১০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

কলকাতায় সরব ঢাকার তারকারা

প্রতিনিধির নাম

বাংলাদেশ আর কলকাতা, এপার-ওপার দুই বাংলা মূলত ভাষার বন্ধনে আবদ্ধ। ভাষার বাঁধনের কারণে বিভিন্ন অঙ্গনে লেনদেনটা বেশ মজবুতই বলা যায়। বিশেষ করে সংস্কৃতি ভুবনের শিল্পীদের যাওয়া-আসা চলছে স্বাধীন দেশের শুরু থেকেই। স্বাধীন দেশে প্রথম ১৯৭৩ সালে কলকাতায় সত্যজিৎ রায় নির্মিত ‘অশনি সংকেত’ ছবিতে অভিনয় করেন ববিতা। ১৯৭৬ সালে টালিগঞ্জে নির্মিত রাজেন তরফদার পরিচালিত ‘পালংক’ ছবিতে অভিনয় করেন আনোয়ার হোসেন। ঠিক তেমনি টালিগঞ্জের অভিনেতা বিশ্বজিৎকে দেখা যায় মমতাজ আলীর ‘জয় বাংলা’ ছবিতে। দুই বাংলার শিল্পীদের উভয় বাংলার রুপালি পর্দা আলো করাটা এখনো চলছে। অনেক আগেই কলকাতার ছবিতে থিতু হওয়া জয়া আহসান সম্প্রতি আবারও কলকাতার ছবিতে অভিনয়ে চুক্তিবদ্ধ হলেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ অবলম্বনে একই নামের চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন সুমন মুখোপাধ্যায়। সেই ছবিতে দেখা যাবে অভিনেত্রী জয়া আহসানকে। এদিকে সম্প্রতি ঢাকার বড় ও ছোট পর্দার আরেক অভিনেতা মোশাররফ করিম ফের কলকাতার ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। কলকাতার ছবি ব্রাত্য বসুর ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন ছবি প্রযোজনা করতে চলেছেন প্রযোজক জয় বি গঙ্গোপাধ্যায়। ছবির নাম ‘গু কাকু -দ্য পার্টি আঙ্কেল’। ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন মোশাররফ করিম। এর আগে তিনি অভিনয় করেছিলেন ব্রাত্য বসুর পরিচালনায় ‘ডিকশনারি’ ছবিতে। তিনি অভিনয় করবেন ‘গু কাকু

