মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
রেমিটেন্স যোদ্ধাদেরকে সম্মাননা দেবে মহানগর আওয়ামী লীগ- আ জ ম নাছির উদ্দীন যাত্রীর স্বর্ণালংকারসহ ব্যাগ চুরি;এ্যাপসের সহায়তায় সিএনজি চালক আটক রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার তালিকায় স্থান না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবেঃ জেলা প্রশাসক চলচ্চিত্র ‍‘হুইল চেয়ার’র প্রিমিয়ার শো চট্টগ্রাম শিল্পকলায় বৃহস্পতিবার বাগেরহাট জেলার সেরা অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন এসি ল্যান্ড মোঃ আলী হাসান খেলাধুলায় সম্পৃক্ত থাকলে আমাদের সন্তানরা বিপদগামী হবে না-মহিউদ্দীন মহারাজ ভান্ডারিয়ায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন কোভিড-১৯ এর সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশগামী সাধারণ যাত্রীদের সাথে প্রতারণা;চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার নগরীতে র‍্যাব-৭ ও ভোক্তা অধিকার যৌথ অভিযান;১২ হাজার লিটার তৈল জব্দসহ ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি সংস্কার করা হয়েছে 

বোয়ালখালীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পেল সামর্থ্যবানরা;৩০ ঘরে বাস করেন মাত্র ৩ পরিবার!

কমল চক্রবর্তীঃচট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধানঃ

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ‘আশ্রয়ন-২’ প্রকল্পের আওতায় দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়।এর আওতায় সারা দেশের ন্যায় বোয়ালখালীর উপজেলার লালার হাটে শাকপুরা ও সরোয়াতলী ইউনিয়ন মিলে গড়ে তোলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয় ৩০ পরিবারকে। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া লোকেদের বেশির ভাগ লোকই সামর্থ্যবান ও ভূমির মালিক বলে জানা গেছে। বরাদ্দকৃত ৩০ ঘরে বাস করেন মাত্র ৩ পরিবার। বাকি ঘর থাকে তালা বন্ধ!

যেখানে সরকার দেশের ভিক্ষুক, ছিন্নমূল, বিধবা, দিনমজুর, বেদে, দলিত, হরিজন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ যুগ যুগ ধরে ভাসমান হয়ে চলা গৃহহীন-ভূমিহীন লোকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই শতক জমির মালিকানাসহ সুদৃশ্য রঙিন টিনশেডের সেমিপাকা বাড়ি প্রদানের মহান উদ্যেগ নিয়েছে সেখানে সামর্থ্যবান লোকদের ঘর বরাদ্দ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লালিত স্বপ্নকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়া কিভাবে এই ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হল সেটাই প্রশ্ন। এক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,বরাদ্দ পাওয়া লোকেদের বেশির ভাগ লোকই সামর্থ্যবান ও ভূমির মালিক। সেই তালিকায় আছেন সরকারী অবসরপ্রাপ্ত, চাকুরীজীবী ও ব্যবসায়ী। বরাদ্দকৃত ৩০ ঘরে বাস করেন মাত্র ৩ পরিবার বাকি ঘর গুলোতে তালা বন্ধ! প্রশাসনের কেউ ভিজিটে আসার খবর পেলে সবাই এসে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। এরপর সেই আবার তালা মারা থাকে ঘর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পুরো আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘিরে সুনসান নীরবতা। ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সরকারের দেয়া ঘর গুলো। কোন জনমানুষের উপস্থিতি নেই। এক ঘরে থাকে পদবালা কৈবর্ত (৭৪) বয়সী একজন বৃদ্ধ মহিলা । আর ওনার পাশের ঘরে( সামনে টিন দিয়ে ঘেরা দেয়া) থাকেন বশর নামের একজন। যিনি ভূমি অফিসে কাজ করেন। যার আছে পেঁয়াজ রসূনের আড়ত। আছে নিজস্ব বাড়ি ঘর। লালার হাট বাজারও নাকি তার নিয়ন্ত্রণে। অন্য আরেকটি ঘরে থাকেন ৪ জনের একটি পরিবার। বাকি ঘরগুলো থাকে তালা বদ্ধ। অথচ প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনরা ঠিকই আশ্রয় বঞ্চিত।

স্থানীয়দের অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে লোকজন থাকে না, তবে থাকবে কি করে। এখানে ঘর পাওয়া কেউ তো অভাবী নয়। দুই একজন ছাড়া সবার তো নিজস্ব বাড়ি ঘর আছে। কেউ চাকরি করে, কেউ ব্যবসায়ী। আছেন অবসর প্রাপ্ত সরকারী চাকুরীজীবী যার দুই ছেলেও সরকারি চাকরি করে। তবে কেউ আসার খবরে সবাই ঘর গুলোতে এসে থাকে আবার তালা বদ্ধ করে চলে যায়। আমাদের চোখের সামনে চলে আসছে এই নিয়ম। এই ঘর গুলো বরাদ্দ দেয়ার পর থেকে এখানে কেউ থাকে না। তালা বন্ধ ও খালি পরে থাকে। এখানে যারা ঘর পেয়েছে তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানিয়েছে সকলেই।

এ বিষয়ে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, বরাদ্দকৃত ঘর গুলো খালি থাকার বিষয়ে আমরা জেনেছি। যারা থাকে না তাদের ঘর বরাদ্ধ বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে আমরা ফাইল রেডি করেছি। পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরোয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, শাকপুরা ও সরোয়াতলী ইউনিয়ন মিলে গড়ে তোলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে আমার বরাদ্দ ছিল ৬ টি ঘর। আমি সেগুলোতে গৃহহীন-ভূমিহীন লোকদের বরাদ্দ দিয়েছি। এই ঘর গুলো নির্মাণে আমি নিজেও ব্যক্তিগত অনুদান দিয়েছি। আমি চেয়েছি গৃহহীন-ভূমিহীন লোকরা এর সুফল ভোগ করুক। সামর্থ্যবান ও ভূমির মালিকরা ঘর বরাদ্দ পেয়েছে এই প্রসঙ্গে বলেন এটা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তবে আমার আমার বরাদ্দ করা ঘরে সামর্থ্যবান ও ভূমির মালিকদের কাউকে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ঘর গুলো খালি পরে আছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এখানে অনেকে গার্মেন্টস এ চাকুরি করে তাই এখানে কেউ থাকে না ঘর বরাদ্দ নিয়ে রেখেছে। তবে ওরা ভূমিহীন। এখান থেকে আসা যাওয়া কষ্টকর বিধায় এখানে থাকে না।

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/১০ঃ৪২পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved