০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

নীলাভ কফিনে দগ্ধ রিমি

আনোয়ারুল ইসলাম রাসেদ

অজপাড়াগাঁয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিমু আজ প্রতিশ্রুতিশীল তারুণ্য, জাতীর সাহসী বিবেক! নির্মল হাওয়ায় গ্রামীন পরিবেশে কেরাম, চক্কা আর ফুটবলে কেটেছে দুরন্ত কৈশোর! বন্ধুদের আড্ডায় হৈ-হুল্লোড়ে কাটত তার! সদা চঞ্চল, পড়াশোনায় মনোযোগী না হলেও স্কুলের রেজাল্ট ছিল বরাবরই ভালো। লেখাপড়া বিষয়ে তার বক্তব্য ছিল ক্লাস টিচারের লেকচারের পর এতো পড়ার কি আছে?
ভালো রেজাল্ট করায় একটি ভাল কলেজে পড়াশোনা করার সুযোগ হয় তার! বিজ্ঞান বিভাগে কলেজে ভাল ফলাফল করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় হিমু!

হঠাৎ করে হিমুর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে! হিমুর পরীক্ষা থাকায় রেজাল্ট খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় বাবার অসুস্থতার খবরটি পরিবার থেকে জানানো হয়নি হিমুকে! সে-ই অসুস্থতায় হিমুর বাবা মারা যান! বাবার মৃত্যুর খবর টেলিগ্রামের যুগে সেল ফোন না থাকায় অন্য কোন মাধ্যমে জানার সুযোগ হয়নি হিমুর!

হিমু ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি করত। মেধা বিবেচনায় হিমু’র চাহিদাও ছিল ঢের।
উদীয়মান ব্যবসায়ীর আদুরে কন্যা রিমিকে পড়ানোর দায়িত্ব পায় হিমু!
রিমি ছিল বাবার অনেক আদুরে! ঢাকার মার্কেটে নতুন কিছু আসলেই বাবা ওর জন্য নিয়ে আসতেন!
ওর জীবনে কখনও অভাব অনটনের ছোঁয়া লাগেনি ! বাবার কাছে রিমির আবদারের কোনো ঘাটতি ছিল না!
সারাক্ষণ বিনোদন আর আভিজাত্যে কাটত তার! সংস্কৃতিমনা রিমি সবসময় গিটার হাতে ব্যস্ত সময় কাটাতো।

রিমিকে প্রথম পড়াতে গেলো তখন দারুণ শংকায় কাটছে হিমুর! একরোখা রিমির অন্য টিউটররা ওকে পড়াতে এসে খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি!তীক্ষ্ণ বোধশক্তি সম্পন্ন হিমুও বিভিন্ন কৌশলে রিমিকে আত্মস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে! হিমুর বন্ধুত্ব সুলভ আচরন, সুমিষ্ট মায়াবী চাহনি রিমিকে খুব আকৃষ্ট করে! একসময় রিমি পড়ালেখায় মনোযোগী হতে থাকে। কালের প্রবাহে রিমি হিমুর প্রতি দূর্বল হতে থাকে ও নানাভাবে হিমুকে বোঝার চেষ্টা করে! হিমুর দর্শনে খুঁজে অপার সৌন্দর্য!

হিমুও রিমির প্রতি দূর্বল ছিল কিন্তু ওকে বুঝতে দেয়নি। একসময় হিমুও তার ভালোবাসার জানান দেয়।

স্বপ্নের মায়াজালে বাঁধতে থাকে একে অপরকে! রিমি হিমুর সুখে সুখী হতে চায়, রিমির এমন আহ্বানে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে হিমু!
সুখের সাগরে ছুটে চলতে বিভোর রিমির মানসিক ছাপে এক পর্যায়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় হিমু!
পরিবারের সকল বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে ভার্সিটিতে ১ম বর্ষে পড়ুয়া হিমু রিমিকে বিয়ে করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন হওয়ার পর স্কলারশিপ নিয়ে জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটিতে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ হয় হিমুর! স্কলারশিপ নিয়ে জাপান চলে যায় হিমু!
উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর কিছুদিন জাপানে উচ্চ বেতনে চাকুরী করে হিমু! বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকুরী তাঁকে কোন ভাবেই আকৃষ্ট করেনি! দেশপ্রেম ও জন্মভূমির প্রতি অগাধ ভালবাসার অনবদ্য বাস্তবতা বিবেচনায় দেশে ফিরে হিমু!

দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হিমুর প্রশাসন ক্যাডারে চাকুরির সুযোগ হয়!দেশ সেবার দীপ্ত প্রত্যয়ে সততা ও সুন্দর জীবনের অদম্য মনোবলে যাত্রা শুরু করে হিমু। সরকারী সেক্টরে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কারণে চতুর্দিকে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে! সততার বিমূর্ত প্রতীক হিমু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে দায়িত্ব পালন করে!

জাপানে পড়াশুনার সময় মরনব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন রিমির বাবা!
এরই মধ্যে মরনব্যাধি ক্যান্সারে প্রায় সকল অর্থ নিঃশেষ হয়ে রিমির ব্যবসায়ী বাবার!
এদিকে হিমুর বাবার রেখে যাওয়া ভূ-সম্পত্তিও নদীগর্ভে প্রায় বিলীন হয়ে যায়।

একসময়ের বিলাসী জীবনের অভ্যস্ত রিমি অর্থাভাবে সময়ের স্রোতে তাল মিলাতে হিমশিম খাচ্ছিল!
হিমুর অফিসার্স কোয়ার্টারের ভাবীদের Luxurious Life style রিমিকে প্রলুব্ধ করত! স্বল্প বেতনের হিমুর সহকর্মী প্রতিবেশীদের বিলাসী জীবন যাপন রিমির সরল মনে রেখাপাত করে! Unlimited life style এ অভ্যস্ত রিমি নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে ধীরেধীরে মানসিক রোগী হয়ে পড়ে।

হিমু বাবার অবশিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি করে মানসিক হসপিটালে দীর্ঘ সময় সুস্থ করে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। অকৃত্রিম ভালবাসার সবটুকুন দিয়েও রিমিকে বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় রিমির উদ্দাম তারুণ্যের অমোঘ সুখের বাতিঘর হিমু!

মানসিক অবসাদ তাকে এমনটা ঘ্রাস করে যে, বাসায় ছেলে-মেয়ের সঙ্গে ঠুনকো অজুহাতেও আত্মহত্যার চেষ্টা করত রিমি! সামান্য কথাতেই কখনও হারপিক, কখনও স্লিপিং ফিল খেয়েও আত্মহননের চেষ্টা চালায় রিমি!
কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ঠিক একইভাবে হিমু অফিস থেকে ফেরার পরপরই বেডরুমের দরজা বন্ধ করে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো রিমি! দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুনের লেলিহান শিখা! লাথি মেরে দরজা খুলে দাবানলে দগ্ধ প্রায় রিমিকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো হিমু!

প্রিয় রিমির দগ্ধ দেহের দিকে অবচেতন মনে চেয়ে রইল হিমু! ইথারে ভাসছে রিমির সরল মনের অভিব্যক্তি! রিমি যেন বলছে, “কোন একদিন, আমিও বুজবো চোখ! খুলবো না আর কোনদিন!”

হিমু কখনো কল্পনাও করেনি রিমি তাকে ছেড়ে এত্তো তাড়াতাড়ি চলে যাবে দুর আকাশের নীল নীলিমায়!

