মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
বাবাকে হত্যার পর ছেলে নিজেই থানায় গিয়ে হত্যার কথা জানালেন পুলিশকে নবীনগরে নবনির্মিত শহীদ মিনারের শুভ উদ্বোধন ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত মানিকগঞ্জ সদর ও সিংগাইর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১১ কেজি গাঁজাসহ আটক-৪ কোনো কাজী বাল্য বিবাহ সম্পাদন করলে লাইসেন্স বাতিল- জ্যোতি বিকাশ  ধামরাই পৌরসভার পূর্ব কায়েতপাড়া শাইলাটেকি ভদ্রাকালী মন্দির প্রাঙ্গণে নামযজ্ঞ ও অষ্টকালীন লীলাকীর্তন উৎসব উদযাপন  হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লাহ্ (রঃ) এর ওরছ শরীফ আগামী ৯,১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল ও হেলমেট বিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান  বিএলএফ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কমিটির উদ্যোগে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে এমসিডা আলোয়- আলো কিশোর কিশোরী বালিকা ফুটবল টুর্নামেন্ট -২০২৩ খ্রিঃ তুরস্কে ভূমিকম্পে নিহত ১১৮, ধ্বংসস্তূপে আটকে আছেন বহু মানুষ

মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য: বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কাটাতে হবে

কৃষিপণ্যসহ নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতার বিষয়টি গত কয়েক বছর ধরে আলোচিত হলেও এক্ষেত্রে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। অতীতে শীত মৌসুমে তুলনামূলক কম দামে বিভিন্ন কৃষিপণ্য পাওয়া যেত। এখন সারা বছরই চড়া দামে বিভিন্ন কৃষিপণ্য ক্রয় করতে হচ্ছে ভোক্তাদের। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে একদিকে ঠকছেন কৃষক, অন্যদিক ভোক্তা। এ অবস্থায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে নিু ও স্বল্প আয়ের মানুষ।

প্রশ্ন হলো, শীত মৌসুমেও সবজি তিন থেকে চারগুণ দামে ভোক্তাকে কিনতে হবে কেন? বাড়তি দরে কৃষিপণ্য বিক্রি হলেও লাভের মুখ দেখছেন না কৃষক। দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারে আলুর চাহিদা রয়েছে। কৃষক পর্যায়ে এক কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয় ৭ টাকার কিছু বেশি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে কৃষক এ আলু প্রতি কেজি ৮ টাকার কিছু বেশি দামে বিক্রি করেন। এরপর কয়েক হাত ঘুরে ২২ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে সেই আলু বিক্রি হয় সাধারণ ভোক্তার কাছে।

প্রায় প্রতিটি সবজির ক্ষেত্রে এ চিত্র লক্ষ করা যায়। কৃষক সবজি বিক্রি করে কোনোমতে উৎপাদন খরচ তোলার চেষ্টা করেন। তারা লাভের মুখ দেখেন কদাচিৎ। অনেক সময় তারা উৎপাদন খরচও তুলতে পারেন না। অতি মুনাফার সব টাকাই যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এ অবস্থায় বাজার তদারককারী সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। জানা গেছে, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ভোক্তা পর্যায়ে আসতে বেশ কয়েকটি ধাপ পেরোতে হয়। এসব ধাপের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী-মজুতদার, ব্যাপারি, পাইকারি ব্যবসায়ী, আড়তদার, প্রক্রিয়াজাতকারী, খুচরা ব্যবসায়ীসহ আরও অনেকে জড়িত। বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিও পণ্যের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।

বস্তুত মধ্যস্বত্বভোগীর কারসাজিতে সারা বছরই অস্থির থাকে চালসহ নিত্যপণ্যের বাজার। এ কারসাজিতে ভোক্তারা কেবল যে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাই নয়; তারা মানহীন, এমনকি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য কিনতেও বাধ্য হচ্ছেন। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই মধ্যস্বত্বভোগীরা এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ দুর্বলতা কাটাতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এলেও এ সুযোগকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন পণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তা পর্যায়ে আসতে বিদ্যমান ধাপগুলো কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য যে কমবে না, তা বলাই বাহুল্য।


বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved