শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।

মনোহরদীতে করোনার মাঝে চলছে ‘বড় আকারে’ মেলা

নরসিংদীর মনোহরদীতে সপ্তাহব্যাপী ডোমনমারা দরগাহ মেলা বন্ধ করার পর পাশেই বীরগাঁও হযরত শাহ সূফী সুরুজ আলী মুন্সির মাজারে আয়োজন করা হয়েছে চার দিনব্যাপী মেলার। বৈশ্বিক মহামারি করোনা বিস্তার রোধে সারা দেশে গণজমায়েত নিষেধ করা হয়েছে। তবে এসব বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে গতকাল রবিবার থেকে সুরুজ আলী মুন্সির মাজারে বড় আকারে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম কাসেম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকির হোসেন উপস্থিত হয়ে ডোমনমারা হযরত সৈয়দ দোস্ত মাহমুদ বাগদাদী রহ. মাজারের মেলা বন্ধ করে দেন।
মেলায় দিনের বেলা লোকসমাগম কম দেখা গেলেও রাতের বেলায় দর্শনার্থীদের ঢল নামে। কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামে সুরুজ আলী মুন্সির মাজারে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
গত ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যেখানে লোকসমাগম জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মেলায় বিপুল সংখ্যক লোক সমাগম হয়। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে সেখানে জড়ো হয় হাজারো ভক্ত। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জনসমাগম করে মেলার আয়োজন করায় করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হযরত শাহ সূফী সুরুজ আলী মুন্সির মাজার প্রাঙ্গনে ওরস, মিলাদ ও মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় প্রায় দুই শতাধিক দোকান বসেছে। দোকানদাররা চারদিনের জন্য এক হাত পরিমাণ জায়গা ২০০ টাকা দিয়ে ভাড়া নিয়েছেন। পাঁচ হাত লম্বা একটি দোকানের জন্য ভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা অগ্রীম দিতে হয়েছে দোকানদারদের। এতে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে হাজারো লোকজন উপস্থিত হন মেলায়। মেলা ও আশপাশে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বেশিরভাগ মানুষের মাঝে নেই করোনার স্বাস্থ্য সচেতনতা। শারীরিক দূরত্ব থেকে শুরু করে মাস্ক পরা এসবের বালাই নেই তাদের মাঝে।
সারা দেশের ন্যায় নরসিংদীতেও নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনাভাইরাস। তবে জনসমাগম নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এর আয়োজন করায় করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানান সচেতন মহল।
মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই মেলা শত বছরের ঐতিহ্য। এবছর দোকানদারেরা আমাদের আয়োজন ছাড়াই স্বেচ্ছায় এখানে এসে দোকান বসিয়েছেন।’
কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এমদাদুল হক আকন্দ বলেন, ‘বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মেলার আয়োজন বন্ধ করার জন্য ইউএনওকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তারপরও কিভাবে এতো বড় মেলা বসেছে সেটা আমার জানা নেই।’
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম কাসেম বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি।’

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved