রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।

সারা দেশ থেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ রংপুর

রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কামারপাড়ায় সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে বাস। বন্ধ রয়েছে পরিবহনের কাউন্টারগুলো। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার, নসিমনসহ অবৈধ যানবাহন বন্ধের দাবিতে রংপুরে ঘুরছে না গাড়ির চাকা।


শুক্রবারের মতো শনিবারও (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে নগরীর মেডিকেল মোড়, কুড়িগ্রাম বাসস্ট্যান্ড ও মডার্ন মোড়ে যাত্রীদের আনাগোনা থাকলেও কোনো বাস চলতে দেখা যায়নি। শুক্রবার থেকেই নগরী থেকে ছেড়ে যায়নি কোনো বাস, আবার কোনো বাস রংপুরে প্রবেশ করেনি। এতে যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে।

শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। মহাসড়কে নসিমন, করিমন ও থ্রি-হুইলারসহ অবৈধ যান চলাচল বন্ধ এবং সড়কে প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে রংপুর পরিবহন মালিক সমিতি।

পরিবহন মালিকদের ডাকা দুই দিনের ধর্মঘটের খবর আগে থেকে না জানায় সকালে বাস ধরতে এসে চরম বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোর অবস্থাও অনেকটা এমন। বিশেষ করে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাঁকুরগাও, পঞ্চগড় ও নীলফামারীর বাসগুলোকে রংপুর শহর হয়েই গন্তব্যে যেতে হয়। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে এই বিভাগীয় শহর মাড়িয়ে কোনো বাসই চলাচল করতে পারছে না।


ফলে বাকি জেলাগুলো ধর্মঘটের বাইরে থাকলেও এক রংপুরের কারণে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে, ওইসব জেলার অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে যানবাহন চলছে। তবে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় না যেতে পেরে ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। এদিকে যান চলাচল বন্ধ থাকায় কেউ রওনা দেন হেঁটে, কেউ আবার বাড়তি ভাড়া দিয়েও যেতে পারেননি গন্তব্যে। এতে যাত্রী ভোগান্তি পৌঁছায় চরমে।

ছুটির দিনে বাসস্ট্যান্ড ও টার্মিনালে গিয়েও বাস বা অন্য কোনো পরিবহন না পেয়ে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে বের হয়ে বিপাকে পড়েন। কেউ কেউ বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন, কেউবা রিকশা-অটোরিকশায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ‘আজ শনিবার (২৯ অক্টোবর) রংপুরে বিএনপির মহাসমাবেশ বানচাল করতে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে জনগণকে জিম্মি করা হয়েছে। আমরা রাজনীতি করি না, তাহলে কেন এই দুর্ভোগ?’

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড এলাকার আনিছুর রহমান বলেন, ‘বড় বোন রংপুর মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে এখন ইজিবাইকে যেতে হবে। এতে ১০০ টাকার ভাড়া এখন ২৫০ টাকায় যেতে হচ্ছে। যত কষ্টই হোক যেতে তো হবে।’

এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যে দাবি নিয়ে পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে সংগঠনটি, তা শুধু এ অঞ্চলে কেন? সারা দেশে একযোগে ডাক দিতে পারত। অথচ অন্য কোথাও ধর্মঘট নেই। তাহলে নিশ্চয় রাজনৈতিক কারণে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে।’ তবে যথারীতি চলছে ট্রেন। ছোট ও ব্যক্তিগত যানবাহন এবং রেল সুবিধায় সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিএনপি নেতারা বলছেন, পরিবহন ধর্মঘট ডেকে যান চলাচল বন্ধ করলেও শনিবারের বিভাগীয় গণসমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেবে।

শুক্রবার বিকেলে নগরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, মানুষ সমাবেশ করার জন্য আসছেন। আর সরকারের ইশারায় পুতুলনাচের মতো বাস মালিক সমিতি কর্মসূচি ঘোষণা করল। কর্মসূচিটি খুব মজার। এ কর্মসূচি তারা অতীতেও দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশে কীভাবে বাধা দেয়া যায়, সেটাই হচ্ছে সরকারের টার্গেট। বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির নাম দিয়ে।

রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির সদস্য শাহিনুর রহমান অবশ্য এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছেন। সড়কে আইন মানার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলছেন, মহাসড়কে সরকারের আইন অমান্য করে এখনও নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। এ জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় মহাসড়কে এসব যান চলাচল বন্ধের জন্য কয়েকটি সংগঠন মিলে সভা করে শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) ভোর থেকে শনিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুরের সব রুটে পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে।

রংপুর পরিবহন মালিক সমিতির ডাকা এ ধর্মঘট বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয় দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো মানা না হলে প্রয়োজনে আরও সময় বাড়তে পারে। তা ছাড়া পরিবহনের শ্রমিকরাও এ ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে পরিবহন বন্ধ রেখেছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved