০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

গ্রামীণ সড়ক অভিমুখে এলজিইডি’র গেটবার!ডেকে আনছে বিপদ

প্রতিনিধির নাম

গ্রামীণ সড়ক অভিমুখে এলজিইডি’র গেটবার,শুক্রবার দিবাগত রাতে পুড়ে সর্বস্ব হারিয়েছে তিন পরিবার।চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রতিটি গ্রামীণ প্রধান সড়কের অভিমুখে গেটবার প্রতিনিয়ত ডেকে আনছে বিপদ। ভারী যানবাহন থেকে সড়ক রক্ষায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এসব গেটবার স্থাপনের পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের আগুন নির্বাপক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছে উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামীণ সড়ক অভিমুখে গেটবার স্থাপন করা হয়েছে। যার দরুন অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থলে যেতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বিপাকে পড়তে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে যেতে সময়ক্ষেপন হয় এবং এতে অগ্নিনির্বাপক এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সর্বশেষ গত শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মাইজগাঁও গ্রামের আব্দুল মুনাফ মিয়াজি বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তিনটি পরিবার সর্বশান্ত হয়ে গেছে। এসময় মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মীরা গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় নজর আলী ভূঁইয়া সড়কের অভিমুখে গেটবারের জন্য আটকে যায়। এসময় অন্য সড়ক হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ মিনিট বাড়তি সময় লাগে। এতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারেনি।

জানা গেছে, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে ডিম্যাক্স বড় ১টি ও ডিম্যাক্স বক্স ১টি অগ্নিনির্বাপন গাড়ি ও ১টি এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। অগ্নিনির্বাপন গাড়িগুলোর আকার বড় হওয়াতে গোলবারের ভেতর দিয়ে যেতে পারে না। উপজেরার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় প্রায় সময় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে মহাসড়ক থেকে দূরবর্তীতে গ্রামগুলোতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে দ্রæত সময়ে যাওয়া সম্ভব হয় না ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। তারা যাওয়ার আগেই আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বিগত দুই বছরে উপজেলাতে প্রায় শতাধিক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডে ২ কোটি টাকার বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারি জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে আমরা চেষ্টা করি দ্রæততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে। তবে উপজেলার অধিকাংশ সড়কের মুখে লোহার পাইপ দিয়ে গেটবার স্থাপনের কারণে বিকল্প পথে যেতে হয়। নতুবা গেটবার কেটে তারপর অগ্রসর হতে হয়। এতে সময়ক্ষেপন হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হয় না। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে স্থানীয় ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে একটি অগ্নিকান্ডের ঘটনায় যেতে গেটবারের কারণে ১৫ মিনিট সময় বেশী লেগেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন নগরীর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনগুলোতে সম্প্রতি মিনি পিকআপ সাইজের মিসুডিসি গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছে সরকারিভাবে। যেগুলো নগরীর ছোট ছোট রাস্তা দিয়ে দ্রæত ঘটনাস্থলে যেতে পারে। মিসুডিসি’র গাড়িগুলো যদি মিরসরাই ফায়ার স্টেশনে সংযোজন করা হয় তাহলে সড়কের প্রবেশ মুখে গোলবার থাকলেও সেটার নীচ দিয়ে অগ্নিনির্বাপন গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে যেতে সক্ষম হবে। এছাড়া গ্রামের ছোট সড়ক হয়েও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সহজ হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে মিরসরাই উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই আমরা এসব গেটবারে চাবি লক লাগিয়ে তা ফায়ার সার্ভিসের কাছে একটি সেট দিয়ে রাখবো। এতে বিষয়টি সহ হবে।’

অবশ্য এ বিষয়ে একই রকম বক্তব্য দিয়েছেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সড়ক রক্ষার্থে এসব গেটবার দেয়া হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি গেটবারের উপরের অংশ যাতে সহজে খোলা যায় সেখানে লক লাগানো হবে।’

ট্যাগস :
আপডেট : ০৩:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২
১৮৬ বার পড়া হয়েছে

গ্রামীণ সড়ক অভিমুখে এলজিইডি’র গেটবার!ডেকে আনছে বিপদ

আপডেট : ০৩:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২

গ্রামীণ সড়ক অভিমুখে এলজিইডি’র গেটবার,শুক্রবার দিবাগত রাতে পুড়ে সর্বস্ব হারিয়েছে তিন পরিবার।চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রতিটি গ্রামীণ প্রধান সড়কের অভিমুখে গেটবার প্রতিনিয়ত ডেকে আনছে বিপদ। ভারী যানবাহন থেকে সড়ক রক্ষায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এসব গেটবার স্থাপনের পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের আগুন নির্বাপক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছে উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামীণ সড়ক অভিমুখে গেটবার স্থাপন করা হয়েছে। যার দরুন অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থলে যেতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বিপাকে পড়তে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে যেতে সময়ক্ষেপন হয় এবং এতে অগ্নিনির্বাপক এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সর্বশেষ গত শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মাইজগাঁও গ্রামের আব্দুল মুনাফ মিয়াজি বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তিনটি পরিবার সর্বশান্ত হয়ে গেছে। এসময় মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মীরা গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় নজর আলী ভূঁইয়া সড়কের অভিমুখে গেটবারের জন্য আটকে যায়। এসময় অন্য সড়ক হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ মিনিট বাড়তি সময় লাগে। এতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারেনি।

জানা গেছে, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে ডিম্যাক্স বড় ১টি ও ডিম্যাক্স বক্স ১টি অগ্নিনির্বাপন গাড়ি ও ১টি এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। অগ্নিনির্বাপন গাড়িগুলোর আকার বড় হওয়াতে গোলবারের ভেতর দিয়ে যেতে পারে না। উপজেরার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় প্রায় সময় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে মহাসড়ক থেকে দূরবর্তীতে গ্রামগুলোতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে দ্রæত সময়ে যাওয়া সম্ভব হয় না ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। তারা যাওয়ার আগেই আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বিগত দুই বছরে উপজেলাতে প্রায় শতাধিক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডে ২ কোটি টাকার বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারি জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে আমরা চেষ্টা করি দ্রæততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে। তবে উপজেলার অধিকাংশ সড়কের মুখে লোহার পাইপ দিয়ে গেটবার স্থাপনের কারণে বিকল্প পথে যেতে হয়। নতুবা গেটবার কেটে তারপর অগ্রসর হতে হয়। এতে সময়ক্ষেপন হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হয় না। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে স্থানীয় ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে একটি অগ্নিকান্ডের ঘটনায় যেতে গেটবারের কারণে ১৫ মিনিট সময় বেশী লেগেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন নগরীর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনগুলোতে সম্প্রতি মিনি পিকআপ সাইজের মিসুডিসি গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছে সরকারিভাবে। যেগুলো নগরীর ছোট ছোট রাস্তা দিয়ে দ্রæত ঘটনাস্থলে যেতে পারে। মিসুডিসি’র গাড়িগুলো যদি মিরসরাই ফায়ার স্টেশনে সংযোজন করা হয় তাহলে সড়কের প্রবেশ মুখে গোলবার থাকলেও সেটার নীচ দিয়ে অগ্নিনির্বাপন গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে যেতে সক্ষম হবে। এছাড়া গ্রামের ছোট সড়ক হয়েও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সহজ হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে মিরসরাই উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই আমরা এসব গেটবারে চাবি লক লাগিয়ে তা ফায়ার সার্ভিসের কাছে একটি সেট দিয়ে রাখবো। এতে বিষয়টি সহ হবে।’

অবশ্য এ বিষয়ে একই রকম বক্তব্য দিয়েছেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সড়ক রক্ষার্থে এসব গেটবার দেয়া হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি গেটবারের উপরের অংশ যাতে সহজে খোলা যায় সেখানে লক লাগানো হবে।’