-দ্য পার্টি আঙ্কেল’ সিনেমায়ও। দুই বাংলার চলচ্চিত্রে শিল্পী আদান-প্রদানের সংস্কৃতি ধরে রেখে এপার বাংলার আনোয়ার হোসেন, নায়করাজ রাজ্জাক, ববিতা, শাবানা, রোজিনা, অঞ্জু ঘোষ, নূতন, চম্পা, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ফেরদৌস, শাকিব খান, দিলরুবা ইয়াসমিন রুহি, নিপুণ, মিশা সওদাগর, জলি, নুসরাত ফারিয়া, সোহানা সাবা, আরিফিন শুভ, আহমেদ রুবেল, মাহিয়া মাহি, ববি,  আমান, রোশন, অপি করিম, চঞ্চল চৌধুরীসহ অনেকেই কলকাতার ছবিতে কাজ করেছেন। তেমনি বাংলাদেশের ছবিতেও ওপার বাংলার প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, শতাব্দী রায়, পরমব্রত, জিৎ, পার্ণো মিত্র, দেবশ্রী, জয়া বচ্চন, ভিক্টর ব্যানার্জি, রঞ্জিত মল্লিক, দেবসহ অনেকেই অভিনয় করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাই ছবির বেশ কয়েকজন অভিনয় শিল্পী ওপার বাংলায় কাজ করছেন। এই তালিকায় রয়েছেন জয়া আহসান, মিথিলা ও বাঁধনের মতো শিল্পীরা। কলকাতার পরিচালক ও অভিনেতা অরিন্দম শীলের হাত ধরে ২০১৩ সালে কলকাতার ‘আবর্ত’ সিনেমায় অভিষিক্ত হন জয়া আহসান। এরপর একে একে জয়া অভিনয় দিয়ে ওপার বাংলার দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির দাবি, জয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের মিথিলা ও বাঁধনেরও চাহিদা বেড়েছে ওপার বাংলার সিনেমা-সিরিজে। এ ছাড়া নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েই কলকাতায় পা রেখেছিলেন নুসরাত ফারিয়া, মাহিয়া মাহিসহ অনেকেই। দুই বাংলার শিল্পী আদান-প্রদানের ধারাবাহিকতায় নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে গত বছর ‘অন্তরাত্মা’ ছবিতে অভিনয় করে গেলেন ওপার বাংলার অভিনেত্রী দর্শনা। এরপরই পার্ণো মিত্র অভিনয় করছেন ফজলুল কবীর তুহিনের ‘বিলডাকিনী’তে মোশাররফ করিমের বিপরীতে। ‘প্রিয়া রে’ ছবিতে অভিনয় করতে গত বছর ঢাকায় আসেন ওপার বাংলার কৌশানী মুখোপাধ্যায়। যিনি এর আগেও ঢাকার ছবিতে কাজ করেছেন। এ ছাড়া অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দুই বাংলায় নিয়মিত অভিনয় করছেন। আর এখনো ঢাকাই ছবির তারকাদের কলকাতা মিশন চলছে এবং এর পরিমাণ বাড়ছে। চলচ্চিত্রকার কাজী হায়াৎ বলেন, বর্তমানে অন্য দেশে আমাদের দেশের শিল্পীদের অভিনয় করা নিয়ে কারণ খোঁজার প্রয়োজন নেই। শিল্পীরা হচ্ছেন স্বাধীন, তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো সীমানায় সীমিত করা যাবে না। এক দেশের শিল্পী অন্য দেশে কাজ করবেন এবং তাতে দেশ, শিল্পী এবং শিল্পের পরিচিতি বাড়বে। এটিকে অবশ্যই অ্যাপ্রিসিয়েট করা দরকার। চলচ্চিত্রকার সুচন্দা বলেন, আমাদের দেশের শিল্পীদের অন্য দেশ বিশেষ করে ভারতে কাজ করা নতুন কিছু নয়। দুই দেশের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের জন্য এটির দরকার আছে।

ট্যাগস :
আপডেট : ১০:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২
১৯৮ বার পড়া হয়েছে

কলকাতায় সরব ঢাকার তারকারা

আপডেট : ১০:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২

বাংলাদেশ আর কলকাতা, এপার-ওপার দুই বাংলা মূলত ভাষার বন্ধনে আবদ্ধ। ভাষার বাঁধনের কারণে বিভিন্ন অঙ্গনে লেনদেনটা বেশ মজবুতই বলা যায়। বিশেষ করে সংস্কৃতি ভুবনের শিল্পীদের যাওয়া-আসা চলছে স্বাধীন দেশের শুরু থেকেই। স্বাধীন দেশে প্রথম ১৯৭৩ সালে কলকাতায় সত্যজিৎ রায় নির্মিত ‘অশনি সংকেত’ ছবিতে অভিনয় করেন ববিতা। ১৯৭৬ সালে টালিগঞ্জে নির্মিত রাজেন তরফদার পরিচালিত ‘পালংক’ ছবিতে অভিনয় করেন আনোয়ার হোসেন। ঠিক তেমনি টালিগঞ্জের অভিনেতা বিশ্বজিৎকে দেখা যায় মমতাজ আলীর ‘জয় বাংলা’ ছবিতে। দুই বাংলার শিল্পীদের উভয় বাংলার রুপালি পর্দা আলো করাটা এখনো চলছে। অনেক আগেই কলকাতার ছবিতে থিতু হওয়া জয়া আহসান সম্প্রতি আবারও কলকাতার ছবিতে অভিনয়ে চুক্তিবদ্ধ হলেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ অবলম্বনে একই নামের চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন সুমন মুখোপাধ্যায়। সেই ছবিতে দেখা যাবে অভিনেত্রী জয়া আহসানকে। এদিকে সম্প্রতি ঢাকার বড় ও ছোট পর্দার আরেক অভিনেতা মোশাররফ করিম ফের কলকাতার ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। কলকাতার ছবি ব্রাত্য বসুর ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন ছবি প্রযোজনা করতে চলেছেন প্রযোজক জয় বি গঙ্গোপাধ্যায়। ছবির নাম ‘গু কাকু -দ্য পার্টি আঙ্কেল’। ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন মোশাররফ করিম। এর আগে তিনি অভিনয় করেছিলেন ব্রাত্য বসুর পরিচালনায় ‘ডিকশনারি’ ছবিতে। তিনি অভিনয় করবেন ‘গু কাকু

-দ্য পার্টি আঙ্কেল’ সিনেমায়ও। দুই বাংলার চলচ্চিত্রে শিল্পী আদান-প্রদানের সংস্কৃতি ধরে রেখে এপার বাংলার আনোয়ার হোসেন, নায়করাজ রাজ্জাক, ববিতা, শাবানা, রোজিনা, অঞ্জু ঘোষ, নূতন, চম্পা, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ফেরদৌস, শাকিব খান, দিলরুবা ইয়াসমিন রুহি, নিপুণ, মিশা সওদাগর, জলি, নুসরাত ফারিয়া, সোহানা সাবা, আরিফিন শুভ, আহমেদ রুবেল, মাহিয়া মাহি, ববি,  আমান, রোশন, অপি করিম, চঞ্চল চৌধুরীসহ অনেকেই কলকাতার ছবিতে কাজ করেছেন। তেমনি বাংলাদেশের ছবিতেও ওপার বাংলার প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, শতাব্দী রায়, পরমব্রত, জিৎ, পার্ণো মিত্র, দেবশ্রী, জয়া বচ্চন, ভিক্টর ব্যানার্জি, রঞ্জিত মল্লিক, দেবসহ অনেকেই অভিনয় করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাই ছবির বেশ কয়েকজন অভিনয় শিল্পী ওপার বাংলায় কাজ করছেন। এই তালিকায় রয়েছেন জয়া আহসান, মিথিলা ও বাঁধনের মতো শিল্পীরা। কলকাতার পরিচালক ও অভিনেতা অরিন্দম শীলের হাত ধরে ২০১৩ সালে কলকাতার ‘আবর্ত’ সিনেমায় অভিষিক্ত হন জয়া আহসান। এরপর একে একে জয়া অভিনয় দিয়ে ওপার বাংলার দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির দাবি, জয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের মিথিলা ও বাঁধনেরও চাহিদা বেড়েছে ওপার বাংলার সিনেমা-সিরিজে। এ ছাড়া নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েই কলকাতায় পা রেখেছিলেন নুসরাত ফারিয়া, মাহিয়া মাহিসহ অনেকেই। দুই বাংলার শিল্পী আদান-প্রদানের ধারাবাহিকতায় নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে গত বছর ‘অন্তরাত্মা’ ছবিতে অভিনয় করে গেলেন ওপার বাংলার অভিনেত্রী দর্শনা। এরপরই পার্ণো মিত্র অভিনয় করছেন ফজলুল কবীর তুহিনের ‘বিলডাকিনী’তে মোশাররফ করিমের বিপরীতে। ‘প্রিয়া রে’ ছবিতে অভিনয় করতে গত বছর ঢাকায় আসেন ওপার বাংলার কৌশানী মুখোপাধ্যায়। যিনি এর আগেও ঢাকার ছবিতে কাজ করেছেন। এ ছাড়া অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দুই বাংলায় নিয়মিত অভিনয় করছেন। আর এখনো ঢাকাই ছবির তারকাদের কলকাতা মিশন চলছে এবং এর পরিমাণ বাড়ছে। চলচ্চিত্রকার কাজী হায়াৎ বলেন, বর্তমানে অন্য দেশে আমাদের দেশের শিল্পীদের অভিনয় করা নিয়ে কারণ খোঁজার প্রয়োজন নেই। শিল্পীরা হচ্ছেন স্বাধীন, তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো সীমানায় সীমিত করা যাবে না। এক দেশের শিল্পী অন্য দেশে কাজ করবেন এবং তাতে দেশ, শিল্পী এবং শিল্পের পরিচিতি বাড়বে। এটিকে অবশ্যই অ্যাপ্রিসিয়েট করা দরকার। চলচ্চিত্রকার সুচন্দা বলেন, আমাদের দেশের শিল্পীদের অন্য দেশ বিশেষ করে ভারতে কাজ করা নতুন কিছু নয়। দুই দেশের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের জন্য এটির দরকার আছে।