রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
নোয়াখালীতে ক্রাইম পেট্রোল দেখে শিখে অদিতাকে খুন,   ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ; মৃত্যু নিশ্চিত করতে জবাই মেসির জোড়া গোলে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত জয় এইচএসসি ব্যাচ-২২ এর উদ্যোগে ও আয়োজনে ব্যতিক্রমী শিক্ষা সমাপনী “Flashmob” অনুষ্ঠিত ধোবাউড়া কলসিন্দুরে ফুটবল কন‍্যাদের পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন কমেছে বিক্রি, হতাশ সদরঘাটের ব্যবসায়ীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্থবির কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির তদন্তে অর্ধবছর পার বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার কমিটি গঠন দুর্গাপুরে ৫নং ঝালুকা ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের কমিটি গঠন সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে বাড়ি তৈরি করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্থবির কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক গবেষণা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকদের জন্য কেন্দ্রীয় গবেষণাগার না থাকায় তিনি সেটি স্থাপনের উদ্যোগ নেন৷ যার ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় গবেষণাগার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৮সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের পর প্রায় ৯মাস অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই প্রকল্পটির। এখনো চলছে প্রকল্পের ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরীর কাজ। এছাড়াও প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি ‘সবুজ পাতায়’ উঠানোর চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি।

তবে কমিটি সংশ্লিষ্টদের দাবি করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রকল্পটিতে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। ডিপিপি প্রস্তুত হলে প্রকল্পটি সবুজ পাতায় উঠানোর জন্য আবারও চেষ্টা করা হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপন কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডীন, সদস্য হিসেবে বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, ফার্মেসী, রসায়ন এবং প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, বর্তমান ও সাবেক গবেষণা পরিচালক এবং সদস্য সচিব হিসেবে আছেন পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের উপ-পরিচালক সৈয়দ আলী আহমেদ।

জানা যায়, কমিটি গঠনের পর কেন্দ্রীয় গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। পরবর্তীতে ইউজিসি সেটি সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রজেক্টটি ‘সবুজ পাতায়’ উঠার কথা থাকলে কার্যত সেটি সবুজ পাতায় উঠেনি। প্রাথমিকভাবে পাঠানো সেই প্রকল্পটির টোকেন মানির পরিমাণ ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। সাধারণত সবুজ পাতায় কোন প্রকল্প উঠানোর জন্য টোকেন মানি প্রয়োজন হয়৷ ৫০ লক্ষ টাকার চেয়ে বেশি হলে সেটি একনেকে চলে যায়৷

তবে কেন প্রকল্পটি সবুজ পাতায় উঠেনি এটিও নিয়ে রয়েছে নানান গুঞ্জন। ইউজিসির কর্মকর্তাদের দাবি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে সেগুলোর খোঁজ খবর রাখতে হয় নিয়মিত। অন্যথায় সেই প্রজেক্টগুলো তেমন গুরুত্ব পায়না। অপরদিকে গবেষণাগার স্থাপন কমিটিরও দাবি প্রাথমিকভাবে পাঠানোর পর প্রকল্পটি সবুজ পাতায় উঠে গেলে এটি পাশ হতে সুবিধা হতো এবং কাজের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যেতো। তবে এখন আবারও সবুজ পাতায় উঠানোর চেষ্টা করা হবে। আর সবুজ পাতায় না উঠলেও সমস্যা হবেনা।

এদিকে গবেষণাকেন্দ্রের ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরীতেই এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ৷ তবে কবে নাগাদ তা শেষ হবে সেটি নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। যেখানে গবেষণা কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, সুযোগ-সুবিধা, এক্সেস, স্থাপন প্রক্রিয়া, গঠনতন্ত্র সহ যাবতীয় বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ থাকবে৷ ডিপিপি তৈরী শেষে ইউজিসিতে সেটি পাঠানো হবে৷ সেখানে প্রজেক্ট ইভ্যালুয়েশন কমিটি এটি যাচাই বাছাই করে সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। সেখানে যাচাই বাছাই শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে৷ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সাপেক্ষে পরবর্তী কাজ শুরু হবে।

তবে ডিপিপি পরিপূর্ণ না থাকলে অথবা কোন ত্রুটি থাকলে সেটি ইউজিসি থেকে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা মন্ত্রণালয় থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত আসতে পারে। ডিপিপি প্রস্তুত না হওয়ায় প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় এখনো নির্ধারিত হয়নি৷ একইভাবে প্রকল্পটি সবুজ পাতায় উঠানোর দ্বিতীয় প্রচেষ্টা চালানো হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ১২ তলায় কেন্দ্রীয় গবেষণা কেন্দ্রটি নির্মিত হবে। কয়েকটি সাব কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় কোন গবেষণাকেন্দ্র না থাকায় গবেষকরা পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্টাডির সুযোগ নেই এখানকার গবেষকদের৷ এছাড়াও আধুনিক যন্ত্রপাতি তথা ল্যাবরেটরি সুবিধার জন্য গবেষকদের নির্ভর করতে হত বাইরের প্রতিষ্ঠানের ওপর৷

তবে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হল অতি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজি, শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে গবেষণা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এতে করে গবেষকদের মৌলিক সীমাবদ্ধতা কিছুটা কেটেছে৷ তবে কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প আশার আলো দেখাচ্ছে তাদের।

কয়েকজন গবেষক বলেন, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপিত হলে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে৷ তখন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সংকট থাকবেনা। যাতে করে গবেষণা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানো যাবে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও একই সুবিধা হবে। অর্থাৎ তখন কোন সুযোগের ঘাটতি থাকবেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক দিকটি আরও অগ্রসর হবে৷ তবে সব জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি তাদের।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো.চ ওহিদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন কমিটির সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

 

গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন কমিটির আহবায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান খন্দকার বলেন, আমি এখনো গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন বিষয়টির সাথে পুরোপুরি যুক্ত হইনি। তবে শুনেছি প্রাথমিক প্রজেক্ট মন্ত্রণালয় পর্যন্ত জমা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী প্রক্রিয়া চলমান।

গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন কমিটির সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের উপ-পরিচালক সৈয়দ আলী আহমেদ বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে একটি প্রজেক্ট ইউজিসিতে পাঠিয়েছিলাম। সেখান থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটি গিয়েছিল। তবে সবুজ পাতায় উঠেনি। আমরা এখন ডিপিপি তৈরীর কাজ করছি। এটা শেষ হলে ইউজিসিতে পাঠানো হবে। একই সাথে প্রকল্পটি সবুজ পাতায় উঠানোর জন্যও আবার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চেষ্টা চালানো হবে। সবুজ পাতায় না উঠলেও সমস্যা নেই।

কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ. জেড. এম. রুহুল মোমেন বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে গবেষণাকেন্দ্র প্রকল্পটি ইউজিসিতে পাঠিয়েছিলাম। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে৷ এখন ডিপিপি প্রস্তুতের কাজ চলছে। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত সবগুলো বিভাগের গবেষণাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির বিষয়েও স্টাডি করতে হচ্ছে৷ বিভিন্ন বিষয় আছে৷ আপাতত ডিপিপি দ্রুত প্রস্তত করার দিকেই আমরা নজর দিচ্ছি।

কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. পরিমল বালা বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি প্রজেক্ট ইউজিসিতে আমরা পাঠিয়েছিলাম। গবেষণাকেন্দ্রটি স্থাপিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে৷ গবেষণা কাজে গতি আসবে। এটি নিয়ে আমরা আমাদের জায়গা থেকে সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামান বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগার প্রকল্পটি আমরা যাচাই বাছাই শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এটিই আমাদের দায়িত্ব ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যাচাই বাছাই করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা৷ এসব প্রজেক্ট সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখতে হয়৷ নাহলে অগ্রাধিকার পায়না।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved