মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
বিএলএফ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কমিটির উদ্যোগে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে এমসিডা আলোয়- আলো কিশোর কিশোরী বালিকা ফুটবল টুর্নামেন্ট -২০২৩ খ্রিঃ তুরস্কে ভূমিকম্পে নিহত ১১৮, ধ্বংসস্তূপে আটকে আছেন বহু মানুষ আমার মন্তব্য ছিল ফখরুলকে নিয়ে, হিরো আলম নয়: কাদের রিয়ালের হার, শীর্ষস্থানের পয়েন্ট বাড়াল বার্সেলোনা ইবিতে ছাত্রলীগের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত  আইডিয়াল কমার্স কলেজ ও আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের  শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন শীর্ষক  কর্মশালা আদালতের আদেশ অমান্য করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ শহিদ এএইচএম কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বাংলা মায়ের টানে মুক্তিযুদ্ধে  অংশ নিয়েছিল এদেশের বীর সন্তানরা                                                     

রেলের জলাশয় ভরাট করে কন্টেইনার টার্মিনাল 

কাটবে গাছ, স্থানান্তরিত হবে টার্নিং লাইন, বিঘ্নিত হবে অপারেশন কাজ, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা
প্রকৃতির ক্ষতি করে প্রকল্প নেওয়া যাবে না বলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও, চট্টগ্রামে জলাশয় ভরাট করে কন্টেননার টার্মিনাল করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।  এবিষয়ে গত বছরের ১৯ অক্টোবর সাইফ পাওয়ারটেক এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সাইফ লজিস্টিকস এলায়েন্স লিমিটেডের সাথে
 কন্টেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল)  চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।  প্রস্তাবিত কন্টেনসার টার্মিনালের ২১ দশমিক ২৯ একর জমির মধ্যে রয়েছে একটি বড় জলাশয়, একটি ছোট জলাশয়, কবরস্থান, মসজিদ, ক্লাব ও রেলের একটি টার্নিং লাইন। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জলাশয় দুটি ভরাট করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রেল সংশ্লিষ্টরা। এমনকি রেলের টার্নিং লাইনটি স্থানান্তরিত হলে অপারেশন কাজে বিঘ্ন ঘটবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেলের অপারেশন কাজের সাথে সম্পৃক্ত এমন একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান কন্টেইননার টার্মিনাল করার জন্য যে জমিটি দেওয়া হয়েছে, অপারেশন কাজের জন্য তা অনেক গুরুত্বপুর্ণ। সেখানে রয়েছে একটি টার্নিং লাইন, যেখানে রেলের ইঞ্জিন ঘুরানো হয়। এখানে যেভাবে খোলামেলা কাজ করা যায় অন্যত্র লাইনটি সরিয়ে নিলে অপারেশন কাজে বিঘ্ন ঘটবে। যদিও তারা বলছে লাইনটি স্থানান্তরিত করে দিবে কিন্তু অন্য যেদিকে নিবে সেখানে জায়গার সংকট রয়েছে, এছাড়া সেখানে আমাদের ডিজেল সপ ও লোকো শেড রয়েছে। যার জন্য কাজে বিঘ্ন ঘটবে। আর একটি বড় সমস্যা হবে জলাশয় ভরাট করা হলে, আমাদেও এখানে জলাশয়টি খুবই গুরুত্বপুর্ণ, নানা সময়ে নানা কাজে ব্যবহারের জন্য এখান থেকে পানি সরবরাহ করা হয়।
কিন্তু এটি ভরাট করা হলে হাজার হাজার লোকজনের পাশাপাশি রেলের অপারেশন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকটে পড়তে হবে। তাছাড়া অনাকাঙ্খিত কোন দুর্ঘটায় পানির প্রয়োজন হলে তখন পানি পাওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। এর ফলে ছোট খাট দুর্ঘটনাগুলোও হয়ে উঠতে পারে পারে মারাত্মক। তবে কবরস্থানের পরিধি একটু ছোট করে হলেও মসজদিসহ তা সংরক্ষণ করা হবে জানিয়েছেন তারা। এছাড়া এই জায়গায় উপরে রয়েছে শতাধিক নারিকেল গাছ ছাড়াও অনেক রকমের বৃক্ষ ও গুল্ম জাতিয় উদ্ভিদ।
জানা যায় বিগত ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই বাংলাদেশ রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের অধীন চট্টগ্রামের সিজিপি ইয়ার্ড সংলগ্ন ২১.২৯ একর জমি কন্টেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) অনুকূলে বরাদ্দ দেয় রেলপথ মন্ত্রনালয়। উক্ত বরাদ্দের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি রেলওয়ে এবং সিসিবিএল এর মধে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই জমিতে কন্টেননার টার্মিনাল করার জন্য গত বছরের ১৯ অক্টোবর সাইফ পাওয়ারটেক এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সাইফ লজিস্টিকস এলায়েন্স লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ডিজাইন, বিল্ড, ফাইন্যান্স, অপারেশন, মেইটেনেন্স এন্ড ট্র্যান্সফার (ডিবিএফওএমটি) চুক্তিবদ্ধ হয় সিসিবিএল।
চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকল্প এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য পুর্বাঞ্চলের এস্টেট শাখাকে পত্র দেয় প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে প্রকল্প এলাকায় কিছু অবৈধ দখলদার ও স্থাপনা রয়েছে, টার্মিনালের নির্মাণ কাজ দ্রুত আরম্ভ করা এবং যথাসময়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে প্রকল্পভুক্ত এলকা থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা আবশ্যক। তবে প্রকল্প এলাকায় মসজিদ, কবরস্থান, জলাশয়, গাছপালা ও রেলের টার্নিং লাইনের বিষয়ে কিছু  বলা হয়নি।
প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার বক্তব্য:
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে চিঠির বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী বলেন, প্রকল্প এলাকায় কিছু অবৈধ স্থাপনা আছে, আমাদেরকে তা উচ্ছেদ করে প্রকল্পের অনুকুলে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, আশা করছি ডিসেম্বরের দিকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করব।
প্রধামন্ত্রীর বক্তব্য:
গত ২২ নভেম্বর  জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হাওর, পানি, খাল-বিল, ছোট মাছ, ঘাস, লতাপাতা ও প্রকৃতির ডিস্টার্ব করে প্রকল্প নেওয়া যাবে না। এগুলোর যেন ক্ষতি করা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একইসঙ্গে ফসলের গুণগতমান ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাককে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিন।
রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের জিএম এর বক্তব্য:
এব্যপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন রেল হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের একটি সেবামুলক সংস্থা, এখানে আর্থিক আয়ের চেয়ে সেবার প্রাধান্য বেশি হওয়া উচিৎ। তবে সরকার যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে তাও জনস্বার্থে করা হয়েছে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেনা সরকার। টার্মিনাল প্রকল্পে সার্বিক বিবেচনায় যদি আয়ের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয় তাহলে নিশ্চয়ই এই প্রকল্প থেকে সড়ে আসবে কতৃপক্ষ। অপারেশন কাজে বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে তিনি বলেন প্রকল্প নেওয়ার সময় অপারেশনের মতামত নেওয়া হয়েছিল, তখনতো কেউ আপত্তি দেয়নি। তবে এখনো যদি আপত্তি আসে তাহলে প্রকল্প স্থানান্তরিত করা যাবে। রেলের অনেক জমি অকেজোঁ পড়ে আছে, এখানেই করতে হবে এমনতো নয়।
প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য:
এবিষয়ে কন্টেননার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিেিটডের (সিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন, প্রয়োজন সাপেক্ষে জলাশয় ভরাট করা হবে জানিয়ে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে জলাশয় ভরাট করার প্রয়োজন হলে, তাই করা হবে। টার্নিং লাইনটি আমরা নিজেদের খরচে অন্যত্র স্থানান্তরিত করে দিব বলে তাদের সাথে কথা হয়েছে। আর মসজিদ ও কবরস্থান সংরক্ষণ করা হবে। তবে কবরস্থানের পরিধি একটু ছোট করা হবে।


বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved