০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

ফুলের জগত বলতে স্বরূপকাঠির অলংকারকাঠি গ্রাম

প্রতিনিধির নাম
পিরোজপুরে স্বরূপকাঠি এখন নার্সারির জন্য বিখ্যাত অত্র উপজেলায় মাটি ও আবহাওয়া অনুকূল পরিবেশ থাকায় অর্ধশত বছর আগে থেকে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয় ফুলের চাষ। এখানে পূর্ব থেকেই ১টা প্রবাদ আছে, স্বরূপকাঠির মাটিতে সোনা ফলে। এখন অবশ্য সর্বত্রই কমবেশি ফুলের চাষ বা নার্সারি গড়ে উঠছে। তবে গুণমানের দিক থেকে  স্বরূপকাঠির চারাই সেরা। অলঙ্কারকাঠি গ্রামের কিছু অংশে যত চোখ পড়ে কেবলই ফুলগাছের বাগান এ যেন ফুলের চাদরে ঢাকা পড়ে আছে অলংকারকাঠি। তবে স্বরূপকাঠি উপজেলার আরামকাঠি, জগন্নাথকাঠি, কুনিহারী, পান্নাল্লাপুর, সুলতানপুর, সঙ্গীতকাঠি, মাহামুদকাঠি সহ চারদিকে দুই শতাধিক নার্সারিতে রয়েছে বাহারি রঙের ফুলের বাগান।
শীতের মৌসুমে জানুয়ারী ফেব্রুয়ারী মাসে ফুলের সমারোহ একটু বেশি দেখা যায়। ডালিয়া, গাঁদা, বেলি, গোলাপ, রজনীগন্ধা, টিউলিপ, অ্যাস্টার গোলাপ, কলাবতী, জুঁই, জিনিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, পদ্ম, কারনেশন, কসমস, প্যানজি, সূর্যমুখী, স্টারপিটুনিয়া, পপি, অর্কিড, সিলভিয়া, মর্নিং ফুল, ক্যালেন্ডলা, গোরি, সুইটপি, সহ রয়েছে দেশি বিদেশী শতাধিক ফুল।এখনে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা উপজেরা থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা সারি-সারি লাল, হলুদ, কমলা আর সাদা রঙের ফুলের সমাহার দেখতে।
এখানকার চাষিরা ফুলের চারার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বনজ, ফলজ ওষুধি গাছের চারার কলম উৎপাদন করে। চারা কলমের উৎপাদনে বেশ লাভজনক, দেশের বিভিন্ন যায়গায় বানিজ্যিক ভাবে চারা রপ্তানি করে প্রচুর লাভবান হচ্ছে।ইতিমধ্যে যারা নার্সারি শিল্প গড়ে তুলেছেন এখান থেকে তারা ভালো লাভ করেছেন। পাশাপাশি কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে অন্তত ২-৩ হাজার নারী-পুরুষের। একেকটি নার্সারিতে প্রায় ১০-১৫ জন নারী পুরুষ কাজ করে। অন্য সব ফসলের চেয়ে অধিক লাভের আশায় প্রতিদিন বাড়ছে ফুলের আবাদ, বাড়ছে ফুল চাষির সংখ্যা
এ ব্যাপারে নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি অফিসার চপল কৃষ্ণ নাথ বলেন, স্বরূপকাঠিতে ২৫ হেক্টর জমিতে প্রায় দুই  শতাধিক নার্সারিতে ফুলের চারা উৎপাদন করা হয়। ২ হাজার শ্রমজীবী নারী-পুরুষ ফুল চাষে এবং চারা উৎপাদনের কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে । এ ব্যবসায় স্বল্প পুুঁজির প্রয়োজন বিধায় অনেকেই এই ব্যবসায় এগিয়ে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে শতকরা চার শতাংশ হারে এখানকার কৃষকদের কৃষিঋণের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও তাদেরকে প্রশিক্ষনের  পাশাপাশি প্রযুক্তিগত কিছু পরামর্শ দেয়া হয় এবং তারা যাতে সহজ শর্তে ঋণ পায় সে ব্যাপারে উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
ট্যাগস :
আপডেট : ০৫:৩৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২
১৫৭ বার পড়া হয়েছে

