রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
নোয়াখালীতে ক্রাইম পেট্রোল দেখে শিখে অদিতাকে খুন,   ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ; মৃত্যু নিশ্চিত করতে জবাই মেসির জোড়া গোলে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত জয় এইচএসসি ব্যাচ-২২ এর উদ্যোগে ও আয়োজনে ব্যতিক্রমী শিক্ষা সমাপনী “Flashmob” অনুষ্ঠিত ধোবাউড়া কলসিন্দুরে ফুটবল কন‍্যাদের পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন কমেছে বিক্রি, হতাশ সদরঘাটের ব্যবসায়ীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্থবির কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির তদন্তে অর্ধবছর পার বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার কমিটি গঠন দুর্গাপুরে ৫নং ঝালুকা ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের কমিটি গঠন সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে বাড়ি তৈরি করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কমেছে বিক্রি, হতাশ সদরঘাটের ব্যবসায়ীরা

রাজধানীর সদরঘাটের পাশে গড়ে উঠা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমেছে বিক্রির পরিমাণ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের দক্ষিণবঙ্গ সহ বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য একমাত্র লঞ্চই ভরসা হওয়ায় সদরঘাটমুখী হাজারো মানুষের পদচারণায় এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশ ভালো বিক্রি হত। তবে পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর থেকে সদরঘাটে মানুষের চাপ অনেকাংশে কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এজন্য হতাশা আর দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী।

অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও এই পরিস্থিতি সৃষ্টির অন্যতম কারণ বলেও মনে করছেন অনেক ব্যবসায়ী। ক্রেতা খরা আদৌ আর কাটবে কিনা এটি নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

সদরঘাটের মূল টার্মিনাল ভবনের সামনের দুই পাশে রয়েছে লেডিস পার্ক হকার্স মার্কেট,মায়াকাটারা গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, সদরঘাট সিটি কর্পোরেশন হকার্স মার্কেট,ব্যাক ল্যান্ড বাঁধ সিটি কর্পোরেশন মার্কেট সহ প্রায় অর্ধশত ফল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান। টার্মিনাল ভবন ২ এর বিপরীত পাশে রয়েছে প্লাস্টিক সামগ্রী ও বাহারি জিনিসের বেশ কিছু ভাসমান দোকান।

সদরঘাট বাইতুন নাজাত জামে মসজিদের বিপরীত পাশে রয়েছে প্রায় অর্ধশত খুচরা জুতার দোকান, বেশ কিছু কনফেকশনারি দোকান, পাইকারী ও খুচরা পোশাকের দোকান এবং আবাসিক হোটেল।
২ং ও ৪ং গেটের পাশেও রয়েছে প্রায় শতাধিক দোকানপাট, আর ফুটপাতে রয়েছে বালিশ,তোশক,লুঙ্গি ও চাঁদরের প্রায় ২০-২৫ টি ভাসমান দোকান। এছাড়াও ১৪ নং গেইট অর্থাৎ টার্মিনাল টিকেট কাউন্টারের বিপরীত পাশে রয়েছে ফল ও শরবতের ভাসমান দোকান এবং খাবারের হোটেল। ফলের দোকানে রয়েছে আম,আপেল,কমলা,মাল্টা, আঙ্গুর, ডালিম, এছাড়াও এসব স্থানজুড়ে রয়েছে স্কুল ব্যাগ ও ছোটদের জামা কাপড়ের প্রায় শতাধিক দোকান।

তবে দোকানপাট কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আধিক্য থাকলেও দেখা মেলেনা ক্রেতাদের ভিড়। গত ২৫জুন পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণবঙ্গ সহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত সহজলভ্য ও কম সময়ে সম্ভব হওয়াতে লোকজন এখন আর আগের মত সদরঘাটমুখী হচ্ছেনা। লঞ্চের যাত্রী আগের অর্ধেকেরও কম পরিমাণে নেমে এসেছে।

অপরদিকে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয় বলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও সামর্থ্যের অভাবে জিনিসপত্র কিনতে পারেন না বলেও দাবি অনেক ব্যবসায়ীর। আর এসবের সমন্বিত প্রভাব পড়েছে সমগ্র সদরঘাট জুড়ে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরেই।

জানা যায়, কুরবানির ঈদের পূর্বে সদরঘাটের খুচরা ও পাইকারী পোশাকের দোকানগুলোতে প্রতিদিন বিক্রি হত ২৫-৩০ হাজার টাকা৷ আর ফুটপাতের জামা কাপড়ের দোকানগুলোতে বিক্রি হত ৫-৬ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে পাইকারী ও খুচরা পোশাকের দোকানগুলোতে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ৮-১০ হাজার টাকার পোশাক। আর ফুটপাতের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকার পোশাক।

