১২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

তাহিরপুর হাওরাঞ্চলে অবাধে খোলা ল্যাট্রিন,রয়েছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি

প্রতিনিধির নাম
বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন জনপথ হয়ে উঠেছে অপার সম্ভাবনাময় স্থান।শিক্ষা সংস্কৃতি যোগাযোগ ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হলেও,এ উপজেলার অন্যতম পর্যটন সম্ভাবনাময় জনপথ অপরিমেয় সৌন্দর্যের লীলাভূমি পরিবেশ বান্ধব পর্যটন এলাকা টাঙ্গুয়ার হাওর ওয়াচ-টাওয়ার সংলগ্ন গ্রামগুলোর স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নাজুক। ওই গ্রামগুলোর স্যানিটেশন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রের দিকে তাকালে চোখ কপালে উঠার উপক্রম।
উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের টাঙ্গুয়ার হাওর ওয়াচ-টাওয়ার সংলগ্ন গোলাবাড়ি, জয়পুর, জয়পুর নতুনহাটি, ইসলামপুর,ছিলানী তাহিরপুরসহ কয়েকটি গ্রাম ও পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা যায়,সেখানে অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে খোলা ল্যাট্রিন।আর এসব ল্যাট্রিন গুলো গ্রামের নদী বা হাওরের উন্মুক্ত স্থানেই রয়েছে।যাহার মল সরাসরি হাওর কিংবা নদীর পানিতে মিশ্রিত হচ্ছে।সেই নদী কিংবা হাওরের পানি গোসল করা,রান্নাকরাসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার কতছে ওই এলাকার অসচেতন জনগোষ্ঠী।মানুষের মলমিশ্রিত পানি ব্যবহার করে ওই এলাকার মানুষ হরহামেশাই ডায়রিয়া,আমাশয়,টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও এসব খোলা ল্যাট্রিনের মল পানিতে মিশ্রিত হয়ে হাওর ও নদীর পরিবেশ বিপর্যয়ে পড়ছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে আসা পর্যটকগন ওই পানিতেই ঘা ভিজিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন।
জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদ জানান টাকার অভাবে স্যানিটারি ল্যাট্রিন বসাতে পারছেন না।তাদেরও ইচ্ছা সবার বাড়িতে একটি করে স্যানিটারি ল্যাট্রিন থাকুক কিন্তু টাকা না থাকায় স্যানিটারি ল্যাট্রিন বসাতে পারছেন না তারা।খোলা ল্যাট্রিনে অসুখ বিসুখের ও পরিবেশ দূষিত হয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে।তিনি জানান সামর্থ্য থাকলে উনারাও নিজ উদ্যোগে ল্যাট্রিন বসাতেন।এখন মানুষ বিভিন্ন কথা বল্লেও তারা শুনেন না,সামার্থ্য না থাকায় মানুষের কথায় তাদের লাজলজ্জা হয় না।উনি জানান উনার গ্রামে ৭৩ পরিবার এর মধ্যে দুই-তিনটা স্যানিটারি ল্যাট্রিন আছে বাকি সব খোলা।
পার্শ্ববর্তী গোলাবাড়ি গ্রামের খসরুল আলম জানান আমাদের গ্রামে ৫০টি পরিবার রয়েছে দুইটা স্যানিটারি ল্যাট্রিন ছাড়া বাকি সব খোলা ল্যাট্রিন।
টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেলাল আহমদ জানান টাঙ্গুয়ার হাওর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা,এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ আসেন এই এলাকার স্যানিটেশন অবস্থা এমন মানতে পারিনি।সরকারিভাবে এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থসম্মত ল্যাট্রিনের ব্যবস্থ করব দিলে তারা উপকৃত হতো এবং চারপাশের পরিবেশ ও দূষনমুক্ত থাকতো।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন কয়েক মাসের মধ্যে হয়তো আমাদের হাতে নতুন একটি প্রজেক্ট আসবে,এখানকার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সমন্বয়ে ওই গ্রামগুলোতে স্বাস্থসম্মত ল্যাট্রিন দেওয়া হবে।উনি জানান এখানকার বাসিন্দারা নিজেদের কেউ সচেতন হওয়া দরকার।এ ব্যাপারে উনাদের সচেতন করা হবে।
ট্যাগস :
আপডেট : ০৭:২৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩
৭৬ বার পড়া হয়েছে

তাহিরপুর হাওরাঞ্চলে অবাধে খোলা ল্যাট্রিন,রয়েছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি

আপডেট : ০৭:২৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩
বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন জনপথ হয়ে উঠেছে অপার সম্ভাবনাময় স্থান।শিক্ষা সংস্কৃতি যোগাযোগ ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হলেও,এ উপজেলার অন্যতম পর্যটন সম্ভাবনাময় জনপথ অপরিমেয় সৌন্দর্যের লীলাভূমি পরিবেশ বান্ধব পর্যটন এলাকা টাঙ্গুয়ার হাওর ওয়াচ-টাওয়ার সংলগ্ন গ্রামগুলোর স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নাজুক। ওই গ্রামগুলোর স্যানিটেশন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রের দিকে তাকালে চোখ কপালে উঠার উপক্রম।
উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের টাঙ্গুয়ার হাওর ওয়াচ-টাওয়ার সংলগ্ন গোলাবাড়ি, জয়পুর, জয়পুর নতুনহাটি, ইসলামপুর,ছিলানী তাহিরপুরসহ কয়েকটি গ্রাম ও পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা যায়,সেখানে অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে খোলা ল্যাট্রিন।আর এসব ল্যাট্রিন গুলো গ্রামের নদী বা হাওরের উন্মুক্ত স্থানেই রয়েছে।যাহার মল সরাসরি হাওর কিংবা নদীর পানিতে মিশ্রিত হচ্ছে।সেই নদী কিংবা হাওরের পানি গোসল করা,রান্নাকরাসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার কতছে ওই এলাকার অসচেতন জনগোষ্ঠী।মানুষের মলমিশ্রিত পানি ব্যবহার করে ওই এলাকার মানুষ হরহামেশাই ডায়রিয়া,আমাশয়,টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও এসব খোলা ল্যাট্রিনের মল পানিতে মিশ্রিত হয়ে হাওর ও নদীর পরিবেশ বিপর্যয়ে পড়ছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে আসা পর্যটকগন ওই পানিতেই ঘা ভিজিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন।
জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদ জানান টাকার অভাবে স্যানিটারি ল্যাট্রিন বসাতে পারছেন না।তাদেরও ইচ্ছা সবার বাড়িতে একটি করে স্যানিটারি ল্যাট্রিন থাকুক কিন্তু টাকা না থাকায় স্যানিটারি ল্যাট্রিন বসাতে পারছেন না তারা।খোলা ল্যাট্রিনে অসুখ বিসুখের ও পরিবেশ দূষিত হয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে।তিনি জানান সামর্থ্য থাকলে উনারাও নিজ উদ্যোগে ল্যাট্রিন বসাতেন।এখন মানুষ বিভিন্ন কথা বল্লেও তারা শুনেন না,সামার্থ্য না থাকায় মানুষের কথায় তাদের লাজলজ্জা হয় না।উনি জানান উনার গ্রামে ৭৩ পরিবার এর মধ্যে দুই-তিনটা স্যানিটারি ল্যাট্রিন আছে বাকি সব খোলা।
পার্শ্ববর্তী গোলাবাড়ি গ্রামের খসরুল আলম জানান আমাদের গ্রামে ৫০টি পরিবার রয়েছে দুইটা স্যানিটারি ল্যাট্রিন ছাড়া বাকি সব খোলা ল্যাট্রিন।
টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেলাল আহমদ জানান টাঙ্গুয়ার হাওর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা,এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ আসেন এই এলাকার স্যানিটেশন অবস্থা এমন মানতে পারিনি।সরকারিভাবে এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থসম্মত ল্যাট্রিনের ব্যবস্থ করব দিলে তারা উপকৃত হতো এবং চারপাশের পরিবেশ ও দূষনমুক্ত থাকতো।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন কয়েক মাসের মধ্যে হয়তো আমাদের হাতে নতুন একটি প্রজেক্ট আসবে,এখানকার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সমন্বয়ে ওই গ্রামগুলোতে স্বাস্থসম্মত ল্যাট্রিন দেওয়া হবে।উনি জানান এখানকার বাসিন্দারা নিজেদের কেউ সচেতন হওয়া দরকার।এ ব্যাপারে উনাদের সচেতন করা হবে।