১২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

ভরাট ও দখলের থাবায় বিপন্ন ঈদগাঁওর গ্রামীন খাল

প্রতিনিধির নাম
দখল ও ভরাটে বিপন্ন ঈদগাঁওর গ্রামীন খালটি। দীর্ঘকাল ধরে দেখার কেউ না থাকার খালের উপর ঘরবাড়ীসহ দোকানপাঠ নির্মানের হিড়িক পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে খালের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশংকায় স্থানীয়রা।
সূত্র মতে, কক্সবাজারের নবঘোষিত উপজেলা ঈদগাঁওর ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন খালটি এখন ভরা খালে পরিণত হয়ে পড়েছে। এই খাল দিয়ে এক সময় পাল তোলা নৌকা চলাচল করতো। বর্তমানে খালের অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। চলছে একের পর এক খাল দখলের মহোৎসব। কালের পরিক্রমায় সে খালের বুকে এখন পাকা-আধা-পাকা দালানে সমারোহ। দখলের থাবায় খাল এখন নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে।  খনন করে খালটি স্বচল করার দাবী স্থানীয়দের।
দেখা যায়, ঈদগাঁও মেহেরঘোনা জলনাসী যেটি উত্তর-মধ্যমসহ দক্ষিন মাইজপাড়া হয়ে চৌফলদন্ডীর বুক চিরে মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হয়। এখন সে চির চেনা বৃহৎ এলাকার খালটি নানাভাবে বেদখলে চলে গেছে। কেউ করে খালের পাশ ঘেঁষে দালান কেউ করে দোকান ঘর,কেউবা খালের মুল অংশ পর্যন্ত মাটি দিয়ে ভরাট করে রেখে। ফলে খালটি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। পূর্বের মতন সেই খোলাসা খাল আর নেই।
স্থানীয় লোকজন জানান, এখন খাল বেদখল, পানি ও মাছ শুন্য। ক্ষীণধারা বয়ে যাওয়া খালে দুই ধারে এখন গড়া দোকান পাট এবং পাকা দালান। দখল আর দূষণের থাবা থেকে খালটি কে মুক্ত করে খনন করা না হলে আগামীতে এসব খালের কোন স্মৃতি চিহ্ন খোঁজে পাওয়া যাবেনা। প্রতিবর্ষা মৌসুমে পানি সুষ্টভাবে চলা চল করতে না পারায় দু-কুলই পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ে। পানি যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সারাক্ষন পানিবন্দি থাকে হাটাচলার পথও।
বয়োবৃদ্ব জানান, এটি একসময়ে বড় খাল ছিল। খাল দিয়ে নৌকা,সাম্পান চলাচল করতো মাছও পাওয়া যেত বলে শুনেছেন তিনি। অব্যবস্থাপনা কারণে পানি প্রবাহ হারানো খাল এভাবে দখলে চলে যাচ্ছে। খাল উদ্ধারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপ এখন সময়ের গনদাবী।
সচেতন মহল জানান,অবিলম্বে খালটি দখলমুক্ত করে খননের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা না গেলে খালটি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। বন্যা এবং জলাবদ্বতাসহ নানামুখী দূর্ভোগের কবলে পড়বে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার লোকজন।
তরুন আইনজীবি অশোক আচার্য্য জানালেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাস্তবতার নিরিখে গ্রামীন খাল প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের প্রভাবে সংক্ষিন্ন ও ভরাট করে সুবিধাভোগীরা ফায়দা লুঠায় পাড়া মহল্লার খাল অস্থিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। এরই থেকে উত্তোরনে এসব খাল খনন জরুরী বটে।
সাবেক মেম্বার ছুরুত আলম জানান, গত ৭/৮ বছর পূর্বে ঈদগাঁওর বৃহৎ মাইজ পাড়ার বাইন্যা খালটি খননের মাঝপথে বাঁধা আসায় খনন না করে কৌশলে সটকে পড়েছিল খননের কাজে নিয়োজিত লোকজন।
ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা শাখাওয়াত হোসেন জানান, চাষাবাদে সুষ্ঠভাবে পানি যাতায়াতের লক্ষ্যে একটি এনজিও সংস্থা  খাল খননের বিষয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন।
ট্যাগস :
আপডেট : ০৮:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২
১০১ বার পড়া হয়েছে

ভরাট ও দখলের থাবায় বিপন্ন ঈদগাঁওর গ্রামীন খাল

আপডেট : ০৮:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২
দখল ও ভরাটে বিপন্ন ঈদগাঁওর গ্রামীন খালটি। দীর্ঘকাল ধরে দেখার কেউ না থাকার খালের উপর ঘরবাড়ীসহ দোকানপাঠ নির্মানের হিড়িক পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে খালের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশংকায় স্থানীয়রা।
সূত্র মতে, কক্সবাজারের নবঘোষিত উপজেলা ঈদগাঁওর ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন খালটি এখন ভরা খালে পরিণত হয়ে পড়েছে। এই খাল দিয়ে এক সময় পাল তোলা নৌকা চলাচল করতো। বর্তমানে খালের অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। চলছে একের পর এক খাল দখলের মহোৎসব। কালের পরিক্রমায় সে খালের বুকে এখন পাকা-আধা-পাকা দালানে সমারোহ। দখলের থাবায় খাল এখন নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে।  খনন করে খালটি স্বচল করার দাবী স্থানীয়দের।
দেখা যায়, ঈদগাঁও মেহেরঘোনা জলনাসী যেটি উত্তর-মধ্যমসহ দক্ষিন মাইজপাড়া হয়ে চৌফলদন্ডীর বুক চিরে মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হয়। এখন সে চির চেনা বৃহৎ এলাকার খালটি নানাভাবে বেদখলে চলে গেছে। কেউ করে খালের পাশ ঘেঁষে দালান কেউ করে দোকান ঘর,কেউবা খালের মুল অংশ পর্যন্ত মাটি দিয়ে ভরাট করে রেখে। ফলে খালটি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। পূর্বের মতন সেই খোলাসা খাল আর নেই।
স্থানীয় লোকজন জানান, এখন খাল বেদখল, পানি ও মাছ শুন্য। ক্ষীণধারা বয়ে যাওয়া খালে দুই ধারে এখন গড়া দোকান পাট এবং পাকা দালান। দখল আর দূষণের থাবা থেকে খালটি কে মুক্ত করে খনন করা না হলে আগামীতে এসব খালের কোন স্মৃতি চিহ্ন খোঁজে পাওয়া যাবেনা। প্রতিবর্ষা মৌসুমে পানি সুষ্টভাবে চলা চল করতে না পারায় দু-কুলই পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ে। পানি যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সারাক্ষন পানিবন্দি থাকে হাটাচলার পথও।
বয়োবৃদ্ব জানান, এটি একসময়ে বড় খাল ছিল। খাল দিয়ে নৌকা,সাম্পান চলাচল করতো মাছও পাওয়া যেত বলে শুনেছেন তিনি। অব্যবস্থাপনা কারণে পানি প্রবাহ হারানো খাল এভাবে দখলে চলে যাচ্ছে। খাল উদ্ধারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপ এখন সময়ের গনদাবী।
সচেতন মহল জানান,অবিলম্বে খালটি দখলমুক্ত করে খননের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা না গেলে খালটি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। বন্যা এবং জলাবদ্বতাসহ নানামুখী দূর্ভোগের কবলে পড়বে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার লোকজন।
তরুন আইনজীবি অশোক আচার্য্য জানালেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাস্তবতার নিরিখে গ্রামীন খাল প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের প্রভাবে সংক্ষিন্ন ও ভরাট করে সুবিধাভোগীরা ফায়দা লুঠায় পাড়া মহল্লার খাল অস্থিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। এরই থেকে উত্তোরনে এসব খাল খনন জরুরী বটে।
সাবেক মেম্বার ছুরুত আলম জানান, গত ৭/৮ বছর পূর্বে ঈদগাঁওর বৃহৎ মাইজ পাড়ার বাইন্যা খালটি খননের মাঝপথে বাঁধা আসায় খনন না করে কৌশলে সটকে পড়েছিল খননের কাজে নিয়োজিত লোকজন।
ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা শাখাওয়াত হোসেন জানান, চাষাবাদে সুষ্ঠভাবে পানি যাতায়াতের লক্ষ্যে একটি এনজিও সংস্থা  খাল খননের বিষয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন।