রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।

বরফ সংকটে সাগরে যাওয়া অনিশ্চিত পাথরঘাটার শতাধিক ট্রলারের 

মাসের পর মাস বইয়া থাহি সিজনের জন্য। সিজন আইলেই সাগরে মাছ ধরতে জামু। জালভর্তি ইলিশ ধরমু। মাইয়া-পোলাগো মোহে হাসি ফুটামু,কিন্তু সিজনের শুরুতে টানা ৬৫ দিন মাছ ধরায় নিষেধ থাকে। নিষেধাজ্ঞার পর যে কয়বার সাগরে গেছি প্রত্যেকবার সিগন্যাল পাইয়া ঘাটে আইছি। এরপর আবার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শ্যাষ হইছে এহন সাগরে খ্যাও মারার জন্য বাজার-সদয় নিয়া ঘাটে বইয়া আছি। কবে মাছ ধরতে যামু কৈতে পারিনা।
বরগুনার পাথরঘাটার জেলে আব্দুল আজিজ দু’দিন ধরে বরফের জন্য অপেক্ষা করে বরফ না পেয়ে আক্ষেপ করে এ কথা বলেন।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং ছয়দিন পার হয়ে গেলেও উপকূলীয় বরগুনার পাথরঘাটা এখনো স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ সরবরাহ। এ কারণে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যাওয়া ট্রলারগুলো বরফ সংকটে ভুগছেন। এতে প্রায় শতাধিক ট্রলারে হাজারো জেলের সাগর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েও বরফ না থাকায় সাগরে যেতে না পেরে পাথরঘাটা বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অপেক্ষায় রয়েছে মাঝি সোহরাব হোসেন, জাকির হোসেন, আব্দুল্লাহসহ সমুদ্রগামী হাজারো জেলে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণে অনেক জেলেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে ঋণগ্রস্ত। এই পরিস্থিতিতে নদ-নদীতে ও সাগরে ইলিশ ধরতে যেতে না পাড়ায় চরম হতাশ জেলেরা।
মধুমতি ফ্রস্ট এর নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হক রিয়াজ জানান, পাথরঘাটায় বরফের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ঘুর্নিঝড় সিত্রাং এর একদিন আগে থেকেই পাথরঘাটায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। সাত দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে।
সিয়াম আইসমিলের পরিচালক মোহাম্মদ সোহাগ জানান, এক ক্যান বফর পাকা হতে সময় লাগে ২৪ ঘন্টা। বন্যার পর বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যুত চালু হলেও আবার সন্ধ্যায় চলে যায়। এরপর শুক্রবার সকাল পাঁচটায় আসে। এতে করে বরফ উৎপাদন করে সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
পাথরঘাটা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুস সালাম জানান, ঘুর্নিঝড় সিত্রাং এর কারনে বিভিন্ন স্থানে গাছ পরলে তার ছিঁড়ে যায় ও খুঁটি ভেঙ্গে যায়। এতে সংযোগ চালু করতে একটু সময় লেগেছে। অতিশীঘ্রই সমস্যা সমাধান হবে বলেও জানান তিনি।
ট্রলার মালিক মো. মাসুম আকন জানান, ১৫ দিনের জন্য চাল,ডাল, তেল সহ প্রায় ২ লাখ টাকার বাজার সদায় ট্রলারে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে গত দু’দিন ধরে বরফের জন্য সিরিয়াল দিয়ে আছি। এছাড়াও এই সংকটময় মুহুর্তে অনেকেই অতিরিক্ত দামে বরফ বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ করেন জেলেরা।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যাওয়ার জন্য বাজার ভর্তি শতাধিক ট্রলার বরফকলের সামনে বরফের জন্য সিরিয়াল দিয়ে বসে আছে। যারা বরফ সংগ্রহ করতে পেরেছে তারা রাত ১২ টার পর সাগরে ইলিশ শিকারের জন্য রওয়ানা দেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved