০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

কিশোর গ্যাং কালচার: এখনই রোধ করা না গেলে বিপদ বাড়বে

প্রতিনিধির নাম

দেশজুড়ে নগরকেন্দ্রিক কিশোর গ্যাং কালচার দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। মাদক নেশায় জড়িয়ে পড়া থেকে শুরু করে চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

এমনকি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য গ্যাংয়ের সঙ্গে তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে খুন-খারাবি থেকেও পিছপা হচ্ছে না কিশোর অপরাধীরা। উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদক নেশার টাকা জোগাতে ছোটখাটো অপরাধে জড়ানো কিশোর অপরাধীরা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়ে উঠছে ভয়ংকর অপরাধী, এলাকার ত্রাস।

আরও উদ্বেগের বিষয়, ভাড়াটে হিসাবে তারা এখন মানুষ হত্যার মতো অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে টপটেন পোশাক কারখানার এক কর্মচারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত একজন জানিয়েছে, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিহতের চাচাতো ভাই দুই লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের ভাড়া করেছিল।

শুধু এ ঘটনাই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় খাটছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। গ্যাং কালচারের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও পেশাদার সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতাকেও দায়ী করছে সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবস্থা এখন এমন জায়গায় চলে গেছে যে, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলন জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, পরবর্তী প্রজন্মকে অপরাধমুক্ত রাখতে হলে কিশোর অপরাধের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। তা না হলে দিন দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তারা আরও বলছেন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজ ও পরিবারের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কিশোর গ্যাং কালচার থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।

সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা। বলেছেন, কিশোররা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলেও বয়সের কারণে তাদের শাস্তির আওতায় আনা যায় না। তাদের পাঠানো হয় কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে। সেখানে গিয়ে সংশোধিত হওয়া দূরের কথা, তারা আরও ভয়ংকর হয়ে বেরিয়ে আসে। সাবেক আইজিপির এ কথা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে অবশ্যই। কিশোর সংশোধন কেন্দ্রগুলো কেন কিশোর অপরাধীদের অপরাধপ্রবণ চরিত্র পালটাতে পারছে না, সে বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে হবে।

বস্তুত, কিশোর গ্যাং কালচারের পেছনে নানা কারণ কাজ করছে। দেখা গেছে, গ্যাং সদস্যদের অধিকাংশই দরিদ্র ও স্কুল থেকে ঝরে পড়া ছাত্র। এসব কিশোর পরিবারসহ বিভিন্ন কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রথমে মাদকের নেশায় জড়ায়। পরে এরা সমবয়সি অন্য কিশোরদের সঙ্গে মিলে অন্য একটি জগৎ তৈরি করে। এরপর কয়েকজন মিলে তৈরি করে একটা গ্যাং। কিশোর বয়সের এসব অপরাধীর মধ্যে এক ধরনের হিরোইজমও কাজ করে থাকে।

কার্যকরণ যা-ই হোক, পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ছাড়া গ্যাং কালচার রোধ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই এগিয়ে আসতে হবে পিতামাতা তথা অভিভাবকদের। অভিভাবকদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিই তাদের সন্তানদের বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে পারে। সন্তান কী করে, কার সঙ্গে মেশে, কোথায় সময় কাটায়-এসব বিষয় পর্যাপ্ত মনিটর করতে পারলে তাতে সুফল পাওয়া যাবে অবশ্যই। এ ছাড়া কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূলবোধের শিক্ষা দেওয়াটাও জরুরি। তবে কিশোর অপরাধ দমনে সবচেয়ে বড় দায়িত্বটা পালন করতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই।

ট্যাগস :
আপডেট : ১১:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২
২৩৩ বার পড়া হয়েছে

কিশোর গ্যাং কালচার: এখনই রোধ করা না গেলে বিপদ বাড়বে

আপডেট : ১১:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২

দেশজুড়ে নগরকেন্দ্রিক কিশোর গ্যাং কালচার দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। মাদক নেশায় জড়িয়ে পড়া থেকে শুরু করে চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

এমনকি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য গ্যাংয়ের সঙ্গে তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে খুন-খারাবি থেকেও পিছপা হচ্ছে না কিশোর অপরাধীরা। উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদক নেশার টাকা জোগাতে ছোটখাটো অপরাধে জড়ানো কিশোর অপরাধীরা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়ে উঠছে ভয়ংকর অপরাধী, এলাকার ত্রাস।

আরও উদ্বেগের বিষয়, ভাড়াটে হিসাবে তারা এখন মানুষ হত্যার মতো অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে টপটেন পোশাক কারখানার এক কর্মচারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত একজন জানিয়েছে, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিহতের চাচাতো ভাই দুই লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের ভাড়া করেছিল।

শুধু এ ঘটনাই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় খাটছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। গ্যাং কালচারের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও পেশাদার সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতাকেও দায়ী করছে সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবস্থা এখন এমন জায়গায় চলে গেছে যে, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলন জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, পরবর্তী প্রজন্মকে অপরাধমুক্ত রাখতে হলে কিশোর অপরাধের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। তা না হলে দিন দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তারা আরও বলছেন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজ ও পরিবারের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কিশোর গ্যাং কালচার থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।

সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা। বলেছেন, কিশোররা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলেও বয়সের কারণে তাদের শাস্তির আওতায় আনা যায় না। তাদের পাঠানো হয় কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে। সেখানে গিয়ে সংশোধিত হওয়া দূরের কথা, তারা আরও ভয়ংকর হয়ে বেরিয়ে আসে। সাবেক আইজিপির এ কথা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে অবশ্যই। কিশোর সংশোধন কেন্দ্রগুলো কেন কিশোর অপরাধীদের অপরাধপ্রবণ চরিত্র পালটাতে পারছে না, সে বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে হবে।

বস্তুত, কিশোর গ্যাং কালচারের পেছনে নানা কারণ কাজ করছে। দেখা গেছে, গ্যাং সদস্যদের অধিকাংশই দরিদ্র ও স্কুল থেকে ঝরে পড়া ছাত্র। এসব কিশোর পরিবারসহ বিভিন্ন কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রথমে মাদকের নেশায় জড়ায়। পরে এরা সমবয়সি অন্য কিশোরদের সঙ্গে মিলে অন্য একটি জগৎ তৈরি করে। এরপর কয়েকজন মিলে তৈরি করে একটা গ্যাং। কিশোর বয়সের এসব অপরাধীর মধ্যে এক ধরনের হিরোইজমও কাজ করে থাকে।

কার্যকরণ যা-ই হোক, পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ছাড়া গ্যাং কালচার রোধ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই এগিয়ে আসতে হবে পিতামাতা তথা অভিভাবকদের। অভিভাবকদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিই তাদের সন্তানদের বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে পারে। সন্তান কী করে, কার সঙ্গে মেশে, কোথায় সময় কাটায়-এসব বিষয় পর্যাপ্ত মনিটর করতে পারলে তাতে সুফল পাওয়া যাবে অবশ্যই। এ ছাড়া কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূলবোধের শিক্ষা দেওয়াটাও জরুরি। তবে কিশোর অপরাধ দমনে সবচেয়ে বড় দায়িত্বটা পালন করতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই।