১১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ঘর পুড়ে ছাই : ৫ লাখ টাকার ক্ষতি

আহসান হাবিব, কুষ্টিয়া
চায়ের দোকানি ইবাদাত নগ্ন রাজনীতির শিকারে আসামী হয়ে জেল হাজতে। স্ত্রী ফারিয়া খাতুন তাদের ২ শিশু নিয়ে ঘুমিয়ে আছে ঘরে। হঠাৎ আগুনের জলন্ত তাপ আর কুকুরে ডাক শুনে ঘুম ভেঙে দেখতে পাই ঘরে লেগেছে আগুন। প্রান বাঁচাতে সন্তানদের নিয়ে দৌড় দিয়ে বাহিরে এসে দেখতে পাই পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা । মুহুর্তের মধ্যে ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে যায় এমনটিই বলছিলেন ইবাদতের স্ত্রী। মঙ্গলবার (পহেলা নভেম্বর) রাত ২টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের দূর্বাচারা এলাকার মোলাম মোল্লার ছেলে ইবাদতের বাড়ি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ইবাদত একজন চায়ের দোকানদার । আগুন লেগে দুইটি বসত বাড়ি ও একটি ঘরের আংশিক সহ খাট,ড্রেসিং টেবিল,আলমারি,ফ্যান,রান্নাঘর, নগদ টাকা সহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন মিরপুর ও ইবি এলাকার সার্কেল এএসপি আব্দুল খালেক ও ইবি থানার ওসি আন্নুর জায়েদ। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগানো দুইটি প্লাস্টিকের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ইবাদতের ভাই বলেন, রাত দুইটায় সময় ১৫-১৮ জন দুর্বৃত্ত আমার বাড়িতে এসে গোয়াল ঘরের যে পাটকাঠি ও রান্না করার যে খড়ি গুলা ওখানে দুই বোতল পেট্রোল একবারে পুরা ঘর ছিটিয়ে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়ে দৌড় দেয়। তখন আমার ছোট চাচি ম্যাক্সিমাম লোকদের সনাক্ত করতে পারে। যেহেতু জোসনা রাত। তারপরে গেট খুলে আমি তাদের পিচ পিচ ধাওয়া করি। ধাওয়া করলে একজন লোক পড়ে যায়। পড়ে গেলে ধরতে যেয়ে পিছন ফিরে দেখি আগুন অনেক হাই হয়ে গেছে। যারা আগুন দিছে আমি সবাইকে চিনতে পেরেছি। আমি থানা পুলিশকেও তালিকা দিয়েছি। এরা মূলত লোক হচ্ছে সানোয়ারা মোল্লার। সানোয়ার মোল্লা থাকে হচ্ছে কুষ্টিয়া শহরে। আর এক্স চেয়ারম্যানের ভাই লাভলু বিশ্বাস এই সবকিছু নাশকতার মদদ দাতা ও ইন্ধন দাতা। তাদের মদদেই এই সমস্ত কাজ হয়।আমরা দিনমজুর আমার মুদিখানার দোকান আছে আর আমার বাবার চায়ের দোকান আছে। আমরা কোন প্রকার রাজনীতির সাথে জড়িত না। আমরা একেবারে নিরীহ নিরপেক্ষ মানুষ। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসায় দিয়েছিলো আমি জেলখানায় থাকা অবস্থায় আমাকে বলেছিল যে আরো ১০০০ মিথ্যা মামলা যাবে এবং গতকালকে আমার বাড়ির লোকজনের কাছে এসে হুমকি দিয়ে গেছে। আজকের মধ্যে যদি সারেন্ডার না করে তাহলে ওর ডেড বডিও পাবানা।তখন বাড়ির লোক কান্নাকাটি করে আমাকে এখান থেকে সরে যেতে বলে। তখন আমি বলছি সরে যাব এটা তো বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ এটা কারুর বাবার দেশ না। আমি আমার বাড়িতে থাকব একজন এসে আমাকে হয়রানি করবে বারবার এটা তো আমি মেনে নেব না। তখন আমি বাড়ির সবার সাথে পরামর্শ করে বাড়িতেই থাকি তখন ওরা আগুন লাগানোর পরে ওইখান থেকে যায় আর তালি দিতে দিতে মিছিল করতে করতে যায়। সাহেব আলী, সাহেব আলী ছেলে, রাহাত আলী, রাহাত আলীর দুই ছেলে,রাকিব, মুন্নাফ,জামাত মাস্টার,। জামাত মাস্টার আমাকে জেলখানা থেকেই হুমকি দিয়েছিলো। তারা জেলখানা থেকে ছাড়া সময় বলেছিল তাদের গাড়িতে যেতে। আমি নিরপেক্ষ মানুষ কেন ওদের গাড়িতে যাব। তাই তারা আমার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি থানায় মামলা করবো। সঠিক বিচারের দাবি চাই আমি। প্রয়োজনে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো।
এ বিষয়ে উজানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, আমি যতটুকু জানি এইটা কারেন্টের সট সার্কিটের কারনে হয়েছে। এটা  একজন আমাকে জানিয়েছে। তাছাড়া আমিতো কুষ্টিয়া শহরে ছিলাম।
কুষ্টিয়া ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আন্নুর জায়েদ বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তধীন রয়েছে। এখনো পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ট্যাগস :
আপডেট : ০৮:২৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ নভেম্বর ২০২৩
৯৪ বার পড়া হয়েছে

দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ঘর পুড়ে ছাই : ৫ লাখ টাকার ক্ষতি

আপডেট : ০৮:২৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ নভেম্বর ২০২৩
চায়ের দোকানি ইবাদাত নগ্ন রাজনীতির শিকারে আসামী হয়ে জেল হাজতে। স্ত্রী ফারিয়া খাতুন তাদের ২ শিশু নিয়ে ঘুমিয়ে আছে ঘরে। হঠাৎ আগুনের জলন্ত তাপ আর কুকুরে ডাক শুনে ঘুম ভেঙে দেখতে পাই ঘরে লেগেছে আগুন। প্রান বাঁচাতে সন্তানদের নিয়ে দৌড় দিয়ে বাহিরে এসে দেখতে পাই পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা । মুহুর্তের মধ্যে ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে যায় এমনটিই বলছিলেন ইবাদতের স্ত্রী। মঙ্গলবার (পহেলা নভেম্বর) রাত ২টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের দূর্বাচারা এলাকার মোলাম মোল্লার ছেলে ইবাদতের বাড়ি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ইবাদত একজন চায়ের দোকানদার । আগুন লেগে দুইটি বসত বাড়ি ও একটি ঘরের আংশিক সহ খাট,ড্রেসিং টেবিল,আলমারি,ফ্যান,রান্নাঘর, নগদ টাকা সহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন মিরপুর ও ইবি এলাকার সার্কেল এএসপি আব্দুল খালেক ও ইবি থানার ওসি আন্নুর জায়েদ। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগানো দুইটি প্লাস্টিকের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ইবাদতের ভাই বলেন, রাত দুইটায় সময় ১৫-১৮ জন দুর্বৃত্ত আমার বাড়িতে এসে গোয়াল ঘরের যে পাটকাঠি ও রান্না করার যে খড়ি গুলা ওখানে দুই বোতল পেট্রোল একবারে পুরা ঘর ছিটিয়ে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়ে দৌড় দেয়। তখন আমার ছোট চাচি ম্যাক্সিমাম লোকদের সনাক্ত করতে পারে। যেহেতু জোসনা রাত। তারপরে গেট খুলে আমি তাদের পিচ পিচ ধাওয়া করি। ধাওয়া করলে একজন লোক পড়ে যায়। পড়ে গেলে ধরতে যেয়ে পিছন ফিরে দেখি আগুন অনেক হাই হয়ে গেছে। যারা আগুন দিছে আমি সবাইকে চিনতে পেরেছি। আমি থানা পুলিশকেও তালিকা দিয়েছি। এরা মূলত লোক হচ্ছে সানোয়ারা মোল্লার। সানোয়ার মোল্লা থাকে হচ্ছে কুষ্টিয়া শহরে। আর এক্স চেয়ারম্যানের ভাই লাভলু বিশ্বাস এই সবকিছু নাশকতার মদদ দাতা ও ইন্ধন দাতা। তাদের মদদেই এই সমস্ত কাজ হয়।আমরা দিনমজুর আমার মুদিখানার দোকান আছে আর আমার বাবার চায়ের দোকান আছে। আমরা কোন প্রকার রাজনীতির সাথে জড়িত না। আমরা একেবারে নিরীহ নিরপেক্ষ মানুষ। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসায় দিয়েছিলো আমি জেলখানায় থাকা অবস্থায় আমাকে বলেছিল যে আরো ১০০০ মিথ্যা মামলা যাবে এবং গতকালকে আমার বাড়ির লোকজনের কাছে এসে হুমকি দিয়ে গেছে। আজকের মধ্যে যদি সারেন্ডার না করে তাহলে ওর ডেড বডিও পাবানা।তখন বাড়ির লোক কান্নাকাটি করে আমাকে এখান থেকে সরে যেতে বলে। তখন আমি বলছি সরে যাব এটা তো বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ এটা কারুর বাবার দেশ না। আমি আমার বাড়িতে থাকব একজন এসে আমাকে হয়রানি করবে বারবার এটা তো আমি মেনে নেব না। তখন আমি বাড়ির সবার সাথে পরামর্শ করে বাড়িতেই থাকি তখন ওরা আগুন লাগানোর পরে ওইখান থেকে যায় আর তালি দিতে দিতে মিছিল করতে করতে যায়। সাহেব আলী, সাহেব আলী ছেলে, রাহাত আলী, রাহাত আলীর দুই ছেলে,রাকিব, মুন্নাফ,জামাত মাস্টার,। জামাত মাস্টার আমাকে জেলখানা থেকেই হুমকি দিয়েছিলো। তারা জেলখানা থেকে ছাড়া সময় বলেছিল তাদের গাড়িতে যেতে। আমি নিরপেক্ষ মানুষ কেন ওদের গাড়িতে যাব। তাই তারা আমার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি থানায় মামলা করবো। সঠিক বিচারের দাবি চাই আমি। প্রয়োজনে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো।
এ বিষয়ে উজানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, আমি যতটুকু জানি এইটা কারেন্টের সট সার্কিটের কারনে হয়েছে। এটা  একজন আমাকে জানিয়েছে। তাছাড়া আমিতো কুষ্টিয়া শহরে ছিলাম।
কুষ্টিয়া ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আন্নুর জায়েদ বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তধীন রয়েছে। এখনো পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।