বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
ছাতকের পরিস্থিতি ভয়াবহ,সারা‌দে‌শে সঙ্গে সড়ক যোগা‌যোগ বন্ধ পিরোজপুরে বাস চাপায় কলেজ ছাত্র নিহত ১৭ মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,গণতন্ত্রের অগ্নিবীণা ও উন্নয়ন-প্রগতির প্রত্যাবর্তনঃ তথ্যমন্ত্রী নাজিরপুর অঞ্চলের কৃষকের স্বপ্ন প্রতি বছর তলিয়ে যায় পানির নিচে কালিহাতীতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন রাজশাহী জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের ভোট স্থগিত প্রফেসর ডাক্তার উত্তম কুমার বড়ুয়াকে সংবর্ধিত করলো মিলন-পুর্নিমা ফাউন্ডেশন ঈদগাঁওর ৫ ইউনিয়নে আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঙ্গাভাব: উচ্ছাস তৃনমূলে চট্টগ্রামের হিজরা সুমন মানবিক কাজে আত্ম তৃপ্তি পান সরিষাবাড়ীতে দুই শিশু শিক্ষার্থী হারানোকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হামলা ভাঙচুর ও শিক্ষককে লাঞ্ছিত

সম্পর্ক বিষিয়ে গেছে? কী করবেন?

বিজ্ঞাপন

একটা সম্পর্কে চিড় ধরলে সবার আগে প্রয়োজন যত্নের। সম্পর্ক একটা গাছের মতো, যত দিন যাবে, তত বড় হবে। এর মধ্যে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত, বসন্ত সবই আসবে। শীতের পাতাঝরা মৌসুম দেখে হাল ছেড়ে দিলে বসন্তের দেখা পাওয়া যাবে না কোনো কালেই। কারণ, শীতের পরেই আগমন ঘটে বসন্তের। কিন্তু তাই বলে একটি মরা গাছে ক্রমাগত পানি ঢালার অর্থ হয় না। টক্সিক সম্পর্কে ধরে রাখা যতটা কষ্টের, তার থেকে বেশি কষ্ট সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসা। টক্সিক সম্পর্কে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এক পক্ষের ভালোবাসা সর্বদাই বজায় থাকে। সম্পর্ক নামের গাছে সর্বদাই পানি দেওয়ায় মত্ত থাকে সে। এর মধ্যে তার নজর এড়িয়ে যায় যে গাছটা আসলে অনেক আগেই মরে গেছে।

একটা সম্পর্কে চিড় ধরলে সবার আগে প্রয়োজন যত্নের

একটা সম্পর্কে চিড় ধরলে সবার আগে প্রয়োজন যত্নের
ছবি: পেক্সেলস ডটকম

ভালোবাসুন, তবে নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে নয়  

টক্সিক রিলেশনশিপে থাকার অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে সম্পর্কে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা না থাকা। একটা সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকবেই। কিন্তু যখন খেয়াল করবেন, বেশির ভাগ সময় আপনাকেই পতনের অংশীদার হতে হচ্ছে, প্রেমের সম্পর্ক চালাতে গিয়ে আপনার অন্যান্য পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক জলাঞ্জলি দিতে হচ্ছে, সবচেয়ে বড় কথা, নিজের ব্যক্তিগত জীবন আর স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ছে। আরেকজনকে ভালোবাসার আগে নিজেকে ভালোবাসুন। আরেকজনকে ভালোবাসতে গিয়ে যদি নিজের স্বাভাবিকতাই বদলে ফেলতে হয়, তাহলে সেটা সুস্থ সম্পর্ক নয়! তখনই বুঝবেন সম্পর্কটা আর সুস্থ নেই। বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হলো উপলব্ধি করা যে এই সম্পর্ক আপনার জন্য হেলদি নয়। অপর পক্ষের প্রতিটি কাজের পেছনে নিজের মনকে অজুহাত না দিয়ে বরং সম্পর্কের লালবাতিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিন।

নিজের সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রাখুন

মনে রাখবেন, দুজনের একটা সম্পর্কে জড়ানোটা যত কঠিন, বের হওয়া তার চেয়ে ঢের বেশি কঠিন। আজ হয়তো দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা বিষিয়ে গেছে, কিন্তু একদিন ঠিকই দুজনের দুজনের প্রতি টান ছিল, মায়া ছিল, মমতা ছিল। চাইলেও সেটাকে ধুয়ে-মুছে ফেলা সম্ভব না। তাই সম্পর্কের ইতিটাও যেন সে রকম হয়, সেটাও মাথায় রাখা জরুরি। কারণ, আপনি বের হতে চাইলেও অপর পক্ষ চাইবে সম্পর্ক ধরে রাখার। সে ক্ষেত্রে আপনার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রাখাটা জরুরি।

ব্রেকআপ করাটা সব সময়ই কঠিন

ব্রেকআপ করাটা সব সময়ই কঠিন
ছবি: পেক্সেলস ডটকম

মন শক্ত করে ইতি টানুন

এবার আসে কঠিন সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপান্তর করার বিষয়। মুখে বলা যতটা সহজ, করা ততটা সহজ নয়। ব্রেকআপ করাটা সব সময়ই কঠিন, বিশেষ করে টক্সিক রিলেশনশিপে। সে জন্য কী বলবেন, সেটা আগেই ভেবে নিন। মেজাজের খেই হারাবেন না। পুরোনো স্মৃতি, ঝগড়া যত তুলে আনবেন, বিষয়টি তত খারাপের দিকে যাবে। তাতে সম্পর্ক চুকানো তো হবেই না, উল্টো দেখা যেতে পারে দিনটা নিত্যদিনের আরেকটি ঝগড়ায় পরিণত হয়েছে। পা ফসকে আবেগের গর্তে পড়ে খেই হারাবেন না। সম্পর্কটা যে আর কাজ করছে না, সে ব্যাপারে আগে থেকেই স্পষ্ট হন। শুধু অপর পক্ষের নয়, নিজের ভুলগুলোও তুলে ধরে সম্পর্কে যে আর থাকতে চান না, সেটাও বুঝিয়ে বলুন। দুজনের বোঝাবুঝিই পারে সম্পর্ক সমাপ্তির তিক্ত অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও লাঘব করতে।

শক্ত থাকুন ও নিজেকে ভালোবাসুন

টক্সিক রিলেশনশিপে থাকাটা শুধু নিজের মন নয়, শরীরের ওপরও অনেক বড় প্রভাব ফেলে। একটা সম্পর্ক ছেড়ে আসা সহজ বিষয় নয়। ছেড়ে আসার কিছুক্ষণ পরেই মনে হবে, সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল না তো? যেমনই হোক ছিল তো…ফিরে যাওয়ার তাড়না মনে মনে পোড়াবে। এমন সময় নিজেকে শক্ত রাখাটা জরুরি। জীবন থেকে ভালোর জন্য যাকে দূর করে দিয়েছেন, তাকে আবার ডেকে আনার প্রয়োজন নেই। বরং নিজেকে যে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাচ্ছিলেন, তাতে মনোযোগ দিন। টক্সিক রিলেশনশিপ আপনার উন্নতিতে যে বাধাটা দিচ্ছিল, সেটাকে উতরে নতুন মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করুন। সমস্ত ইতিবাচকতা আর শুভবোধকে নিজের দিকে টেনে নিন। সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দিন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। কাছের মানুষ, যেমন মা, বাবা, ভাই, বোন বা বন্ধুকে মনের কথা খুলে বলুন।

মনে রাখবেন, আপনার অতীত আপনার শত্রু নয়, বন্ধু। অতীত থেকে যাঁরা শিক্ষা নেন না, তাঁরাই নিজের অতীতকে শত্রু হিসেবে গণ্য করেন। প্রতিটি দিন, প্রতিটি অভিজ্ঞতা আপনাকে এক নতুন মানুষ হিসেবে তৈরি করবে। আপনার বিষিয়ে যাওয়া সম্পর্কের সমাপ্তি হোক জীবনের নতুন শুভসূচনা।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved