১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

দুর্ভোগ যেন ঢাকা-১৮ আসনবাসীর নিত্যসঙ্গী -দয়াল কুমার বড়ুয়া

চপল সরদার রিপোর্টার উত্তরা

ঢাকা-১৮ আসন রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হলেও আসনটি অবহেলিত। বরাবরই এখানে সুযোগ্য ও সাংগঠনিক কর্মদক্ষতাসম্পন্ন প্রার্থীর অভাব। আর এ কারণেই অনুন্নত এলাকা হলো এটি। দুর্নীতি এই জনপদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করে ফেলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো নয়। পাশাপাশি এখানে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও আলোকিত নেতৃত্বের প্রয়োজন। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ঢাকার আশপাশের যে ৮টি ইউনিয়নকে নতুন যে ১৮টি ওয়ার্ডের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এ এলাকাগুলোর জন্য বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ, পয়োনিষ্কাশন, খেলার মাঠ, পার্ক, জলাধার সংরক্ষণ, সড়ক ও অলিতে গলিতে সড়কবাতি স্থাপনসহ সড়কপথের অবকাঠামো এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও নানা কারণে অনেকগুলো প্রকল্প এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ঢাকা-১৮ আসনে বেশ কয়েকটি সমস্যা রয়েছে। অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। গ্যাসের সমস্যা প্রকট। সুপেয় পানির সমস্যা, ওয়াসার সাপ্লাই পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ। চিকন সরু রাস্তা। ভাঙাচোরা অধিকাংশ সড়ক। মশার ব্যাপক উপদ্রব। কোন সড়কেই পথচারীদের হাটার পুটপাত নেই। সর্বত্র মাদকের ছড়াছড়ি। ময়লা রাখার কোনো ডাম্পিং নেই। এতে আশপাশে ডোবানালা বা খালি জায়গায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ থানা ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫, ৫২, ৫নং ওয়ার্ডে খেলার মাঠ, পার্ক, সরকারি হাসপাতাল নেই। ভ্যাটারি চালিত অটো রিকসার জন্য সর্বত্র যানজট লেগে থাকে। ম্যানহোলের বর্জ রাস্তায় জমাবদ্ধ পানির সাথে মিশে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি। কিশোরখাং এর ব্যাপক উৎপাত। সিটি করপোরেশনে নাগরিক সুবিধা পেতে ভোগান্তি। জায়গা জমি প্রভাবশালী কর্তৃক দখলের ভয়। রাজধানীর বিমানবন্দর, আজমপুর, জয়নাল মার্কেট ও আব্দুল্লাহপুর হয়ে যে রাস্তাগুলো দক্ষিণখান ও উত্তরখান গিয়েছে সেখানে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। রাস্তায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থী, কারখানার শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ৩/৪ বছরে ওই রাস্তাগুলোতে কোনো কাজ করা হয়নি। সংস্কারের অভাবে ভাঙ্গাচুরা ও খানাখন্দে ভরা এই রাস্তায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে ওই এলাকার বিভি ন্ন পেশার মানুষসহ শিক্ষার্থীরা। সামান্য বৃষ্টি নামলেই দুর্ভোগের সীমা থাকে না। রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে যায়। এলাকাবাসীর চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। আমি ঢাকা-১৮ আসনের একজন স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে আপনাদের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছি। অত্র এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকায় এখানকার তরুণ প্রজন্মের সাথে আমার একটি আন্তরিক যোগাযোগ রয়েছে। আমি এ আসনের ৭টি থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে গিয়েছি, মাদ্রাসা এতিমখানাগুলোতে গিয়েছি, হাসপাতাল/ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে গিয়েছি। এ এলাকা তথা বৃহত্তর উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেতসহ ঢাকা ১৮ আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের যে সমস্যাগুলো এবং এখানকার সামাজিক নানা অসংগতি গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। ব্যক্তিগতভাবে যারা আমার কাছে এসেছেন বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানিয়েছেন আমি তাদের অভিমত শুনেছি এবং সাধ্যানুযায়ী তা সমাধানের চেষ্টা করেছি। তবে এখানকার বৃহৎ যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন এ এলাকার মানুষ মোকাবিলা করে আসছে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে সমাধানযোগ্য। এ আসনের বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে আমার একটি সৌহার্দপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সামনের দিনগুলোতে এখানে একজন উপযুক্ত জনপ্রতিনিধি দরকার যিনি এ আসনের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ঘুরে ঘুরে সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে এর সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিবেন এবং একইসাথে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে তার নিবিড় যোগাযোগ থাকবে। আমি যখন বিভিন্ন ওয়ার্ডে মতবিনিময় সভা করি স্থানীয় জনগণের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো জানতে পারি একই এলাকায় দীর্ঘদিনের একই সমস্যাগুলো আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। যদিও এ সমস্যাগুলোর ব্যক্তিপর্যায়ে পরিকল্পনা ও সমাধান সম্ভব নয়।।
এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তর উত্তরাসহ সমগ্র ঢাকা ১৮ আসনকে ঘিরে আমার দীর্ঘদিনের যে স্বপ্ন, পরিকল্পনা এবং কর্মস্পৃহা সেটির বাস্তবায়নে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি ঢাকা ১৮ সংসদীয় আসন থেকে জাতীয় পার্টির পক্ষে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।
ঢাকা ১৮ আসন ঘিরে আমার পরিকল্পনা : ১. আমি মনে করি এখানে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে তাদের জনপ্রতিনিধির একটি যোগাযোগের দুরত্ব রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের যে সমস্যাগুলো সহজেই সমাধানযোগ্য নিয়মিত মতবিনিময় না থাকায় মানুষ তার সে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রত্যেক মাসে ২টি বা কমপক্ষে ১টি জনতার মুখোমুখি বা গণমানুষের জন্য শীর্ষক ওয়ার্ডভিত্তিক সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানে এলাকাবাসীর অভিমত গ্রহণ করে পদক্ষেপ নেওয়াই মূল লক্ষ্য। ২. উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগসহ যেসকল এলাকা অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এসকল এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সুগভীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা। ৩. ব্যবহার অনুপযোগী স্থানীয় সড়কগুলোকে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা। ৪. বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে সিটি কর্পোরেশন এর সাথে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা। ৫. ক্রমবর্ধমান অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে বিশেষজ্ঞ কমিটি ও রাজউকের সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টা শুরু করা। ৬. চাঁদাবাজি বন্ধ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং
যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং হ্রাসে ব্যবস্থা নেওয়া। ৭. উন্নয়নকাজে যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে জনভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদারকির ব্যবস্থা করা। ৮. মাদকের ভয়াবহতা থেকে এ আসনের তরুণদের ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা ও দপ্তরগুলোর সাথে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা এবং ধীরে ধীরে খেলার মাঠের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া। ৯. যানজট লেগে থাকা অপ্রশস্ত সড়কগুলো প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে প্রশস্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা। ১০. কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা রোধে সামাজিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে তরুণদের সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। ১৯. ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তীব্র তাপদাহ হ্রাসকরণে সিটি কর্পোরেশনের সাথে বৃক্ষরোপণের জন্য প্রয়োজনীয় এলাকা চিহ্নিত করে স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ এবং জলাধার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। ১২. ঢাকা-১৮ আসনে বসবাসরত ছিন্নমূল ও বাল্যুত মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। পরিশেষে বলছি, ‘জনগণের সেবা করাও একটি ইবাদত। আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি মন থেকে আপনাদের দোয়া চাই। আমি মন থেকে মানুষের সেবা করতে চাই। একজন সংসদ সদস্য মন থেকে চাইলেই এই অঞ্চলের অর্থনীতিসহ সার্বিকভাবে উন্নয়ন করতে পারে। রাজধানীর শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীদের উৎসহ করতে হবে এই অঞ্চলে ব্যবসা করার জন্য। আমি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশিদার হতে চাই। এজনা আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সুযোগ দিলে আমি উন্নয়ন ও তাদের সেবা করার সুযোগ পাবো।

