১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিংড়ি ঘের দখলের প্রস্তুতিকালে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ৪ ডাকাত আটক

আবদুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার,কক্সবাজার

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিংড়ি ঘের দখলের প্রস্তুতিকালে দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী ডাকাত আকতার হোসাইনসহ ৪ ডাকাত সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলাবারুদ উদ্ধার করে র‌্যাব সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে চকরিয়ার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া মকবুলাবাদ এলাকার একটি ঘর থেকে তাদের আটক করা হয়

আটককৃত ডাকাত সদস্যরা হলেন মহেশখালী হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকার কবির আহমেদের ছেলে আকতার হোসাইন (৪২),কালামারছড়া ইউনিয়নের মিজ্জির পাড়া এলাকার লস্কর আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন(৪২),নুনাছড়ি এলাকার আলী হোসেনের ছেলে নুরুল আমিন (৩৮) ও কক্সবাজার সদর ভারুয়াখালী ইউনিয়নের উজির আলীর ছেলে নুরুল হামিদ(৩৯)।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন কক্সবাজার এর আভিযানিক দল র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, অস্ত্রধারী একদল ডাকাত চিংড়ি ঘের ও লবণের মাঠ দখলের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে চকরিয়া থানাধীন পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া মকবুলাবাদ এলাকার একটি ঘরে অবস্থান ও ঘের দখলের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। উক্ত তথ্যের প্রেক্ষিতে গত রাত আনুমানিক ৩টার সময় র‌্যাব-১৫ এর চৌকস আভিযানিক দল উক্ত এলাকায় ডাকাত দলের অস্ত্রধারী সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। র‌্যাবের অভিযানের বিষয়টি বুঝতে পেরে টং ঘরে অবস্থানরত ডাকাত দলের সদস্যরা দিক-বিদিক পালানোর জন্য ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় ধাওয়া করে মহেশখালীর কেরুনতলীর অন্যতম দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আকতার হোছাইন’সহ ডাকাত দলের চার সদস্য’কে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় তল্লাশী করে আকতার হোছাইনের ডান কোমরে গুজানো অবস্থা থেকে ১টি দেশীয় তৈরী এলজি, ঘরটি তল্লাশী করে ৪টি লম্বা একনালা বন্দুক, ৯৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩টি স্মার্ট ফোন এবং ডাকাত দলটির অপরাধ কর্মকান্ডে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি আটককৃত নুরুল আমিনের হেফাজতে হতে উদ্ধার করা হয়।

আটক আকতার হোছাইন মহেশখালীসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ অবৈধভাবে দখলসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত। সে আধিপত্য বিস্তার ও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে ভাড়া করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে তার দলের শক্তি বৃদ্ধি করে। মহেশখালীসহ কক্সবাজারের চকরিয়া ও অন্যান্য এলাকা এবং কক্সবাজারের পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থান হতে ভাড়া করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, সশস্ত্র সন্ত্রাসী/ডাকাত দলের সদস্যদের সে মহেশখালীতে নিয়ে আসতো। এছাড়াও ঘের দখলে তাদের শক্তি ও জনবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে উঠতি বয়সী কিশোর/যুবকদের দলে অন্তর্ভূক্তকরণসহ তাদের হাতে তুলে দিতো অবৈধ অস্ত্র। অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, তারা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল হতে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে দেশীয় তৈরী অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ, চিংড়ি ঘের দখল ও ডাকাতির কাজে অস্ত্র-গোলাবারুদের ব্যবহার এবং নিজেদের হেফাজতে মজুদ করে থাকে। আরো জানা যায় যে, চিংড়ি ঘের ও লবণ চাষ লাভজনক হওয়ায় দখলবাজ কিছু স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহল তাদের ছত্র-ছায়ায় ঘের দখল-বেদখলে এ সকল সন্ত্রাসীদের তৈরীসহ শেল্টার দিয়ে থাকে। আকতারের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র আইনে ৩টি মামলা সংক্রান্তে তথ্য পাওয়া যায়।

আটক জয়নাল আবেদিন প্রকাশ হাতকাটা জয়নাল, আকতার হোছাইনের অন্যতম সহযোগী। সে ছিল মহেশখালীর এক সময়ের কুখ্যাত ও ভয়ংকর ডাকাত। তৎকালীন সময়ে সে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনাসহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, ডাকাতি ও মাছের ঘের দখল করতো। তার এই অপরাধ কর্মকান্ডের ফলে প্রতিপক্ষের সাথে সৃষ্ট সংঘর্ষে তার ডান হাত প্রতিপক্ষ কেটে ফেলে এবং সে থেকে হাতকাটা জয়নাল নামে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। তার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে ৬টি মামলা সংক্রান্তে তথ্য পাওয়া যায়।

নুরুল হামিদ প্রকাশ খলিফাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে বিভিন্ন মাধ্যম হতে অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ করতো। সংগ্রহকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের নিকট বিক্রয়সহ চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ দখলকারী অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের নিকট অস্ত্র সরবরাহ করতো। একই সাথে সে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার নিকট অস্ত্র বিক্রয় করে বলে জানা যায়। এছাড়াও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অভিনব কৌশলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধীদের নিকট এই দেশীয় তৈরী অস্ত্র সরবরাহ করে আসছিল। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত নুরুল আমিন পেশায় সিএনজি চালক হলেও এই পেশার আড়ালে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে অস্ত্রশস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের আনা-নেয়ার কাজে সহায়তা করে থাকে।

আটককৃত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

ট্যাগস :
আপডেট : ০৩:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪
১০৯ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিংড়ি ঘের দখলের প্রস্তুতিকালে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ৪ ডাকাত আটক

আপডেট : ০৩:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিংড়ি ঘের দখলের প্রস্তুতিকালে দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী ডাকাত আকতার হোসাইনসহ ৪ ডাকাত সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলাবারুদ উদ্ধার করে র‌্যাব সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে চকরিয়ার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া মকবুলাবাদ এলাকার একটি ঘর থেকে তাদের আটক করা হয়

আটককৃত ডাকাত সদস্যরা হলেন মহেশখালী হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকার কবির আহমেদের ছেলে আকতার হোসাইন (৪২),কালামারছড়া ইউনিয়নের মিজ্জির পাড়া এলাকার লস্কর আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন(৪২),নুনাছড়ি এলাকার আলী হোসেনের ছেলে নুরুল আমিন (৩৮) ও কক্সবাজার সদর ভারুয়াখালী ইউনিয়নের উজির আলীর ছেলে নুরুল হামিদ(৩৯)।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন কক্সবাজার এর আভিযানিক দল র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, অস্ত্রধারী একদল ডাকাত চিংড়ি ঘের ও লবণের মাঠ দখলের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে চকরিয়া থানাধীন পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া মকবুলাবাদ এলাকার একটি ঘরে অবস্থান ও ঘের দখলের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। উক্ত তথ্যের প্রেক্ষিতে গত রাত আনুমানিক ৩টার সময় র‌্যাব-১৫ এর চৌকস আভিযানিক দল উক্ত এলাকায় ডাকাত দলের অস্ত্রধারী সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। র‌্যাবের অভিযানের বিষয়টি বুঝতে পেরে টং ঘরে অবস্থানরত ডাকাত দলের সদস্যরা দিক-বিদিক পালানোর জন্য ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় ধাওয়া করে মহেশখালীর কেরুনতলীর অন্যতম দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আকতার হোছাইন’সহ ডাকাত দলের চার সদস্য’কে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় তল্লাশী করে আকতার হোছাইনের ডান কোমরে গুজানো অবস্থা থেকে ১টি দেশীয় তৈরী এলজি, ঘরটি তল্লাশী করে ৪টি লম্বা একনালা বন্দুক, ৯৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩টি স্মার্ট ফোন এবং ডাকাত দলটির অপরাধ কর্মকান্ডে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি আটককৃত নুরুল আমিনের হেফাজতে হতে উদ্ধার করা হয়।

আটক আকতার হোছাইন মহেশখালীসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ অবৈধভাবে দখলসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত। সে আধিপত্য বিস্তার ও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে ভাড়া করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে তার দলের শক্তি বৃদ্ধি করে। মহেশখালীসহ কক্সবাজারের চকরিয়া ও অন্যান্য এলাকা এবং কক্সবাজারের পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থান হতে ভাড়া করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, সশস্ত্র সন্ত্রাসী/ডাকাত দলের সদস্যদের সে মহেশখালীতে নিয়ে আসতো। এছাড়াও ঘের দখলে তাদের শক্তি ও জনবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে উঠতি বয়সী কিশোর/যুবকদের দলে অন্তর্ভূক্তকরণসহ তাদের হাতে তুলে দিতো অবৈধ অস্ত্র। অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, তারা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল হতে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে দেশীয় তৈরী অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ, চিংড়ি ঘের দখল ও ডাকাতির কাজে অস্ত্র-গোলাবারুদের ব্যবহার এবং নিজেদের হেফাজতে মজুদ করে থাকে। আরো জানা যায় যে, চিংড়ি ঘের ও লবণ চাষ লাভজনক হওয়ায় দখলবাজ কিছু স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহল তাদের ছত্র-ছায়ায় ঘের দখল-বেদখলে এ সকল সন্ত্রাসীদের তৈরীসহ শেল্টার দিয়ে থাকে। আকতারের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র আইনে ৩টি মামলা সংক্রান্তে তথ্য পাওয়া যায়।

আটক জয়নাল আবেদিন প্রকাশ হাতকাটা জয়নাল, আকতার হোছাইনের অন্যতম সহযোগী। সে ছিল মহেশখালীর এক সময়ের কুখ্যাত ও ভয়ংকর ডাকাত। তৎকালীন সময়ে সে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনাসহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, ডাকাতি ও মাছের ঘের দখল করতো। তার এই অপরাধ কর্মকান্ডের ফলে প্রতিপক্ষের সাথে সৃষ্ট সংঘর্ষে তার ডান হাত প্রতিপক্ষ কেটে ফেলে এবং সে থেকে হাতকাটা জয়নাল নামে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। তার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে ৬টি মামলা সংক্রান্তে তথ্য পাওয়া যায়।

নুরুল হামিদ প্রকাশ খলিফাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে বিভিন্ন মাধ্যম হতে অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ করতো। সংগ্রহকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের নিকট বিক্রয়সহ চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ দখলকারী অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের নিকট অস্ত্র সরবরাহ করতো। একই সাথে সে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার নিকট অস্ত্র বিক্রয় করে বলে জানা যায়। এছাড়াও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অভিনব কৌশলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধীদের নিকট এই দেশীয় তৈরী অস্ত্র সরবরাহ করে আসছিল। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত নুরুল আমিন পেশায় সিএনজি চালক হলেও এই পেশার আড়ালে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে অস্ত্রশস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের আনা-নেয়ার কাজে সহায়তা করে থাকে।

আটককৃত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।