০৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

এআইআইবি থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম

কোভিড মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি বাজেট সহায়তার আওতায় ঋণ দিয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতে সংস্থাটি থেকে আরও সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে এআইআইবির বিনিয়োগ অপারেশন অঞ্চল ১- দক্ষিণ এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. উর্জিত প্যাটেলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সহায়তার কথা জানান। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশকে ১ দশমিক শূণ্য ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য এআইআইবি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে, বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়। এ জন্য বাংলাদেশের আরও বাজেট সমর্থন প্রয়োজন।

তিনি এআইআইবির ঋণে সুদ ও অন্যান্য শর্তাবলিও পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন। এসব ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংককে অনুসরণ করে প্রতিশ্রুতি ফি মওকুফ করারও আহ্বান জানান। সংস্থাটিকে গ্রিন ক্লাইমেট ফাইনান্স এবং এসডিজির লিঙ্কড বন্ডের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে জোর দেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশের জিডিপি ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় ৩৮ বছর। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি স্মার্ট উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি উন্নয়ন সহযোগিদের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে ডলার সংকটে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমছেই। গত ৯ জানুয়ারি রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০২১ সালের আগস্টে যেখানে রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। রিজার্ভ কমে আসায় তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক এবং জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা থেকেও ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবার এআইআইবি থেকে অতিরিক্ত সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী।

ট্যাগস :
আপডেট : ০১:২১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৩
৫৮০ বার পড়া হয়েছে

এআইআইবি থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০১:২১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৩

কোভিড মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি বাজেট সহায়তার আওতায় ঋণ দিয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতে সংস্থাটি থেকে আরও সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে এআইআইবির বিনিয়োগ অপারেশন অঞ্চল ১- দক্ষিণ এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. উর্জিত প্যাটেলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সহায়তার কথা জানান। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশকে ১ দশমিক শূণ্য ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য এআইআইবি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে, বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়। এ জন্য বাংলাদেশের আরও বাজেট সমর্থন প্রয়োজন।

তিনি এআইআইবির ঋণে সুদ ও অন্যান্য শর্তাবলিও পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন। এসব ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংককে অনুসরণ করে প্রতিশ্রুতি ফি মওকুফ করারও আহ্বান জানান। সংস্থাটিকে গ্রিন ক্লাইমেট ফাইনান্স এবং এসডিজির লিঙ্কড বন্ডের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে জোর দেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশের জিডিপি ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় ৩৮ বছর। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি স্মার্ট উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি উন্নয়ন সহযোগিদের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে ডলার সংকটে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমছেই। গত ৯ জানুয়ারি রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০২১ সালের আগস্টে যেখানে রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। রিজার্ভ কমে আসায় তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক এবং জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা থেকেও ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবার এআইআইবি থেকে অতিরিক্ত সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী।