১০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞপ্তি

রামগঞ্জের ২৪টি ভাটায় বিধি লঙ্ঘন করে ইট পোঁড়ানোর মহোৎসব

প্রতিনিধির নাম
রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে স্থাপিত বৈধ ও অবৈধ ২৪টি ইটভাটার মধ্যে বেশিরভাগ ভাটায় সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে আবাদি জমিনের টপ সয়েল কাটার পাশাপাশি বনায়ন উজাড় করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ, তেলের গাদ, টায়ার ও প্লাস্টিক, বোতমের গুড়া, রাসায়নিক বর্জ্য পোঁড়ানোর মহোৎসব চলছে। এতে একদিকে খাদ্যশস্য উৎপাদনে মারাত্মক ব্যাঘাত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রামগঞ্জ পৌরশহরের মডেল ডিগ্রি কলেজের সামনে মেসার্স পাটোয়ারী (এমপিবি) ব্রিক কয়েক বছর যাবৎ বিধি লঙ্ঘন করে ইট পোড়াচ্ছে। এ ইটভাটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছে। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও উত্তাপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ছাড়াও ফসলি জমিতে উপজেলার উত্তর শৈরশৈই গ্রামের এমএমবি ব্রিক্স, কাটাখালী এইচটিসি ব্রিক্স, হাজীরপাড়া এমডিএ ব্রিক্স, আল-মদিনা ব্রিক্স, সাকিব ব্রিক্স, আকরতমা মেঘনা ব্রিক্স এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, ফাহাদ ব্রিক্স এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, ভাট্রা এমএসবি ব্রিক্স, লক্ষীধরপাড়া মোতালেব ব্রিক্স, দেহলার মদিনা ব্রিক্স, আজিমপুর জেবিএম ব্রিক্স, পাটোয়ারী ব্রিক্সসহ ২২টি ইটভাটায় মালিকরা সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে ভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ, টায়ার, তেলের গাদ, বোতামের গুঁড়া, রাসায়নিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক দিয়ে ইট পোঁড়াচ্ছে। কয়েকটি ভাটায় শিশু-কিশোরদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে। প্রতিটি ইটভাটায় দেখা গেছে লাখ লাখ ঘনফুট টপ সয়েলের স্তুুপ, যা বিভিন্ন আবাদি জমি থেকে সংগ্রহ করা হয়। দানব ট্রলি দিয়ে টপ সয়েল বহন করায় পাকা রাস্তাগুলোর প্রায় স্থানে বিশাল গর্ত হয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর ধরে সংবাদ প্রকাশ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জেলা-উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
ইটভাটার পাশে বসবাসকারীরা জানান, ইট পোঁড়ানোর সময় দুর্গন্ধ ও বাতাসে ধূলিকণা ছড়ানোর ফলে বিভিন্ন রোগে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন। ইট ভাটার কয়েকজন মালিক বলেন, গ্রামাঞ্চলে সরকারি প্রজ্ঞাপন মেনে কয়লা দিয়ে ইট পোঁড়ানো সম্ভব নয়।
ইট পোঁড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯ ও ২০০১ সালের ১৭নং অনুচ্ছেদের ৪ ও ৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, আবাদি জমিতে কোনো ইটভাটা তৈরি করা যাবে না ও ১২০ ফুট চিমনি ব্যবহার করতে হবে। কাঠ পোঁড়ানো যাবে না। এখানকার ইটভাটাগুলোতে এ আইন মানা হচ্ছে না।
ট্যাগস :
আপডেট : ০৩:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২
১৩০ বার পড়া হয়েছে

রামগঞ্জের ২৪টি ভাটায় বিধি লঙ্ঘন করে ইট পোঁড়ানোর মহোৎসব

আপডেট : ০৩:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২
রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে স্থাপিত বৈধ ও অবৈধ ২৪টি ইটভাটার মধ্যে বেশিরভাগ ভাটায় সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে আবাদি জমিনের টপ সয়েল কাটার পাশাপাশি বনায়ন উজাড় করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ, তেলের গাদ, টায়ার ও প্লাস্টিক, বোতমের গুড়া, রাসায়নিক বর্জ্য পোঁড়ানোর মহোৎসব চলছে। এতে একদিকে খাদ্যশস্য উৎপাদনে মারাত্মক ব্যাঘাত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রামগঞ্জ পৌরশহরের মডেল ডিগ্রি কলেজের সামনে মেসার্স পাটোয়ারী (এমপিবি) ব্রিক কয়েক বছর যাবৎ বিধি লঙ্ঘন করে ইট পোড়াচ্ছে। এ ইটভাটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছে। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও উত্তাপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ছাড়াও ফসলি জমিতে উপজেলার উত্তর শৈরশৈই গ্রামের এমএমবি ব্রিক্স, কাটাখালী এইচটিসি ব্রিক্স, হাজীরপাড়া এমডিএ ব্রিক্স, আল-মদিনা ব্রিক্স, সাকিব ব্রিক্স, আকরতমা মেঘনা ব্রিক্স এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, ফাহাদ ব্রিক্স এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, ভাট্রা এমএসবি ব্রিক্স, লক্ষীধরপাড়া মোতালেব ব্রিক্স, দেহলার মদিনা ব্রিক্স, আজিমপুর জেবিএম ব্রিক্স, পাটোয়ারী ব্রিক্সসহ ২২টি ইটভাটায় মালিকরা সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে ভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ, টায়ার, তেলের গাদ, বোতামের গুঁড়া, রাসায়নিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক দিয়ে ইট পোঁড়াচ্ছে। কয়েকটি ভাটায় শিশু-কিশোরদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে। প্রতিটি ইটভাটায় দেখা গেছে লাখ লাখ ঘনফুট টপ সয়েলের স্তুুপ, যা বিভিন্ন আবাদি জমি থেকে সংগ্রহ করা হয়। দানব ট্রলি দিয়ে টপ সয়েল বহন করায় পাকা রাস্তাগুলোর প্রায় স্থানে বিশাল গর্ত হয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর ধরে সংবাদ প্রকাশ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জেলা-উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
ইটভাটার পাশে বসবাসকারীরা জানান, ইট পোঁড়ানোর সময় দুর্গন্ধ ও বাতাসে ধূলিকণা ছড়ানোর ফলে বিভিন্ন রোগে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন। ইট ভাটার কয়েকজন মালিক বলেন, গ্রামাঞ্চলে সরকারি প্রজ্ঞাপন মেনে কয়লা দিয়ে ইট পোঁড়ানো সম্ভব নয়।
ইট পোঁড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯ ও ২০০১ সালের ১৭নং অনুচ্ছেদের ৪ ও ৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, আবাদি জমিতে কোনো ইটভাটা তৈরি করা যাবে না ও ১২০ ফুট চিমনি ব্যবহার করতে হবে। কাঠ পোঁড়ানো যাবে না। এখানকার ইটভাটাগুলোতে এ আইন মানা হচ্ছে না।