রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।

ডিসকাউন্ট বয়’ থেকে বিশ্বসেরা লিটন

অমিত প্রতিভাধর এই ব্যাটার ঘরোয়া লিগে চমক দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন ২০১৫ সালের ১০ জুন ভারতের বিপক্ষে। ফতুল্লায় সেই অভিষেক ম্যাচেই ৪৫ বলে ৪৪ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংসে নিজের প্রতিভার প্রমাণ রাখেন। তবে মাঝে মাঝে দারুণ সব ইনিংস উপহার দিলেও ধারাবাহিক ছিলেন না কখনোই। তাকে নিয়ে কম সমালোচনাও হয়নি।

বিশেষ করে ২০২১ বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাজে ফর্ম এবং বিশ্বকাপে ধারাবাহিক ব্যর্থতার মাশুল গুনতে হয়েছিল লিটনকে। বিশ্বকাপে তার ফ্লপ ইনিংসগুলো নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। এছাড়া নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লিটনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ মিস নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দেন সমর্থকরা। বাংলাদেশের দর্শকরা মনে করেন ওই দুটি ক্যাচ মিস করেই মূলত বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।

এরপরই হয়তো জীবনের একটা কঠিন সময় অপেক্ষা করছিল লিটন দাসের জন্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিটনের রানের সমান ডিসকাউন্টেরও ঘোষণা দেয়া হয়েছিল একটা সময়। লিটন দাসের রানের ওপর ডিসকাউন্টে নানা পণ্য বিক্রির অফার আসছিল একের পর এক। এ তালিকায় ছিল পোশাক, খাবার, বই, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ দৈনন্দিন জিনিসপত্র। ডিসকাউন্টের এই অফারকে বলা হতো-লিটন অফার। ম্যাচ শুরুর পূর্বে ধরেই নেয়া হতো আবারও খারাপ খেলবেন লিটন। আর তাই অগ্রীম ঘোষণা দেয়া হতো, আজকের ম্যাচে লিটন দাস যত রান করবেন, তত পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট দেয়া হবে বিভিন্ন পণ্যে। যেগুলো খুব ভাইরাল হয়েছিল। এছাড়া ট্রল, মিমের বন্যা তো ছিলই।

আজ থেকে ঠিক একবছর আগে এই অক্টোবরেই লিটনকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ট্রলের প্রতিবাদে মুখ খুলেছিলেন তার স্ত্রী সঞ্চিতা। ফেসবুকে এক পোস্টে বলেছিলেন, ‘ব্যাপারটা হল, প্রতিবার কেউ ক্যাচ মিস করলে বা খারাপ স্কোর করলে এটা আসল সমস্যা নয়। কখনও কখনও সমস্যা শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তার নামের সঙ্গে হয়! লোকেদের উপহাস করা বা মিম তৈরি করা দেখতে আমাদের জন্য তেমন কষ্টের নয়। কারণ আমরা ইতোমধ্যেই এটিতে অভ্যস্ত। কিন্তু যখন আমি দেখি যে, কিছু ব্যবসায়িক পেজ যারা তার (লিটন দাস) নাম ব্যবহার করে বা পরোক্ষভাবে তার খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য প্রার্থনা করে তাদের ব্যবসা চালানোর চেষ্টা করছে। এটা দেখে আমি আমার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কল্পনা করুন এতটা দুষ্টু এবং নিচু মনের মানুষ হয়! আপনি প্রার্থনা করছেন একজন খেলোয়াড় যেন আপনার ব্যবসায়িক কৌশলের জন্য ম্যাচে খারাপ স্কোর করুক! ছি: ছি: কি লজ্জার ব্যাপার এটা।’

খারাপ সময় কাটিয়ে ব্যাট হাতে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন লিটন। একসময় যারা ট্রল বা সমালোচনায় মেতে উঠতো তাদের বাধ্য করেছেন প্রশংসা করতে। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে একের পর এক অনবদ্য ইনিংস উপহার দিচ্ছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে লিটনের ব্যাটে বিশাল এক বিপ্লব দেখা যায়। এই সময়টাতে লিটন কখনো মিরপুরের মন্থর উইকেটে খেলেছেন, কখনো আবার মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের পেসবান্ধব উইকেটে খেলেছেন। কখনো টেস্ট খেলেছেন, কখনো আবার ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি তবে লিটনের ব্যাটের সেই ছুটে চলা থামেনি। বিশ্ব তাকিয়ে দেখল কী করে লিটনের ব্যাটটা হঠাৎ করেই তরবারি হয়ে উঠলো।

লিটন দেখালেন তার ব্যাটে কী জাদু আছে, কী শিল্প আছে, কী এক মোহ আছে। সেই সঙ্গে ছিল লিটনের মনস্তাত্বিক বিপ্লবও। নিজের ভাবনার জগতে বিরাট একটা পরিবর্তন আনতে পেরেছিলেন তিনি। ব্যাটসম্যান লিটন যে বিশ্বক্রিকেটের জন্যই কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা তিনি বুঝতে পারছিলেন। নিজের উইকেটের মূল্যটা যে কত বেশি সেটাও তিনি জানতেন। আর তাই নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছিলেন। তবে এখনো ইনজুরির জুজু তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে এ ব্যাটসম্যানকে। ইনজুরির থাবায় খেলতে পারেননি সবশেষ এশিয়া কাপেও। এছাড়া ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ খেলতে নেমেই আবারও সেই চোটের শঙ্কা ছিল। তবে মনোবল হারাননি বাইশগজের এ যোদ্ধা। যন্ত্রণাকে হারিয়ে দিয়ে খেলেছেন টি-টোয়েন্টিতে নিজের ক্যারিয়ারসেরা ৪২ বলে ৬৯ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস।

৩৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৩৫.৭৯ গড়ে এখন পর্যন্ত লিটনের সংগ্রহ ২১১২ রান। ৩টি শতকের পাশাপাশি করেছেন ১৪টি অর্ধশতক। ৫৭টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩৫.২৮ গড়ে ৫ শতক ও ৭টি অর্ধশতকে করেছেন ১৮৩৫ রান।  খেলেছেন ৬০টি টি-টোয়েন্টিও।  ১২৬ স্ট্রাইকরেটে ৭টি অর্ধশতকে করেছেন ১২৬১ রান।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved