০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

বড়াইগ্রামে ১৫ বছর ধরে গৃহহীন শিকলে বন্দী জীবন

প্রতিনিধির নাম

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মানসিক প্রতিবন্ধী মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪০) ১৫ বছর ধরে চলছে শিকলে বন্দী জীবন যাপন। সাইফুল বনপাড়া পৌরসভার ৮নং ওয়াড  কালিকাপুর বুজুর আলী মোড়ের মৃত আঃ সামাদের ছেলে। সাইফুলের স্ত্রী মোছাঃ মিনা বেগম বলেন যে, ছোটবেলা থেকে সাইফুল জমায় রিক্সা চালাতো। কাজ করে সংসার চালাতেন।আমাদের ঘরে দুইটি সন্তান হয়েছ সংসার ভালোই চলত। কিন্তু ১৫ বছর আগে হঠাৎ তার মস্তিস্কে সমস্যা দেখা দেয়,। আমরা তার জন্য অনেক জায়গাতে চিকিৎসা করেছি । পাবনা মেন্টাল হাসপাতালে বেশ কয়েকবার চিকিৎসা করেছি। কোন ফল আসেনী্।দীঘ সময় চিকিৎসা করা দরকার ছিল কিন্তু অর্থাভাবে তা করা সম্ভব হয়নি।সময় ভালো অবার সময় খারাপ।মাথায় সমস্যা হলে বাড়ি,ঘর ভাংচুর করে।এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে সে।আশপাশের মানুষের খুব সমস্যা হয়। সেই থেকে সে কোন দিক ঠিক রাখতে পারেনা, খোলা জায়গাতেই মলমুত্র ত্যাগ করে, তাই পরিবারের লোকজন তার বাড়ির পাশে খোলা একটি জায়গায় পলিথিনের ছাউনি দিয়ে একটি তাঁবু তৈরি করে   সেখানে  বসবাসের জন্য রাখা হয় তাকে। হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ছাউনি সংলগ্ন সুপারির গাছের সাথে শিকল বেঁধে তার পায়ে পরিয়ে রাখা হয। শুধু প্রকৃতির ডাকের সাড়া পেলে শিকল খুলে দেয় পরিবারের লোকজন। সাইফুলের ৫ সদস্যের পরিবারের অন্যরা তার বাপের ভিটার ২ শতাংশ জমিতে কাঁচাঘরে বসবাস করেন। সাইফুলের মা মোছাঃ হেলেনা বেগম বলেন,ছেলে ছোট থাকতেই তার মাবা মারা যান। পরিবারের আয় বলতে শুধু তার নামে মাসিক বরাদ্দের প্রতিবন্ধী ভাতার কয়েকটা টাকা। জীবন জীবিকা চালাতে সাইফুল অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই আমি ও বৌমা লোকের বাড়িতে কাজ করি। প্রতিবেশী শিক্ষক মোঃ আলফুর রহমান বলেন, সাইফুলের ২টি সন্তান রয়েছে।ছেলেও মেয়ে পড়াশুনায় মেধাবী, উভয়েই হাইস্কুলে পড়াশোনা করে, টাকার অভাবে তাদের লেখাপড়ার অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সাইফুলের স্ত্রী মিনা বেগম ও মা মোছাঃ হেলেনা বেগম এবং এলাকাবাসি আশাবাদী উপযুক্ত চিকিৎসা করা গেলে সাইফুল সুস্থ হয়ে  আবার সংসারের হাল ধরবেন ও সন্তানদের মানুষ করবেন। তাই তারা সাইফুলের সু-চিকিৎসার জন্য  সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার দাবি জানান।প্রতিবেশী শিক্ষক মোঃ আলফুর রহমান বলেন, তার বাড়িতে পরিবার নিয়ে বতমানে বসবাস করা খুব কষ্টকর হচ্ছে। সামনে ঝড়/বৃষ্টি হবে তার আগে যদি তাদের জন্য একটি ভাল ঘরের ব্যাবস্থা করা যেত তাদের জন্য সুবিধা হত। তাই এলাকাবাসি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপডেট : ১২:৫১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২
১৩৭ বার পড়া হয়েছে

বড়াইগ্রামে ১৫ বছর ধরে গৃহহীন শিকলে বন্দী জীবন

আপডেট : ১২:৫১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মানসিক প্রতিবন্ধী মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪০) ১৫ বছর ধরে চলছে শিকলে বন্দী জীবন যাপন। সাইফুল বনপাড়া পৌরসভার ৮নং ওয়াড  কালিকাপুর বুজুর আলী মোড়ের মৃত আঃ সামাদের ছেলে। সাইফুলের স্ত্রী মোছাঃ মিনা বেগম বলেন যে, ছোটবেলা থেকে সাইফুল জমায় রিক্সা চালাতো। কাজ করে সংসার চালাতেন।আমাদের ঘরে দুইটি সন্তান হয়েছ সংসার ভালোই চলত। কিন্তু ১৫ বছর আগে হঠাৎ তার মস্তিস্কে সমস্যা দেখা দেয়,। আমরা তার জন্য অনেক জায়গাতে চিকিৎসা করেছি । পাবনা মেন্টাল হাসপাতালে বেশ কয়েকবার চিকিৎসা করেছি। কোন ফল আসেনী্।দীঘ সময় চিকিৎসা করা দরকার ছিল কিন্তু অর্থাভাবে তা করা সম্ভব হয়নি।সময় ভালো অবার সময় খারাপ।মাথায় সমস্যা হলে বাড়ি,ঘর ভাংচুর করে।এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে সে।আশপাশের মানুষের খুব সমস্যা হয়। সেই থেকে সে কোন দিক ঠিক রাখতে পারেনা, খোলা জায়গাতেই মলমুত্র ত্যাগ করে, তাই পরিবারের লোকজন তার বাড়ির পাশে খোলা একটি জায়গায় পলিথিনের ছাউনি দিয়ে একটি তাঁবু তৈরি করে   সেখানে  বসবাসের জন্য রাখা হয় তাকে। হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ছাউনি সংলগ্ন সুপারির গাছের সাথে শিকল বেঁধে তার পায়ে পরিয়ে রাখা হয। শুধু প্রকৃতির ডাকের সাড়া পেলে শিকল খুলে দেয় পরিবারের লোকজন। সাইফুলের ৫ সদস্যের পরিবারের অন্যরা তার বাপের ভিটার ২ শতাংশ জমিতে কাঁচাঘরে বসবাস করেন। সাইফুলের মা মোছাঃ হেলেনা বেগম বলেন,ছেলে ছোট থাকতেই তার মাবা মারা যান। পরিবারের আয় বলতে শুধু তার নামে মাসিক বরাদ্দের প্রতিবন্ধী ভাতার কয়েকটা টাকা। জীবন জীবিকা চালাতে সাইফুল অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই আমি ও বৌমা লোকের বাড়িতে কাজ করি। প্রতিবেশী শিক্ষক মোঃ আলফুর রহমান বলেন, সাইফুলের ২টি সন্তান রয়েছে।ছেলেও মেয়ে পড়াশুনায় মেধাবী, উভয়েই হাইস্কুলে পড়াশোনা করে, টাকার অভাবে তাদের লেখাপড়ার অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সাইফুলের স্ত্রী মিনা বেগম ও মা মোছাঃ হেলেনা বেগম এবং এলাকাবাসি আশাবাদী উপযুক্ত চিকিৎসা করা গেলে সাইফুল সুস্থ হয়ে  আবার সংসারের হাল ধরবেন ও সন্তানদের মানুষ করবেন। তাই তারা সাইফুলের সু-চিকিৎসার জন্য  সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার দাবি জানান।প্রতিবেশী শিক্ষক মোঃ আলফুর রহমান বলেন, তার বাড়িতে পরিবার নিয়ে বতমানে বসবাস করা খুব কষ্টকর হচ্ছে। সামনে ঝড়/বৃষ্টি হবে তার আগে যদি তাদের জন্য একটি ভাল ঘরের ব্যাবস্থা করা যেত তাদের জন্য সুবিধা হত। তাই এলাকাবাসি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন।