সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০২:৫২ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
টঙ্গীতে সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ এর ওরিয়েন্টেশন ও  নবীনবরণ অনুষ্ঠিত ঢাকার ধামরাইয়ে আমছিমুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি শেরপুরে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘একাত্তরের বীরকন্যা’ জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পরিত্যক্ত ৩টি শুটারগান উদ্ধার করেছে র‍্যাব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় -২ উপনির্বাচনের এমপি প্রার্থী দুইদিন ধরে নিখোঁজ  নওগাঁয় অটো-চার্জার চাপায় এক শিশুর মৃত্যু কালাইয়ে নানা আয়োজন বিশ্ব কুষ্ঠ  দিবস পালিত তুমব্রু সীমান্তের বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম শুরু বর্তমান সরকার শিক্ষাকে আধুনিক ও ডিজিটালাইজেশন করেছে-শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে নোয়াখালী জেলা পুলিশের আয়োজনে সোনাইমুড়ী থানা প্রাঙ্গণে অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ

টিসিবির সেবার মান বাড়ানো, কর্মক্ষমতা  বৃদ্ধি ও আরও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি – চেয়ারম্যান,  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আরিফুল হাসান, পি.এস. সি

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)  সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এটি বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন আপদকালীন সময় নিন্মবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষকে সরকার নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে থাকে। ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-৬৮/১৯৭২-এর মাধ্যমে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। আশির দশকে মুক্তবাজার অর্থনীতি বিকাশের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সীমিত হয়ে আসে। পরে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সরকারি উদ্যোগের অপরিহার্যতা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার টিসিবিকে গতিশীল ও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেয়।

প্রতিষ্ঠানটি দেশের বন্যা,খড়া,মহামারী সহ বিভিন্ন দুর্যোগ তথা পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায় তখন অসহায় গরীব মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে টিসিবি পণ্য। একসময় টিসিবি সম্পর্কে খুব কম মানুষের ধারনা ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছর জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত ২০২০-২১ সালে বিশ্বব্যাপী করোনা মানুষ যখন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী কিনতে হিমশিম খাচ্ছিলো টিসিবি তখন মানুষের স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহ করেছে। দেশের বিভিন্ন দুর্বিপাকের সময় কতিপয় মজুমদার ও অসৎ ব্যবসায়ীরা নিত্য পণ্যের মূল্য  বাড়িয়ে দেয়ার ফলে  বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের টিসিবির ভূমিকা পরিসীম। বর্তমান উর্ধগতির বাজারে  টিসিবি পণ্যই আজ  নিন্মবিত্ত,মধ্যবিত্তদের অন্যতম  ভরসার  স্থল।

টিসিবি যে সব কাজ করেঃ  ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)  যে কয়েকটি কার্যাবলী পরিচালনা করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—সরকারের নীতিমালা অনুসারে মালামাল, আমদানি ও রফতানির ব্যবসা পরিচালনা করা। সময়ে সময়ে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে জরুরি পণ্যের বাফার স্টক গড়ে তোলা ও তা মজুত রাখা।
এছাড়া, আমদানিকৃত মালামাল, পণ্যদ্রব্য, উপাদান বিক্রয় এবং বিতরণের ব্যবস্থা করা এবং এই ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনার অধীনে ডিলার/এজেন্ট নিয়োগ করাও টিসিবির কাজ।

সরকার মনে করে, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির গুরুত্ব অনেক। তাই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই টিসিবিকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। টিসিবি তার কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি পরিচিত ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। তাই, দেশে এমন কোন লোক নেই যে টিসিবিকে চিনেনা। টিসিবি তার কাজের দ্বারা একটি ব্রান্ডে পরিনত হয়েছে। টিসিবির বর্তমান চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আরিফুল হাসান পি,এস,সি। তিনি ২০২০ সালে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৭১ সালের ১২ মে কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালে ৯ জুন ২৮ তম বিএমএ লং কোর্সের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীতে যোগদান করেন। ১৯৯৩ সালে ১৮ জুন আর্মি সার্ভিস কোর-এ কমিশন লাভ করেন ২০০৬ সালে ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ হতে গ্রাজুয়েশন লাভ করেন। পরে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিফেন্স স্টাডিজ- মাস্টার্স করেন। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন  সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশ নেন। কর্ম জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরী করেন।

তিনি সামরিক মহাপরিদপ্তর ও আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড-এ গ্রেড-১ স্টাফ হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন।  বাংলাদেশ লজিস্টিক কন্টিনজেন্ট-এর সাথে সিয়েরা লিয়নে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অংশ নেন। ২০০৮ সালে ইউনামিড দারফুর,সুদান ফোর্স হেডকোয়ার্টার-এর লজিস্টিক স্টাফ অফিসার এর দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্যক্তিগত ও সরকারী কর্মের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য, চীন, তুরস্ক, সৌদিআরব বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, সিয়েরা লিওন, সুদানসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। টিসিবিতে যোগদানের পূর্বে তিনি সেনা সদরে কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তি ও কর্মজীবনে তিনি সৎ,দক্ষ ও দুর্দর্শী কর্মবীর। যোগদানের পর থেকে টিসিবিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি  টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আরিফুল হাসান “দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার” পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক মোঃ জাহিদুর রহমান-কে দেয়া সাক্ষাৎকার-এ যা বলেনঃ

টিসিবির কার্যক্রম বৃদ্ধি ও কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো কি?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আরিফুল হাসানঃ  টিসিবি কার্যক্রম আগের চেয়ে আরও ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে টিসিবি শুধুমাত্র রমজানের সময় নিন্ম আয়ের মানুষের মাঝে তেল, ছোলা, মসুর ডাল, চিনি, খেজুর ইত্যাদি মালামাল সরকার নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হতো। ২০১৯ সালে দেশব্যাপী পিয়াজের দাম প্রতি কেজি ২২০-২৩০ টাকা হয়। তখন পিয়াজ সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এহেন অবস্থায় সরকার বিদেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করে ভর্তুকি  মূল্যে সরবরাহ করে বাজারের চাহিদা পূরণ করে। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার ফলে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম হু-হু করে বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা কষ্ট ও দুঃখ, দুর্দশা বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থা হতে উত্তরণের লক্ষ্যে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে তেল, মসুর ডাল, ছোলা, পিয়াজ, চাল সরবরাহ করে বাজার স্থিতিশীল করার ফলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।

অনেক লোক নামে বেনামে টিসিবির একাধিক ডিলার নিচ্ছে, এব্যাপারে কিছু বলবেন কি?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আরিফুল হাসানঃ টিসিবি ডিলার নিয়োগের ব্যাপারে শতভাগ সততার মাধ্যমে করে থাকে। সাধারণ ও নিন্মবিত্ত মানুষের কথা বিবেচনা করে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরখাস্ত আহবান করে। যেসব ডিলার নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে তাদের সকল কাগজপত্র যাচাই বাছাই করার জন্য জেলা প্রশাসকের বরাবর প্রেরণ করি। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করার আমরা ডিলার নিয়োগ দেই। এ ক্ষেত্রে টিসিবির শতভাগ সততার অবলম্বন করে থাকে। তারপরও  সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

টিসিবি পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ইদানিং স্থানীয় প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর চেয়ারম্যান স্বজনপ্রীতি মাধ্যমে কার্ড করে টিসিবি পণ্য কিনছে, অনেক সময় ডিলারগণের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এমন কি জোর জবরদস্তি করে মাল বিক্রি চাপ প্রয়োগ করছে, এ ব্যাপারে টিসিবি কি ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আরিফুল হাসানঃ এ কথা সবক্ষেত্রে ঠিক নয়। এমন ঘটনা শতকরা ৫%।  কিছু কিছু স্থানে এমন অপ্রিতীকর ঘটনা ঘটলেও,তবে আমাদের কাছে অভিযোগ এলে তার সুষ্ঠ তদন্ত করে সামাধান করে থাকি।

পারিবারিক কার্ড চালু হওয়ায় সাধারণ জনগণ কি ধরনের সুবিধা পাচ্ছে?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আরিফুল হাসানঃ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জিনিসপত্রের দাম সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে। এ অবস্থা হতে উত্তরণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ১ কোটি পরিবারের মধ্য পারিবারিক কার্ড চালু করেছে। ১ কোটি কার্ডের মাধ্যমে ৫ কোটি লোক উপকার পাবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত লোকেরা টিসিবির পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কিনতে পারছে এতে করে তাদের অনেটা অর্থ সাশ্রয়  হচ্ছে। পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে সারা দেশে ১ কোটি পরিবার প্রত্যেকে ২ লিটার তেল, ২ কেজি মসুর ও ১ কেজি চিনি প্রদান করা হয়।

টিসিবি প্রতি বছর কি পরিমাণ পণ্য ক্রয় করে থাকে?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আরিফুল হাসানঃ এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগে টিসিবির কাজ এতটা ব্যাপক ছিলনা আগে শুধুৃমাত্র রমজান মাসে পণ্য বিক্রি করতো। বর্তমানে সরকার কর্তৃক ১ কোটি পরিবারের মধ্যে ২ লিটার তেল, ২ কেজি মসুর ডাল,১ কেজি চিনির চাহিদা পূরণ করতে যতটা পণ্য দরকার ততটা পণ্য ক্রয় করছে।

আপনি টিসিবিতে যোগদেনের পর কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন? 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আরিফুল হাসানঃ টিসিবির কার্যক্রম আরও সময়োপযোগী করারলক্ষ্যে শীঘ্রই ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হবে। ফলে গ্রাহক স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে তার প্রাপ্য মালামাল নিতে পারবে। এছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে ডিলারসিপ পাওয়ার দরখাস্ত করতে পারবে। আমাদের কার্যক্রমকে  শতভাত অনলাইন ও ডিজিটাল করায় বদ্ধপরিকর।

টিসিবির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার আপনি মনে করেন? 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আরিফুল হাসান আপনারা জানেন যে, টিসিবির কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহারে কাজের পরিধি বেড়েছে সেহারে পর্যাপ্ত জনবল নেই। পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে অনেক সময় কাজে ব্যাঘাত ঘটে। তাছাড়া মালামাল রাখার গুদামের ক্যাপাসিটি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরী। কারণ মালালাম রাখার জন্য নিজস্ব গুদাম নেই, তাই টিসিবির নিজস্ব গোড়াউন নির্মাণ করা দরকার। সর্বোপরি টিসিবির কার্যক্রম আরও গতিশীল,সময়োপযোগী ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিনত করার জন্য আমরা বদ্ধ পরিকর। তাছাড়াও জনবল বাড়ানো ও মালামাল রাখার গোডাউন তৈরি করার জন্য মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ করছি। অচিরেই হয়তো সকল সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবো।


বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved