০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

চট্টগ্রামে মাকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে কিশোরী অপহরণ, পরে উদ্ধার

আবদুল মতিন চৌধুরী (রিপন) বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম মহানগরে প্রকাশ্যে ফিল্মি স্টাইলে মাকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া এক কিশোরীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি একজনকে গ্রেফতার করে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর চান্দগাঁও থানার ইস্পাহানি জেটি রোড এলাকা থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায় চার তরুণ। গ্রেফতার মো. শাকিলের (২৩) বাসা নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, শাকিল পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। চান্দগাঁওয়ে একটি গাড়ির গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরী চান্দগাঁওয়ের এ এল খান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিশোরী এবং শাকিলের বাসা পাশাপাশি।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর বলেন, শাকিল তার আরও ৪-৫ জন বন্ধু নিয়ে অলিগলিতে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয়। বখাটে প্রকৃতির, মাদক সেবনও করে। মেয়েটিকে সে পছন্দ করত। কিন্তু কখনো মেয়েটিকে কিছু বলেনি। কয়েকদিন আগে সে বিষয়টি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে। তখন বন্ধুরাই তাকে পরামর্শ দেয়, মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যাবে এবং ২-৩ দিন একসঙ্গে থাকার পর দু’জনকে বিয়ে দেবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই মঙ্গলবার বিকেলে চান্দগাঁও ইস্পাহানি জেটি রোডে ছাফা মোতালেব ক্লিনিকের সামনে অবস্থান নেয় শাকিল ও তার তিন বন্ধু। একটি সিএনজি অটোরিকশাও তারা দাঁড় করিয়ে রাখে। মেয়েটি প্রাইভেট কোচিংয়ে ক্লাস শেষে মায়ের সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। ছাফা মোতালেব ক্লিনিকের অদূরে মাকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে শাকিল ও তার বন্ধুরা মেয়েটিকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে দ্রুত চলে যায়।
ওসি জাহিদুল কবীর আরও জানান, ঘটনা জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের কুমিরার পাথরপাড়া গ্রামে এক বাড়িতে অবস্থান শনাক্ত করে রাতে অভিযান চালানো হয়। সেই বাড়ি থেকে কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়। তবে অপহরণে জড়িত শাকিলের তিন বন্ধু এবং সিএনজি অটোরিকশা চালককে এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু অপহরণের ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
শাকিল মেয়েটির কোনো ক্ষতি করতে পারেনি জানিয়ে ওসি বলেন, সীতাকুণ্ডে শাকিল তার দূরসম্পর্কের এক খালাতো বোনের বাসায় মেয়েটিকে রেখেছিল। তাদের বিশেষ কিছু জানায়নি। মেয়েটি শুরু থেকেই কান্নাকাটি করছিল। শাকিল ও তার বন্ধুরা হুমকি দিয়েছিল, উল্টাপাল্টা কিছু করলে তাকে খুন করবে। গতকাল বুধবার সকাল ১১-১২টার দিকে তাকে কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করার কথা ছিল। তার আগেই আমরা মেয়েটিকে উদ্ধার করেছি।

ট্যাগস :
আপডেট : ০৬:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৩
১৬০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে মাকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে কিশোরী অপহরণ, পরে উদ্ধার

আপডেট : ০৬:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৩

চট্টগ্রাম মহানগরে প্রকাশ্যে ফিল্মি স্টাইলে মাকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া এক কিশোরীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি একজনকে গ্রেফতার করে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর চান্দগাঁও থানার ইস্পাহানি জেটি রোড এলাকা থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায় চার তরুণ। গ্রেফতার মো. শাকিলের (২৩) বাসা নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, শাকিল পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। চান্দগাঁওয়ে একটি গাড়ির গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরী চান্দগাঁওয়ের এ এল খান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিশোরী এবং শাকিলের বাসা পাশাপাশি।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর বলেন, শাকিল তার আরও ৪-৫ জন বন্ধু নিয়ে অলিগলিতে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয়। বখাটে প্রকৃতির, মাদক সেবনও করে। মেয়েটিকে সে পছন্দ করত। কিন্তু কখনো মেয়েটিকে কিছু বলেনি। কয়েকদিন আগে সে বিষয়টি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে। তখন বন্ধুরাই তাকে পরামর্শ দেয়, মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যাবে এবং ২-৩ দিন একসঙ্গে থাকার পর দু’জনকে বিয়ে দেবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই মঙ্গলবার বিকেলে চান্দগাঁও ইস্পাহানি জেটি রোডে ছাফা মোতালেব ক্লিনিকের সামনে অবস্থান নেয় শাকিল ও তার তিন বন্ধু। একটি সিএনজি অটোরিকশাও তারা দাঁড় করিয়ে রাখে। মেয়েটি প্রাইভেট কোচিংয়ে ক্লাস শেষে মায়ের সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। ছাফা মোতালেব ক্লিনিকের অদূরে মাকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে শাকিল ও তার বন্ধুরা মেয়েটিকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে দ্রুত চলে যায়।
ওসি জাহিদুল কবীর আরও জানান, ঘটনা জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের কুমিরার পাথরপাড়া গ্রামে এক বাড়িতে অবস্থান শনাক্ত করে রাতে অভিযান চালানো হয়। সেই বাড়ি থেকে কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়। তবে অপহরণে জড়িত শাকিলের তিন বন্ধু এবং সিএনজি অটোরিকশা চালককে এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু অপহরণের ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
শাকিল মেয়েটির কোনো ক্ষতি করতে পারেনি জানিয়ে ওসি বলেন, সীতাকুণ্ডে শাকিল তার দূরসম্পর্কের এক খালাতো বোনের বাসায় মেয়েটিকে রেখেছিল। তাদের বিশেষ কিছু জানায়নি। মেয়েটি শুরু থেকেই কান্নাকাটি করছিল। শাকিল ও তার বন্ধুরা হুমকি দিয়েছিল, উল্টাপাল্টা কিছু করলে তাকে খুন করবে। গতকাল বুধবার সকাল ১১-১২টার দিকে তাকে কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করার কথা ছিল। তার আগেই আমরা মেয়েটিকে উদ্ধার করেছি।