বিষাদ আর দগ্ধ হওয়া রঙিন স্বপ্নের তীব্র যন্ত্রণা চেপে বসে হিমুর অস্তিত্বে।
হিমু ফ্যাল ফ্যাল করে নীলাকাশের দিকে তাকিয়ে রইল! আর ভাবতে থাকল এভাবেই হয়তো ইতি ঘটবে মায়াজালে আবদ্ধ দুনিয়ার স্বার্থের অধ্যায়—

ট্যাগস :
আপডেট : ০৩:৫৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩
৪৪০ বার পড়া হয়েছে

নীলাভ কফিনে দগ্ধ রিমি

আপডেট : ০৩:৫৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

অজপাড়াগাঁয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিমু আজ প্রতিশ্রুতিশীল তারুণ্য, জাতীর সাহসী বিবেক! নির্মল হাওয়ায় গ্রামীন পরিবেশে কেরাম, চক্কা আর ফুটবলে কেটেছে দুরন্ত কৈশোর! বন্ধুদের আড্ডায় হৈ-হুল্লোড়ে কাটত তার! সদা চঞ্চল, পড়াশোনায় মনোযোগী না হলেও স্কুলের রেজাল্ট ছিল বরাবরই ভালো। লেখাপড়া বিষয়ে তার বক্তব্য ছিল ক্লাস টিচারের লেকচারের পর এতো পড়ার কি আছে?
ভালো রেজাল্ট করায় একটি ভাল কলেজে পড়াশোনা করার সুযোগ হয় তার! বিজ্ঞান বিভাগে কলেজে ভাল ফলাফল করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় হিমু!

হঠাৎ করে হিমুর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে! হিমুর পরীক্ষা থাকায় রেজাল্ট খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় বাবার অসুস্থতার খবরটি পরিবার থেকে জানানো হয়নি হিমুকে! সে-ই অসুস্থতায় হিমুর বাবা মারা যান! বাবার মৃত্যুর খবর টেলিগ্রামের যুগে সেল ফোন না থাকায় অন্য কোন মাধ্যমে জানার সুযোগ হয়নি হিমুর!

হিমু ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি করত। মেধা বিবেচনায় হিমু’র চাহিদাও ছিল ঢের।
উদীয়মান ব্যবসায়ীর আদুরে কন্যা রিমিকে পড়ানোর দায়িত্ব পায় হিমু!
রিমি ছিল বাবার অনেক আদুরে! ঢাকার মার্কেটে নতুন কিছু আসলেই বাবা ওর জন্য নিয়ে আসতেন!
ওর জীবনে কখনও অভাব অনটনের ছোঁয়া লাগেনি ! বাবার কাছে রিমির আবদারের কোনো ঘাটতি ছিল না!
সারাক্ষণ বিনোদন আর আভিজাত্যে কাটত তার! সংস্কৃতিমনা রিমি সবসময় গিটার হাতে ব্যস্ত সময় কাটাতো।

রিমিকে প্রথম পড়াতে গেলো তখন দারুণ শংকায় কাটছে হিমুর! একরোখা রিমির অন্য টিউটররা ওকে পড়াতে এসে খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি!তীক্ষ্ণ বোধশক্তি সম্পন্ন হিমুও বিভিন্ন কৌশলে রিমিকে আত্মস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে! হিমুর বন্ধুত্ব সুলভ আচরন, সুমিষ্ট মায়াবী চাহনি রিমিকে খুব আকৃষ্ট করে! একসময় রিমি পড়ালেখায় মনোযোগী হতে থাকে। কালের প্রবাহে রিমি হিমুর প্রতি দূর্বল হতে থাকে ও নানাভাবে হিমুকে বোঝার চেষ্টা করে! হিমুর দর্শনে খুঁজে অপার সৌন্দর্য!

হিমুও রিমির প্রতি দূর্বল ছিল কিন্তু ওকে বুঝতে দেয়নি। একসময় হিমুও তার ভালোবাসার জানান দেয়।

স্বপ্নের মায়াজালে বাঁধতে থাকে একে অপরকে! রিমি হিমুর সুখে সুখী হতে চায়, রিমির এমন আহ্বানে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে হিমু!
সুখের সাগরে ছুটে চলতে বিভোর রিমির মানসিক ছাপে এক পর্যায়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় হিমু!
পরিবারের সকল বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে ভার্সিটিতে ১ম বর্ষে পড়ুয়া হিমু রিমিকে বিয়ে করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন হওয়ার পর স্কলারশিপ নিয়ে জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটিতে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ হয় হিমুর! স্কলারশিপ নিয়ে জাপান চলে যায় হিমু!
উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর কিছুদিন জাপানে উচ্চ বেতনে চাকুরী করে হিমু! বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকুরী তাঁকে কোন ভাবেই আকৃষ্ট করেনি! দেশপ্রেম ও জন্মভূমির প্রতি অগাধ ভালবাসার অনবদ্য বাস্তবতা বিবেচনায় দেশে ফিরে হিমু!

দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হিমুর প্রশাসন ক্যাডারে চাকুরির সুযোগ হয়!দেশ সেবার দীপ্ত প্রত্যয়ে সততা ও সুন্দর জীবনের অদম্য মনোবলে যাত্রা শুরু করে হিমু। সরকারী সেক্টরে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কারণে চতুর্দিকে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে! সততার বিমূর্ত প্রতীক হিমু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে দায়িত্ব পালন করে!

জাপানে পড়াশুনার সময় মরনব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন রিমির বাবা!
এরই মধ্যে মরনব্যাধি ক্যান্সারে প্রায় সকল অর্থ নিঃশেষ হয়ে রিমির ব্যবসায়ী বাবার!
এদিকে হিমুর বাবার রেখে যাওয়া ভূ-সম্পত্তিও নদীগর্ভে প্রায় বিলীন হয়ে যায়।

একসময়ের বিলাসী জীবনের অভ্যস্ত রিমি অর্থাভাবে সময়ের স্রোতে তাল মিলাতে হিমশিম খাচ্ছিল!
হিমুর অফিসার্স কোয়ার্টারের ভাবীদের Luxurious Life style রিমিকে প্রলুব্ধ করত! স্বল্প বেতনের হিমুর সহকর্মী প্রতিবেশীদের বিলাসী জীবন যাপন রিমির সরল মনে রেখাপাত করে! Unlimited life style এ অভ্যস্ত রিমি নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে ধীরেধীরে মানসিক রোগী হয়ে পড়ে।

হিমু বাবার অবশিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি করে মানসিক হসপিটালে দীর্ঘ সময় সুস্থ করে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। অকৃত্রিম ভালবাসার সবটুকুন দিয়েও রিমিকে বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় রিমির উদ্দাম তারুণ্যের অমোঘ সুখের বাতিঘর হিমু!

মানসিক অবসাদ তাকে এমনটা ঘ্রাস করে যে, বাসায় ছেলে-মেয়ের সঙ্গে ঠুনকো অজুহাতেও আত্মহত্যার চেষ্টা করত রিমি! সামান্য কথাতেই কখনও হারপিক, কখনও স্লিপিং ফিল খেয়েও আত্মহননের চেষ্টা চালায় রিমি!
কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ঠিক একইভাবে হিমু অফিস থেকে ফেরার পরপরই বেডরুমের দরজা বন্ধ করে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো রিমি! দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুনের লেলিহান শিখা! লাথি মেরে দরজা খুলে দাবানলে দগ্ধ প্রায় রিমিকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো হিমু!

প্রিয় রিমির দগ্ধ দেহের দিকে অবচেতন মনে চেয়ে রইল হিমু! ইথারে ভাসছে রিমির সরল মনের অভিব্যক্তি! রিমি যেন বলছে, “কোন একদিন, আমিও বুজবো চোখ! খুলবো না আর কোনদিন!”

হিমু কখনো কল্পনাও করেনি রিমি তাকে ছেড়ে এত্তো তাড়াতাড়ি চলে যাবে দুর আকাশের নীল নীলিমায়!

বিষাদ আর দগ্ধ হওয়া রঙিন স্বপ্নের তীব্র যন্ত্রণা চেপে বসে হিমুর অস্তিত্বে।
হিমু ফ্যাল ফ্যাল করে নীলাকাশের দিকে তাকিয়ে রইল! আর ভাবতে থাকল এভাবেই হয়তো ইতি ঘটবে মায়াজালে আবদ্ধ দুনিয়ার স্বার্থের অধ্যায়—