ট্যাগস :
আপডেট : ০৪:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩
১০১ বার পড়া হয়েছে

দুর্ভোগ যেন ঢাকা-১৮ আসনবাসীর নিত্যসঙ্গী -দয়াল কুমার বড়ুয়া

আপডেট : ০৪:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩

ঢাকা-১৮ আসন রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হলেও আসনটি অবহেলিত। বরাবরই এখানে সুযোগ্য ও সাংগঠনিক কর্মদক্ষতাসম্পন্ন প্রার্থীর অভাব। আর এ কারণেই অনুন্নত এলাকা হলো এটি। দুর্নীতি এই জনপদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করে ফেলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো নয়। পাশাপাশি এখানে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও আলোকিত নেতৃত্বের প্রয়োজন। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ঢাকার আশপাশের যে ৮টি ইউনিয়নকে নতুন যে ১৮টি ওয়ার্ডের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এ এলাকাগুলোর জন্য বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ, পয়োনিষ্কাশন, খেলার মাঠ, পার্ক, জলাধার সংরক্ষণ, সড়ক ও অলিতে গলিতে সড়কবাতি স্থাপনসহ সড়কপথের অবকাঠামো এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও নানা কারণে অনেকগুলো প্রকল্প এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ঢাকা-১৮ আসনে বেশ কয়েকটি সমস্যা রয়েছে। অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। গ্যাসের সমস্যা প্রকট। সুপেয় পানির সমস্যা, ওয়াসার সাপ্লাই পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ। চিকন সরু রাস্তা। ভাঙাচোরা অধিকাংশ সড়ক। মশার ব্যাপক উপদ্রব। কোন সড়কেই পথচারীদের হাটার পুটপাত নেই। সর্বত্র মাদকের ছড়াছড়ি। ময়লা রাখার কোনো ডাম্পিং নেই। এতে আশপাশে ডোবানালা বা খালি জায়গায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ থানা ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫, ৫২, ৫নং ওয়ার্ডে খেলার মাঠ, পার্ক, সরকারি হাসপাতাল নেই। ভ্যাটারি চালিত অটো রিকসার জন্য সর্বত্র যানজট লেগে থাকে। ম্যানহোলের বর্জ রাস্তায় জমাবদ্ধ পানির সাথে মিশে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি। কিশোরখাং এর ব্যাপক উৎপাত। সিটি করপোরেশনে নাগরিক সুবিধা পেতে ভোগান্তি। জায়গা জমি প্রভাবশালী কর্তৃক দখলের ভয়। রাজধানীর বিমানবন্দর, আজমপুর, জয়নাল মার্কেট ও আব্দুল্লাহপুর হয়ে যে রাস্তাগুলো দক্ষিণখান ও উত্তরখান গিয়েছে সেখানে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। রাস্তায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থী, কারখানার শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ৩/৪ বছরে ওই রাস্তাগুলোতে কোনো কাজ করা হয়নি। সংস্কারের অভাবে ভাঙ্গাচুরা ও খানাখন্দে ভরা এই রাস্তায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে ওই এলাকার বিভি ন্ন পেশার মানুষসহ শিক্ষার্থীরা। সামান্য বৃষ্টি নামলেই দুর্ভোগের সীমা থাকে না। রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে যায়। এলাকাবাসীর চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। আমি ঢাকা-১৮ আসনের একজন স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে আপনাদের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছি। অত্র এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকায় এখানকার তরুণ প্রজন্মের সাথে আমার একটি আন্তরিক যোগাযোগ রয়েছে। আমি এ আসনের ৭টি থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে গিয়েছি, মাদ্রাসা এতিমখানাগুলোতে গিয়েছি, হাসপাতাল/ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে গিয়েছি। এ এলাকা তথা বৃহত্তর উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেতসহ ঢাকা ১৮ আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের যে সমস্যাগুলো এবং এখানকার সামাজিক নানা অসংগতি গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। ব্যক্তিগতভাবে যারা আমার কাছে এসেছেন বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানিয়েছেন আমি তাদের অভিমত শুনেছি এবং সাধ্যানুযায়ী তা সমাধানের চেষ্টা করেছি। তবে এখানকার বৃহৎ যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন এ এলাকার মানুষ মোকাবিলা করে আসছে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে সমাধানযোগ্য। এ আসনের বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে আমার একটি সৌহার্দপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সামনের দিনগুলোতে এখানে একজন উপযুক্ত জনপ্রতিনিধি দরকার যিনি এ আসনের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ঘুরে ঘুরে সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে এর সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিবেন এবং একইসাথে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে তার নিবিড় যোগাযোগ থাকবে। আমি যখন বিভিন্ন ওয়ার্ডে মতবিনিময় সভা করি স্থানীয় জনগণের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো জানতে পারি একই এলাকায় দীর্ঘদিনের একই সমস্যাগুলো আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। যদিও এ সমস্যাগুলোর ব্যক্তিপর্যায়ে পরিকল্পনা ও সমাধান সম্ভব নয়।।
এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তর উত্তরাসহ সমগ্র ঢাকা ১৮ আসনকে ঘিরে আমার দীর্ঘদিনের যে স্বপ্ন, পরিকল্পনা এবং কর্মস্পৃহা সেটির বাস্তবায়নে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি ঢাকা ১৮ সংসদীয় আসন থেকে জাতীয় পার্টির পক্ষে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।
ঢাকা ১৮ আসন ঘিরে আমার পরিকল্পনা : ১. আমি মনে করি এখানে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে তাদের জনপ্রতিনিধির একটি যোগাযোগের দুরত্ব রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের যে সমস্যাগুলো সহজেই সমাধানযোগ্য নিয়মিত মতবিনিময় না থাকায় মানুষ তার সে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রত্যেক মাসে ২টি বা কমপক্ষে ১টি জনতার মুখোমুখি বা গণমানুষের জন্য শীর্ষক ওয়ার্ডভিত্তিক সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানে এলাকাবাসীর অভিমত গ্রহণ করে পদক্ষেপ নেওয়াই মূল লক্ষ্য। ২. উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগসহ যেসকল এলাকা অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এসকল এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সুগভীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা। ৩. ব্যবহার অনুপযোগী স্থানীয় সড়কগুলোকে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা। ৪. বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে সিটি কর্পোরেশন এর সাথে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা। ৫. ক্রমবর্ধমান অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে বিশেষজ্ঞ কমিটি ও রাজউকের সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টা শুরু করা। ৬. চাঁদাবাজি বন্ধ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং
যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং হ্রাসে ব্যবস্থা নেওয়া। ৭. উন্নয়নকাজে যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে জনভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদারকির ব্যবস্থা করা। ৮. মাদকের ভয়াবহতা থেকে এ আসনের তরুণদের ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা ও দপ্তরগুলোর সাথে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা এবং ধীরে ধীরে খেলার মাঠের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া। ৯. যানজট লেগে থাকা অপ্রশস্ত সড়কগুলো প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে প্রশস্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা। ১০. কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা রোধে সামাজিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে তরুণদের সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। ১৯. ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তীব্র তাপদাহ হ্রাসকরণে সিটি কর্পোরেশনের সাথে বৃক্ষরোপণের জন্য প্রয়োজনীয় এলাকা চিহ্নিত করে স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ এবং জলাধার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। ১২. ঢাকা-১৮ আসনে বসবাসরত ছিন্নমূল ও বাল্যুত মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। পরিশেষে বলছি, ‘জনগণের সেবা করাও একটি ইবাদত। আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি মন থেকে আপনাদের দোয়া চাই। আমি মন থেকে মানুষের সেবা করতে চাই। একজন সংসদ সদস্য মন থেকে চাইলেই এই অঞ্চলের অর্থনীতিসহ সার্বিকভাবে উন্নয়ন করতে পারে। রাজধানীর শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীদের উৎসহ করতে হবে এই অঞ্চলে ব্যবসা করার জন্য। আমি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশিদার হতে চাই। এজনা আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সুযোগ দিলে আমি উন্নয়ন ও তাদের সেবা করার সুযোগ পাবো।