১২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

চট্টগ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

রিপন চৌধুরী

 

চট্টগ্রামে রাউজানে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার স্বামী মো. এনামকে (৩০) র‌্যাব-৭ গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা থেকে। মো. এনাম, একই থানার পূর্বটিলা জানিপাথর এলাকার মৃত জাবেদ আলীর ছেলে।
র‌্যাব জানায়, নিহত ভিকটিম নূর জাহান মনি (২১) এর সঙ্গে ৪ বছর আগে এনাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্রে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে সামাজিকভাবে বিবাহ হয় এবং তাদের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মো. নূরুল আবছার জানান, স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মামলা দায়ের হওয়ার পর স্বামী এনাম পলাতক ছিলেন। গোপন খবরের ভিত্তিতে সোমবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এনাম জানিয়েছেন, ওমানে থাকাবস্থায় ১০ থেকে ১৫ জন মেয়ের সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বিবাহের পর থেকে স্ত্রী’র মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। তাই ওমান থাকাবস্থায় এনাম দ্বিতীয় বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে তার পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে এনাম তার স্ত্রীকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
র‌্যাব আরো জানায়, বিবাহের কিছুদিন পরে নূর জাহান সামান্য অসুস্থ হওয়ায় এনাম বিভিন্ন অজুহাতে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এনাম ওমান থেকে দেশে আসলে পরদিন ভিকটিম তার মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসলে পুনরায় নির্যাতন করতে থাকে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর এনাম ভিকটিমকে শারীরিক নির্যাতন করলে অসুস্থ অবস্থায় তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসে। গত ১ অক্টোবর দুপুরে দেবর মো. ইকরাম ভিকটিমের বাবাকে ফোন করে জানায় যে, তার মেয়ে মারা গেছে। সে যেন তাড়াতাড়ি তাদের বাড়িতে আসে। পরে ভিকটিমের বাবা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারে, গুদাম ঘরের ভিতরে ভিকটিম এবং তার স্বামী মো. এনামের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং এ সময় ভিকটিমের আত্মচিৎকার শুনতে পায়। কিছুক্ষণ পর এনামকে একটি বস্তা কাঁধে নিয়ে গুদাম ঘর থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পর ভিকটিমের শ্বাশুড়ি ভিকটিমের ঘরে গিয়ে ভিকটিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তিনি আশেপাশের লোকজনকে জানালে প্রতিবেশীরা বুঝতে পারে যে, মনি মারা গেছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে রাউজান থানায় স্বামী এনামকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ট্যাগস :
আপডেট : ০৭:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
১৪১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

আপডেট : ০৭:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

 

চট্টগ্রামে রাউজানে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার স্বামী মো. এনামকে (৩০) র‌্যাব-৭ গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা থেকে। মো. এনাম, একই থানার পূর্বটিলা জানিপাথর এলাকার মৃত জাবেদ আলীর ছেলে।
র‌্যাব জানায়, নিহত ভিকটিম নূর জাহান মনি (২১) এর সঙ্গে ৪ বছর আগে এনাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্রে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে সামাজিকভাবে বিবাহ হয় এবং তাদের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মো. নূরুল আবছার জানান, স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মামলা দায়ের হওয়ার পর স্বামী এনাম পলাতক ছিলেন। গোপন খবরের ভিত্তিতে সোমবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এনাম জানিয়েছেন, ওমানে থাকাবস্থায় ১০ থেকে ১৫ জন মেয়ের সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বিবাহের পর থেকে স্ত্রী’র মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। তাই ওমান থাকাবস্থায় এনাম দ্বিতীয় বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে তার পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে এনাম তার স্ত্রীকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
র‌্যাব আরো জানায়, বিবাহের কিছুদিন পরে নূর জাহান সামান্য অসুস্থ হওয়ায় এনাম বিভিন্ন অজুহাতে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এনাম ওমান থেকে দেশে আসলে পরদিন ভিকটিম তার মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসলে পুনরায় নির্যাতন করতে থাকে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর এনাম ভিকটিমকে শারীরিক নির্যাতন করলে অসুস্থ অবস্থায় তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসে। গত ১ অক্টোবর দুপুরে দেবর মো. ইকরাম ভিকটিমের বাবাকে ফোন করে জানায় যে, তার মেয়ে মারা গেছে। সে যেন তাড়াতাড়ি তাদের বাড়িতে আসে। পরে ভিকটিমের বাবা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারে, গুদাম ঘরের ভিতরে ভিকটিম এবং তার স্বামী মো. এনামের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং এ সময় ভিকটিমের আত্মচিৎকার শুনতে পায়। কিছুক্ষণ পর এনামকে একটি বস্তা কাঁধে নিয়ে গুদাম ঘর থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পর ভিকটিমের শ্বাশুড়ি ভিকটিমের ঘরে গিয়ে ভিকটিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তিনি আশেপাশের লোকজনকে জানালে প্রতিবেশীরা বুঝতে পারে যে, মনি মারা গেছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে রাউজান থানায় স্বামী এনামকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।