আগে ফলের দোকানগুলোতে প্রতিদিন বিক্রি হতো ১৮-২০ হাজার টাকা৷ তবে ক্রেতা কমে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ৪-৫ হাজার টাকার ফল। একই অবস্থা ভাসমান জুতার দোকানগুলোতেও৷ আগে এসব দোকানে প্রতিদিন ৮-১০ জোড়া জুতা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২-৩ জোড়া৷ কোন কোন দিন আবার এক জোড়াও বিক্রি সম্ভব হচ্ছেনা। স্কুল-কলেজের ব্যাগের দোকানেও একই চিত্র। আগে যেখানে ১৫-২০ থেকে ব্যাগ প্রতিদিন বিক্রি সম্ভব হত সে জায়গায় এখন বিক্রি হচ্ছে ৪-৫টি ব্যাগ৷ যার ফলে লাভের পরিমাণও অর্ধেক কমে গেছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি৷ এছাড়াও ফুটপাতের খাবারের দোকান, হোটেল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও একইরকমভাবে চলছে ক্রেতার খরা।সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সদরঘাটের পাশে গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি নামমাত্র। আগে সদরঘাট যাওয়ার রাস্তা জুড়ে যেখানে যাত্রীদের ভিড় থাকতো এখন সে জায়গা ভিড়মুক্ত৷ কাপড়ের দোকানগুলোতে কদাচিৎ ক্রেতা চোখে পড়ে৷ তবে অনেক কাপড় হাতে নিয়ে দেখার পর কিংবা দাম শোনার পর চলে যাচ্ছে৷

ফলের দোকানগুলোতেও তেমন ক্রেতা নেই৷ মাঝে মধ্যে দুই-তিনজন ক্রেতা আসছে৷ জুতার দোকানগুলোতেও একই দৃশ্য দেখা গেছে৷ ক্রেতা কম থাকায় দোকানদার সেই সময়টাতে জুতা গোছানোতেই ব্যস্ত। ভিড় নেই শরবত কিংবা খাবারের হোটেলগুলোতেও। দিনব্যাপী মানুষের উপস্থিতিও তেমন লক্ষ্য করা যায়নি।

সদরঘাটের পাশে থাকা শরীফ মার্কেটে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পোশাক বিক্রি করেন আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, আজ থেকে ৪ মাস আগেও ক্রেতার সাড়া ছিল মোটামুটি ভালো। এখন একেবারে কম। আগে যেখানে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি করতে পারতাম সেখানে এখন ২ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি করতেই অনেক কষ্ট হয়। আবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দোকান বন্ধ করতে হয়। এখন অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয় বলেও মানুষ কেনাকাটা কম করছে৷ আর আগের মত মানুষ এখন সদরঘাটেও আসেনা।

সুমি কনফেকশনারির ম্যানেজার বলেন, পদ্মাসেতু উদ্বোধন হবার পর লঞ্চে মানুষ কম যাতায়াত করে। ফলে সদরঘাটে মানুষ আগের মত আসেনা৷ আর অর্থনৈতিক অবস্থার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। সব মিলিয়ে আগের চেয়ে বেচাকেনা কমেছে। আগে প্রতিদিন যে পরিমাণ বিক্রি হত এখন তার অর্ধেকেরও কম বিক্রি হয়। আগের অবস্থায় কখনো ফেরা সম্ভব হবে কিনা এটাও বুঝতে পারছিনা।

ফল ব্যবসায়ী গরিব হোসেন বলেন, আগে যে পরিমাণ বিক্রি হত তা দিয়ে সব খরচ মিটিয়ে সুন্দরভাবে চলতে পেরেছি পরিবার নিয়ে৷ এখন ক্রেতা কম তাই লাভ নামমাত্র। আর আড়ত থেকে ফল আনতেও লোন নিতে হয় মাঝে মধ্যে। এই লোন পরিশোধের জন্য বাড়তি চাপ থাকে।

জুতা ব্যবসায়ী আব্দুর রব বলেন, একসময় সদরঘাটে এত পরিমাণ মানুষ আসতো যেন ঠিকভাবে হাঁটায়ও কষ্ট হত। তখন বিক্রি হত ভালো। এখন এদিকে লোকজন কম আসে আর বিক্রিও কমেছে। মাঝে মধ্যে সারাদিনেও জুতা বিক্রি সম্ভব হয়না। বয়স হয়েছে, এখন অন্য কাজ করতে পারব না৷ বাধ্য হয়েই এখানে আছি৷

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved