটি শেষ করতে পারতো। অথচ সেটা না করে চার-পাঁচ হাজার লোকজন নিয়ে সমাবেশ করেছে। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কাই করেনি তারা।আশুলিয়া থানা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য ব্যারিস্টার ইমাম হাসান বলেন, সরকার আমাদের জন্য যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, সেই বিধিনিষেধগুলো তখন কার্যকর হবে যখন সমাজের সব শ্রেণির মানুষ বিধিনিষেধগুলো মেনে চলবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই বিষয়গুলো তদারকি করবে। যেভাবে করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলছে এরকম পরিস্থিতিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা কারও উচিত নয়।তবে আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফারুক হাসান তুহিন দাবি করেন, আমাদের সমাবেশটির দিন পূর্বঘোষিত ছিল। সে কারণে এই বিধিনিষেধে আমরা অনুষ্ঠানটি বন্ধ রাখতে পারিনি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুই শতাধিক লোক নিয়ে সমাবেশ দ্রুত শেষ করা হয়েছে।এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, আজকে সাভারে কোভিড শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ। যা খুবই উদ্বেগজনক। কোনও ধরনের সভা-সমাবেশ করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছোট পরিসরে করার নির্দেশনা রয়েছে। যদি আমরা সচেতন না হই তাহলে এই আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন মেনে এসব করা উচিৎ।

ট্যাগস :
আপডেট : ০৯:১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২
১৯১ বার পড়া হয়েছে

আশুলিয়ায় সরকারের বিধি নিষেধ অমান্য করে করোনা চাষে ব্যস্ত আ’লীগের নেতারা

আপডেট : ০৯:১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সারা দেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নে কয়েক হাজার লোকজন নিয়ে আওয়ামী লীগের জনসমাবেশ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই জনসমাবেশ চলে পাচঁ ঘণ্টাব্যাপী। সমাবেশে দলে দলে মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন হাজারো নেতাকর্মী। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা অধিকাংশ লোকজনের মুখে মাস্কও ছিল না।সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। ১০০ জনের অধিক লোক নিয়ে সমাবেশ করা যাবে না। তবে অনেক লোক নিয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশ করার কথা জেনেছি। ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তৈয়বপুর মাঠ এলাকায় সমাবেশস্থলে দুপুর ২টার পর থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। এ সময় গাদাগাদি করে আসা মিছিলগুলোতে কারও মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। ছিল না সামাজিক দূরত্ব। ঠাসাঠাসি করে চেয়ারে বসে ছিলেন নেতাকর্মীরা।অনুষ্ঠানে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফারুক হাসান তুহিন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় প্রধান অতিথি আগামী তিন বছরের জন্য মুজিবর রহমান শাহেদকে সভাপতি ও মো. মুসাকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ও এলাকাবাসী বলেন, ‘নতুন করে করোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময়ে হাজার লোক নিয়ে জনসমাগম করার প্রয়োজন ছিল না। এই সমাবেশের কারণে এলাকায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ঘরোয়াভাবে অল্প লোকজন নিতেও তারা অনুষ্ঠানটি শেষ করতে পারতো। অথচ সেটা না করে চার-পাঁচ হাজার লোকজন নিয়ে সমাবেশ করেছে। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কাই করেনি তারা।আশুলিয়া থানা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য ব্যারিস্টার ইমাম হাসান বলেন, সরকার আমাদের জন্য যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, সেই বিধিনিষেধগুলো তখন কার্যকর হবে যখন সমাজের সব শ্রেণির মানুষ বিধিনিষেধগুলো মেনে চলবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই বিষয়গুলো তদারকি করবে। যেভাবে করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলছে এরকম পরিস্থিতিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা কারও উচিত নয়।তবে আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফারুক হাসান তুহিন দাবি করেন, আমাদের সমাবেশটির দিন পূর্বঘোষিত ছিল। সে কারণে এই বিধিনিষেধে আমরা অনুষ্ঠানটি বন্ধ রাখতে পারিনি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুই শতাধিক লোক নিয়ে সমাবেশ দ্রুত শেষ করা হয়েছে।এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, আজকে সাভারে কোভিড শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ। যা খুবই উদ্বেগজনক। কোনও ধরনের সভা-সমাবেশ করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছোট পরিসরে করার নির্দেশনা রয়েছে। যদি আমরা সচেতন না হই তাহলে এই আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন মেনে এসব করা উচিৎ।