০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশের ওপেনিং এর সমস্যা

ড. সাঈদুর রহমান

হঠাৎ করে দলে এসে এনামুল হক বিজয় প্রথম একাদশে সুযোগ পাবেন না – সেই রকম ইঙ্গিত সাকিব আল হাসান আগেই দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ওপেনিং জুটিতে একজন অনভিজ্ঞ এবং একজন ডেবুট্যান্টকে না পাঠিয়ে অভিজ্ঞ এনামুল হককে পাঠানোর একটা সম্ভাবনা ছিল। তবে তানজিদ হাসান তামিমকে ডেব্যু করানোর পেছনে একটা বড় কারণ থাকতে পারে। সেটা হচ্ছে, আগামী ওডিআই আইসিসি বিশ্বকাপের ভাবনা। অক্টোবরের ৫ তারিখ থেকে ভারতে বসবে বিশ্বকাপের আসর। তখনও যদি তামিম ইকবাল পুরোপুরি ফিট না হন এবং লিটন কুমার দাস যদি ব্যাডপ্যাচ কাটাতে না পারেন, তখন হয়তো আর একজন ওপেনারকে দরকার হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এশিয়া কাপে তামজিদ হাসান তামিম যদি মোটামুটি পারফর্ম‌ও করতে পারেন, তাহলে হয়তো বাংলাদেশের একাধিক ম্যাচে তাকে ইনিংসের সূচনা করতে দেখা যেতে পারে। কিন্তু প্রথম ম্যাচে যেভাবে তিনি ব্যর্থ হলেন, তাতে করে তার অভিজ্ঞতার অভাবটুকু চোখে পড়ল।
মহেশ থিকসানা শ্রীলংকা দলের ডান হাতি অফ ব্রেক বোলার। সর্বশেষ আইপিএলে তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলেছেন। তাকে একটু দেখে শুনে খেললেই তিনি উইকেটে টিকে থাকতে পারতেন। বাংলাদেশের আউট হওয়া প্রথম চার ব্যাটসম্যানের কারও স্ট্রাইক রেট‌ই ১০০ কাছাকাছি ছিল না। নাঈম শেখ তিনটি বাউন্ডারি হাকালেও ১৬ এর বেশি রান করতে পারেননি। তারপর‌ও বলতে হয় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি‌ই তার সবচেয়ে বড় ইনিংস। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই বাংলাদেশের থিঙ্ক ট্যাংককে নতুন করে ভাবতে হবে। আমার মনে হয় সেদিন
এনামুল হক বিজয় একাদশে আসবেন। তাহলে তামজিদ হাসান তামিমের‌ইষ বাদ পড়ার সম্ভাবনা‌ই বেশি। এখনই তামিমকে যে তার নৈপুণ্যের জন্য বাদ দেওয়া হবে তা নয়। বরং আফগানিস্তানের মুজিব-উর-রহমান বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে বেশি কার্যকর। তাই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুই বাঁহাতি ওপেনারের একজনকে ড্রপ করতেই হবে। শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ম্যাচে শেখ মেহেদী হাসানকে দলভুক্ত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তিনজন সিমার ও তিনজন স্পিনার নিয়ে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল। এবারের এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে বাবর আজম টসে জিতে আগে ব্যাটিং করেছিলেন। সাকিব আল হাসান‌ও টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  শ্রীলংকা এবং পাকিস্তানের এখন এতো বেশি গরম এবং এই দুই দেশের উইকেট এতটা শুষ্ক যে, দুই একটি ম্যাচে ব্যাতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ম্যাচেই টস জয়ী অধিনায়ক আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেবেন।

বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই। তবে টুর্নামেন্টে ভালো করতে হলে ব্যাটিং ভালো হতে হবে। ওপেনিং জুটির সমস্যা দূর না হলে, অনেক সময় পরের ব্যাটসম্যানরা খুব চাপে থাকেন। ক্রিকেটে ভালো ব্যাটিং করার মূলমন্ত্র হচ্ছে, চাপমুক্ত হয়ে ব্যাটিং করা। ওপেনিং জুটিতে যদি পঞ্চাশটা রানও আসে, তাহলে আমরা দেখব দলীয় ইনিংসটা অনেক বড় হচ্ছে। শ্রীলংকার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুষ্মন্ত চামিরা, লাহিরু কুমারা এবং দিলশান মাদুশঙ্কা বিহীন বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ব্যাটিং আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল। এশিয়া কাপের যে দলগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এখন খেলবে, সেই দলগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে‌ও খেলতে হবে। বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ৩ তারিখ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। তার আগে আফগানিস্তানের বোলারদের শক্তির দিকগুলো নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চিন্তাভাবনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এখন একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক সময় তিনশ’ রানও নিরাপদ নয়। তাই সবসময়ই তিনশ’ প্লাস রান করার মানসিকতা নিয়েই ব্যাট করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমের কথা বলতে হয়। নেপালের বিরুদ্ধে ২৩৮ রানের বড় জয় দিয়ে পাকিস্তান তাদের এশিয়া কাপের এবারের মিশন শুরু করেছে। নেপালের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বড় জয় তেমন অস্বাভাবিক কিছু নয় বা আলাদা করে বলার মত কোন বিষয়‌ও নয়। কিন্তু যে বিষয়টি আলাদা করে বলতে হয়, সেটি হচ্ছে বাবর আজমের ব্যাটিং। বাবর আজম এই মুহূর্তে কেন র‍্যাঙ্কিং এ বিশ্বের সব ব্যাটসম্যানদের উপরে রয়েছেন, সেটা যারা এই ম্যাচে বাবর আজমের ব্যাটিং দেখেছেন, তারা হয়তো আরো একবার ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। নেপালের বোলিং আক্রমণ নিশ্চয়ই খুব ধারালো নয়। কিন্তু তাই বলে শুরুতেই যদি তিনি বোলারদের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করতেন, তাহলে হয়তো দ্রুত‌ই তার উইকেট হারাতেন! কিন্তু যখন দেখলেন বল ঠিকভাবে ব্যাটে আসছে না, তখন তিনি ধৈর্য ধরে উইকেটে টিকে থাকলেন। যখন ভালোভাবে উইকেটে সেট হয়ে গেলেন, তারপর হাত খুলে খেললেন এবং শেষ পর্যন্ত তার ১৯তম সেঞ্চুরিটি দেড়শ পার হয়ে গেল। ইফতেখার আহমেদ এর ক্ষেত্রেও দেখা গেল একই জিনিস। শুরুতে তিনি নড়বড়ে ছিলেন। কিন্তু যখন মাঝ ব্লেডে দুটি চমৎকার বাউন্ডারি হাকালেন, তখন দ্রুত‌ই নিজের ছন্দ ফিরে পেলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনিও তুলে নিলেন তার ব্যক্তিগত শতরান। আমাদের ব্যাটসম্যানদেরও এই বিষয়টি আরো বেশি রপ্ত করতে হবে। সব সময় বল ভালোভাবে ব্যাটে আসবে না। ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে এবং কয়েকটি শট মাঝ ব্লেডে খেলতে পারলে, তারপর ব্যাটিংটা নিশ্চয়ই সহজ হয়ে যায়। আমাদের ব্যাটসম্যানেরা বা দলের কোচ যে বিষয়টা জানেন না তা নয়। তবে বিষয়টি মাঠে ডিসপ্লে করে দেখানোটাই আসল কথা।

ট্যাগস :
আপডেট : ০৬:১৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৩
২০৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ওপেনিং এর সমস্যা

আপডেট : ০৬:১৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৩

হঠাৎ করে দলে এসে এনামুল হক বিজয় প্রথম একাদশে সুযোগ পাবেন না – সেই রকম ইঙ্গিত সাকিব আল হাসান আগেই দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ওপেনিং জুটিতে একজন অনভিজ্ঞ এবং একজন ডেবুট্যান্টকে না পাঠিয়ে অভিজ্ঞ এনামুল হককে পাঠানোর একটা সম্ভাবনা ছিল। তবে তানজিদ হাসান তামিমকে ডেব্যু করানোর পেছনে একটা বড় কারণ থাকতে পারে। সেটা হচ্ছে, আগামী ওডিআই আইসিসি বিশ্বকাপের ভাবনা। অক্টোবরের ৫ তারিখ থেকে ভারতে বসবে বিশ্বকাপের আসর। তখনও যদি তামিম ইকবাল পুরোপুরি ফিট না হন এবং লিটন কুমার দাস যদি ব্যাডপ্যাচ কাটাতে না পারেন, তখন হয়তো আর একজন ওপেনারকে দরকার হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এশিয়া কাপে তামজিদ হাসান তামিম যদি মোটামুটি পারফর্ম‌ও করতে পারেন, তাহলে হয়তো বাংলাদেশের একাধিক ম্যাচে তাকে ইনিংসের সূচনা করতে দেখা যেতে পারে। কিন্তু প্রথম ম্যাচে যেভাবে তিনি ব্যর্থ হলেন, তাতে করে তার অভিজ্ঞতার অভাবটুকু চোখে পড়ল।
মহেশ থিকসানা শ্রীলংকা দলের ডান হাতি অফ ব্রেক বোলার। সর্বশেষ আইপিএলে তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলেছেন। তাকে একটু দেখে শুনে খেললেই তিনি উইকেটে টিকে থাকতে পারতেন। বাংলাদেশের আউট হওয়া প্রথম চার ব্যাটসম্যানের কারও স্ট্রাইক রেট‌ই ১০০ কাছাকাছি ছিল না। নাঈম শেখ তিনটি বাউন্ডারি হাকালেও ১৬ এর বেশি রান করতে পারেননি। তারপর‌ও বলতে হয় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি‌ই তার সবচেয়ে বড় ইনিংস। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই বাংলাদেশের থিঙ্ক ট্যাংককে নতুন করে ভাবতে হবে। আমার মনে হয় সেদিন
এনামুল হক বিজয় একাদশে আসবেন। তাহলে তামজিদ হাসান তামিমের‌ইষ বাদ পড়ার সম্ভাবনা‌ই বেশি। এখনই তামিমকে যে তার নৈপুণ্যের জন্য বাদ দেওয়া হবে তা নয়। বরং আফগানিস্তানের মুজিব-উর-রহমান বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে বেশি কার্যকর। তাই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুই বাঁহাতি ওপেনারের একজনকে ড্রপ করতেই হবে। শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ম্যাচে শেখ মেহেদী হাসানকে দলভুক্ত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তিনজন সিমার ও তিনজন স্পিনার নিয়ে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল। এবারের এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে বাবর আজম টসে জিতে আগে ব্যাটিং করেছিলেন। সাকিব আল হাসান‌ও টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  শ্রীলংকা এবং পাকিস্তানের এখন এতো বেশি গরম এবং এই দুই দেশের উইকেট এতটা শুষ্ক যে, দুই একটি ম্যাচে ব্যাতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ম্যাচেই টস জয়ী অধিনায়ক আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেবেন।

বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই। তবে টুর্নামেন্টে ভালো করতে হলে ব্যাটিং ভালো হতে হবে। ওপেনিং জুটির সমস্যা দূর না হলে, অনেক সময় পরের ব্যাটসম্যানরা খুব চাপে থাকেন। ক্রিকেটে ভালো ব্যাটিং করার মূলমন্ত্র হচ্ছে, চাপমুক্ত হয়ে ব্যাটিং করা। ওপেনিং জুটিতে যদি পঞ্চাশটা রানও আসে, তাহলে আমরা দেখব দলীয় ইনিংসটা অনেক বড় হচ্ছে। শ্রীলংকার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুষ্মন্ত চামিরা, লাহিরু কুমারা এবং দিলশান মাদুশঙ্কা বিহীন বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ব্যাটিং আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল। এশিয়া কাপের যে দলগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এখন খেলবে, সেই দলগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে‌ও খেলতে হবে। বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ৩ তারিখ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। তার আগে আফগানিস্তানের বোলারদের শক্তির দিকগুলো নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চিন্তাভাবনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এখন একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক সময় তিনশ’ রানও নিরাপদ নয়। তাই সবসময়ই তিনশ’ প্লাস রান করার মানসিকতা নিয়েই ব্যাট করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমের কথা বলতে হয়। নেপালের বিরুদ্ধে ২৩৮ রানের বড় জয় দিয়ে পাকিস্তান তাদের এশিয়া কাপের এবারের মিশন শুরু করেছে। নেপালের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বড় জয় তেমন অস্বাভাবিক কিছু নয় বা আলাদা করে বলার মত কোন বিষয়‌ও নয়। কিন্তু যে বিষয়টি আলাদা করে বলতে হয়, সেটি হচ্ছে বাবর আজমের ব্যাটিং। বাবর আজম এই মুহূর্তে কেন র‍্যাঙ্কিং এ বিশ্বের সব ব্যাটসম্যানদের উপরে রয়েছেন, সেটা যারা এই ম্যাচে বাবর আজমের ব্যাটিং দেখেছেন, তারা হয়তো আরো একবার ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। নেপালের বোলিং আক্রমণ নিশ্চয়ই খুব ধারালো নয়। কিন্তু তাই বলে শুরুতেই যদি তিনি বোলারদের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করতেন, তাহলে হয়তো দ্রুত‌ই তার উইকেট হারাতেন! কিন্তু যখন দেখলেন বল ঠিকভাবে ব্যাটে আসছে না, তখন তিনি ধৈর্য ধরে উইকেটে টিকে থাকলেন। যখন ভালোভাবে উইকেটে সেট হয়ে গেলেন, তারপর হাত খুলে খেললেন এবং শেষ পর্যন্ত তার ১৯তম সেঞ্চুরিটি দেড়শ পার হয়ে গেল। ইফতেখার আহমেদ এর ক্ষেত্রেও দেখা গেল একই জিনিস। শুরুতে তিনি নড়বড়ে ছিলেন। কিন্তু যখন মাঝ ব্লেডে দুটি চমৎকার বাউন্ডারি হাকালেন, তখন দ্রুত‌ই নিজের ছন্দ ফিরে পেলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনিও তুলে নিলেন তার ব্যক্তিগত শতরান। আমাদের ব্যাটসম্যানদেরও এই বিষয়টি আরো বেশি রপ্ত করতে হবে। সব সময় বল ভালোভাবে ব্যাটে আসবে না। ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে এবং কয়েকটি শট মাঝ ব্লেডে খেলতে পারলে, তারপর ব্যাটিংটা নিশ্চয়ই সহজ হয়ে যায়। আমাদের ব্যাটসম্যানেরা বা দলের কোচ যে বিষয়টা জানেন না তা নয়। তবে বিষয়টি মাঠে ডিসপ্লে করে দেখানোটাই আসল কথা।