ফুলের জগত বলতে স্বরূপকাঠির অলংকারকাঠি গ্রাম

আপডেট : ০৫:৩৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২
পিরোজপুরে স্বরূপকাঠি এখন নার্সারির জন্য বিখ্যাত অত্র উপজেলায় মাটি ও আবহাওয়া অনুকূল পরিবেশ থাকায় অর্ধশত বছর আগে থেকে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয় ফুলের চাষ। এখানে পূর্ব থেকেই ১টা প্রবাদ আছে, স্বরূপকাঠির মাটিতে সোনা ফলে। এখন অবশ্য সর্বত্রই কমবেশি ফুলের চাষ বা নার্সারি গড়ে উঠছে। তবে গুণমানের দিক থেকে  স্বরূপকাঠির চারাই সেরা। অলঙ্কারকাঠি গ্রামের কিছু অংশে যত চোখ পড়ে কেবলই ফুলগাছের বাগান এ যেন ফুলের চাদরে ঢাকা পড়ে আছে অলংকারকাঠি। তবে স্বরূপকাঠি উপজেলার আরামকাঠি, জগন্নাথকাঠি, কুনিহারী, পান্নাল্লাপুর, সুলতানপুর, সঙ্গীতকাঠি, মাহামুদকাঠি সহ চারদিকে দুই শতাধিক নার্সারিতে রয়েছে বাহারি রঙের ফুলের বাগান।
শীতের মৌসুমে জানুয়ারী ফেব্রুয়ারী মাসে ফুলের সমারোহ একটু বেশি দেখা যায়। ডালিয়া, গাঁদা, বেলি, গোলাপ, রজনীগন্ধা, টিউলিপ, অ্যাস্টার গোলাপ, কলাবতী, জুঁই, জিনিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, পদ্ম, কারনেশন, কসমস, প্যানজি, সূর্যমুখী, স্টারপিটুনিয়া, পপি, অর্কিড, সিলভিয়া, মর্নিং ফুল, ক্যালেন্ডলা, গোরি, সুইটপি, সহ রয়েছে দেশি বিদেশী শতাধিক ফুল।এখনে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা উপজেরা থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা সারি-সারি লাল, হলুদ, কমলা আর সাদা রঙের ফুলের সমাহার দেখতে।
এখানকার চাষিরা ফুলের চারার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বনজ, ফলজ ওষুধি গাছের চারার কলম উৎপাদন করে। চারা কলমের উৎপাদনে বেশ লাভজনক, দেশের বিভিন্ন যায়গায় বানিজ্যিক ভাবে চারা রপ্তানি করে প্রচুর লাভবান হচ্ছে।ইতিমধ্যে যারা নার্সারি শিল্প গড়ে তুলেছেন এখান থেকে তারা ভালো লাভ করেছেন। পাশাপাশি কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে অন্তত ২-৩ হাজার নারী-পুরুষের। একেকটি নার্সারিতে প্রায় ১০-১৫ জন নারী পুরুষ কাজ করে। অন্য সব ফসলের চেয়ে অধিক লাভের আশায় প্রতিদিন বাড়ছে ফুলের আবাদ, বাড়ছে ফুল চাষির সংখ্যা
এ ব্যাপারে নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি অফিসার চপল কৃষ্ণ নাথ বলেন, স্বরূপকাঠিতে ২৫ হেক্টর জমিতে প্রায় দুই  শতাধিক নার্সারিতে ফুলের চারা উৎপাদন করা হয়। ২ হাজার শ্রমজীবী নারী-পুরুষ ফুল চাষে এবং চারা উৎপাদনের কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে । এ ব্যবসায় স্বল্প পুুঁজির প্রয়োজন বিধায় অনেকেই এই ব্যবসায় এগিয়ে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে শতকরা চার শতাংশ হারে এখানকার কৃষকদের কৃষিঋণের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও তাদেরকে প্রশিক্ষনের  পাশাপাশি প্রযুক্তিগত কিছু পরামর্শ দেয়া হয় এবং তারা যাতে সহজ শর্তে ঋণ পায় সে ব্যাপারে উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।