মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
বিএলএফ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কমিটির উদ্যোগে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে এমসিডা আলোয়- আলো কিশোর কিশোরী বালিকা ফুটবল টুর্নামেন্ট -২০২৩ খ্রিঃ তুরস্কে ভূমিকম্পে নিহত ১১৮, ধ্বংসস্তূপে আটকে আছেন বহু মানুষ আমার মন্তব্য ছিল ফখরুলকে নিয়ে, হিরো আলম নয়: কাদের রিয়ালের হার, শীর্ষস্থানের পয়েন্ট বাড়াল বার্সেলোনা ইবিতে ছাত্রলীগের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত  আইডিয়াল কমার্স কলেজ ও আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের  শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন শীর্ষক  কর্মশালা আদালতের আদেশ অমান্য করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ শহিদ এএইচএম কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বাংলা মায়ের টানে মুক্তিযুদ্ধে  অংশ নিয়েছিল এদেশের বীর সন্তানরা                                                     

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস ও অর্থদণ্ড দিয়েছে জেলা ভ্রাম্যমাণ আদালত

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ইটভাটা স্থাপন ও প্রস্তুত (নিয়ন্ত্রণ) আইন অমান্য করায় এবং লাইসেন্সবিহীন একটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে, এছাড়াও পৃথক স্থানে আরো ১টি ইটভাটা অর্থদণ্ড করেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

গত ৯ জানুয়ারি (সোমবার) ২০২৩ইং তারিখ দুপুরে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মঘাছড়ি এলাকার ও বেতাগী ইউনিয়নে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত এর পরিচালনায় অভিযানে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মঘাছড়ি এলাকার একতা ব্রিক্স কনসার্ন (এবিসি-১) নামে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এবং উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের (কেবিএম) ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির দায়ে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মাননীয় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় যেসব ইটভাটার কাগজপত্র নেই, সেই ভাটাগুলো বন্ধের নির্দেশ রয়েছে। তাই পরিবেশ দূষণকারী ও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় (এবিসি-১) নামের ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একই উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের (কেবিএম) ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির দায়ে ৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত) ২০১৮ অনুযায়ী, আবাসিক, সংরক্ষিত ও বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর ও কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। ইটভাটা হতে হবে এসব এলাকা থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে। এছাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

এ আইনে আরও বলা হয়েছে, ইট প্রস্তুতের জন্য এ আইনে সংজ্ঞায়িত (বালি, মাটি বা অন্য কোনো উপকরণ দিয়ে ভাটায় পুড়িয়ে প্রস্তুতকৃত কোনো নির্মাণ সামগ্রী) ইটভাটা ব্যতীত অন্য কোনোরূপ ইটভাটা স্থাপন, পরিচালনা কিংবা চালু করা যাবে না। এসব ইটভাটা করতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা করা যাবে না।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, গত সপ্তাহে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য মিটিং হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরিবেশ দূষণকারী ও বিপর্যয়কারী ইটভাটা, পাহাড় কাটা, নদী দূষণসহ অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন এবং  এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, আবু আজাদকে নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা স্বোচ্ছার সিপিজে (কমিটি ফর প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে প্রায় ৯৭০০ ইট প্রস্ত্ততকারী প্রতিষ্ঠান বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি ইট প্রস্তুত করে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি ইট ভবন ও সড়ক উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১২০০ কোটি ইট ব্যবহৃত হচ্ছে ভবন নির্মাণে এবং সড়কে ব্যবহৃত হচ্ছে অন্তত ১০০০ কোটি ইট। এছাড়া  বাকি প্রায় ৮০০ কোটি ইট পার্শ্ববর্তী দেশও রপ্তানি হচ্ছে বলেও জানা যায়।

দেশের এই ইট প্রস্ত্ততকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অবৈধ। লাইন্সেস নেই। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে বেশিরভাগ ইটভাটা। কম উচ্চতার চিমনিতে ইট পোড়ানো হয়। বেশিরভাগেই অবৈধভাবে ড্রাম চিমনি বসানো। সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, মানব বসতির মধ্যে ইটভাটা হচ্ছে। মানুষের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি ইটভাটার আশে পাশের ফসলী জমিতে টপ সেল কাটা হচ্ছে।  ইটভাটায় বনজ, ফলদ গাছ পোড়ানো হয়। দেশের ইটভাটাগুলোয় প্রতিবছর হিসাব ছাড়া ফসলী জমি নষ্ট হচ্ছে এবং পাহাড় কেটে মাটি ও ২০ লাখ টন জ্বালানি কাঠ এবং ২০ লাখ টন কয়লা পোড়ানো হয়। তাদের হিসাবে এ থেকে বছরে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয় প্রায় ৯০ লাখ টন।

এদিকে, পোড়া ইটের বিকল্প হিসাবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। বিশেষ করে সরকারি অবকাঠামো নির্মাণে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে উৎসাহ নেই সংশ্লিষ্টদের। অথচ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজে ইট ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের টেন্ডার ডকুমেন্টসে ব্লক ব্যবহারের হার ১০ শতাংশ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩০ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শতভাগ নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের সরকারি নির্মাণে এই ব্লক ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। সেই হিসাবে চলতি বছরের জুনের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৩০ শতাংশ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও অগ্রগতি এর ধারে-কাছেও নেই।

তবে কর্তৃপক্ষের তেমন তৎপরতা না থাকলেও বেসরকারি পর্যায়ে ব্লক তৈরির জন্য এখন পর্যন্ত দেশে প্রায় ৮০টি কারখানা গড়ে উঠেছে। ভবনে পাঁচটি ইটের বিপরীতে ১টি ব্লক যথেষ্ট। সে হিসাবে ভবন নির্মাণে ইটের চাহিদা পূরণে বছরে ১৮০ কোটি ব্লক দরকার। আর সড়কের উন্নয়ন কাজে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি ব্লক দরকার। অর্থাৎ বছরে ইটের পরিবর্তে মোট ব্লকের চাহিদা হচ্ছে প্রায় ৯৮০ কোটি। অথচ দেশে আনুমানিক ৩০ কোটি মত ব্লক তৈরি হচ্ছে বলে গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়।


বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved