মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
রেমিটেন্স যোদ্ধাদেরকে সম্মাননা দেবে মহানগর আওয়ামী লীগ- আ জ ম নাছির উদ্দীন যাত্রীর স্বর্ণালংকারসহ ব্যাগ চুরি;এ্যাপসের সহায়তায় সিএনজি চালক আটক রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার তালিকায় স্থান না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবেঃ জেলা প্রশাসক চলচ্চিত্র ‍‘হুইল চেয়ার’র প্রিমিয়ার শো চট্টগ্রাম শিল্পকলায় বৃহস্পতিবার বাগেরহাট জেলার সেরা অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন এসি ল্যান্ড মোঃ আলী হাসান খেলাধুলায় সম্পৃক্ত থাকলে আমাদের সন্তানরা বিপদগামী হবে না-মহিউদ্দীন মহারাজ ভান্ডারিয়ায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন কোভিড-১৯ এর সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশগামী সাধারণ যাত্রীদের সাথে প্রতারণা;চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার নগরীতে র‍্যাব-৭ ও ভোক্তা অধিকার যৌথ অভিযান;১২ হাজার লিটার তৈল জব্দসহ ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি সংস্কার করা হয়েছে 

সন্তান ও সমাজ নিরীক্ষাঃ রাজীব হোসেন

রাজীব হোসেনঃ
খুব জটিল একটি জেনারেশন দেখছে বর্তমান সমাজ। যার পরতে পরতে শিক্ষিত সমাজের বড় অংশ পার্শ্ববর্তী মানুষগুলোকে খুব দারুনভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে তাদের ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা ও আচরণের মাধ্যমে। নিকটতম প্রতিবেশী থেকে শুরু করে ঘরের খুব আপনজন এমনকি স্বল্প পরিচিত মানুষগুলোও মাঝে মাঝে কিছু বিষয়কে এমন ভাবে উপস্থাপন করেন যা সামনের মানুষটির জন্য অসহনীয়। তেমনি কিছু বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চাকুরি, বিবাহ এবং সন্তান। চাকুরি এবং বিবাহ সংক্রান্ত সামাজিক বিশ্লেষণে আরেকদিন বিশদভাবে লিখব তবে আজকে সন্তান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিছু লিখব যেকথা মনের মধ্যে একই সাথে বেশকিছু দিন ধরে পেটের মধ্যেও গুড়গুড় করছে! কথাগুলো না লিখলে শরীর ও মনে বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে সেই ভাবনা থেকেই লিখছি!

একটি মেয়ের গল্প বলতে চাই – যার বিবাহের পূর্বে শরীর খারাপ হলে শিক্ষিত সমাজের চোখে হঠাৎ তার প্রাকৃতিক পিরিয়ডিক্যাল সাইকেলের কথা মনে করিয়ে দেয়। এটা তাদের চিন্তার সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণতার পরিচায়ক একই ভাবে মানুষ হিসেবে একটি মেয়ে যে কোন অসুস্থতায় আক্রান্ত হতে পারে সে ব্যাপারে চিন্তার খোরাক জোগানোর মতো শিক্ষা তারা হয় পাননি নতুবা বুঝলেও অবচেতন মন তাদেরকে চিন্তার সরু রাস্তায় নিতে অভ্যস্ত করায় তারাও সে রাস্তাতে হেঁটে অভ্যস্ত। একইভাবে একজন বিবাহিত নারী তার বৈবাহিক বন্ধনের শুরু থেকে একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত বিশেষ করে প্রথম সন্তান জন্মদানের আগ পর্যন্ত সে যখন কোন রোগ -শোকে আক্রান্ত হয় তখন পরিবার, বন্ধুমহল, প্রতিবেশী বা স্বল্প পরিচিত যে কেউ সে সংবাদে প্রথমেই ধারনা করে নেন বা বলে ফেলেন সে প্রেগনেন্ট কিনা! এমন ধারনা বা বলাতে অনেকে দোষের কিছু না দেখলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই অন্যের বিরুপ মনোকষ্টের কারন কিনা সেটা ভাবার বা বোঝার বোধ অনেকের থাকে না।

যেমন-একটি দম্পতির হয়তো চার -পাঁচ বা তার থেকেও বেশি সময় বিবাহ হয়েছে এখনো নিঃসন্তান। তাদেরকে সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দাতার বা গোষ্ঠীর অভাব নেই এ সমাজে। একই ভাবে নববিবাহিত দম্পতিকে ছ মাস না ঘুরতেই আলাপের কেন্দ্র থাকে তারা বাচ্চা- কাচ্চা নিচ্ছেন কবে এসব নিয়ে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন পরিবারের নিকটজনেরা বিশেষত বাবা- মা -ভাই -বোন- আত্মীয়স্বজন। এরপর লাইনে থাকেন বন্ধু বান্ধব সহকর্মী থেকে শুরু করে আমজনতা। বিবাহের তারিখ যেন তারাই বেশি মনে রাখেন এবং কতদিন বিয়ে হয়ে গেলো অথচ এখনো সুখবর আসলো না এটা নিয়ে তাদের গবেষণার অন্ত থাকে না। নব বিবাহিত দম্পতি তাদের পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে হয়তো কিছুদিন বাদে জানানো আরম্ভ করবে আমাদের উঠতি ফেসবুক জেনারেশন সে পথেই হাঁটছে তার আগ পর্যন্ত ব্যক্তি জীবনের সকল বিষয়কে এতোটা উন্মোচিত করে ব্যবচ্ছেদ করার অধিকার কারো থাকার কথা নয়! ভুক্তভোগী ছাড়া এ কথাগুলোর মর্মার্থ বোঝা কঠিন – বেশ কঠিন।

বিবিধ জটিলতার প্যাঁচে পড়ে অনেক দম্পতি সন্তান ধারণে সক্ষম নাও হতে পারেন বা শারীরিক জটিলতার কারনে বিলম্ব হতে পারে সেটা তাদের এবং একান্তই তাদের দুজনের বিষয় হওয়া উচিৎ। এখানে নাতি- নাতনির, ভাগ্নে ভাগ্নি বা ভাজতে ভাজতির মুখ দেখার জন্য উতলা জনগোষ্ঠীর আহাম্মকী এবং তাদেরকে দূরে ঠেলের দেওয়ার মতো ঘটনার জনক হয়ে ওঠেন। আমি বেশ কয়েকজন দম্পতিকে চিনি যাদের কারো সন্তান হয়না প্রায় পাঁচ বছর, দশবছর বা তারও কম বেশি সময় ধরে। সেসব মানুষগুলো দিব্যি দারুনভাবে জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে বলবে তারা কস্টে আছেন – মূলত আশপাশের মানুষের আহাজারি আর আহা বলার মহোৎসবে তারা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন না- এটাই তাদের বেশি কস্টের কারন।

কোন একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলে তাদেরকে যখন আপন হয়ে জিগেস করেন বাচ্চারা কেমন আছে! কয় ছেলে মেয়ে – তাদের আনেননি ইত্যাদি! আবার যখন জানতে পারেন তারা নিঃস্তান তখন তাদের মুখাবয়ব দেখার মত হয়। যেন তারা কস্টে খান খান হয়ে যান!

আবার অনেকে আগ বাড়িয়ে তার সন্তান কয়বার পেসাব করেছে রাতে – কত কস্ট হয় তাদের এই শীতে সে রসের আলাপটা শুনিয়ে বলেন – একদিক দিয়ে ভালোই আছেন! পোলাপান মানুষ করা খুব কঠিন ভাবী! কি যে যন্ত্রণা – বেঁচে গেছেন! তাদের বলি – আপনার সন্তানকে জঙ্গলে রেখে আসেন! কিছু আবেগের জায়গাতে কোন সান্ত্বনা চলে না- সন্তান তেমন একটি ইস্যু! করোনার কঠিন মূহুর্তে কেউ ফেসবুকে দারুন সব খাবারের ছবি দিলে যেমন অনেকের খারাপ লেগেছে এই ভেবে – সেই কঠিন সময়ে অনেকের ঘরে তিনবেলা আহার জোটানো কঠিন ছিলো!

তেমনি আপনাদের লাল টুকটুকে এন্জেলদের লাফালাফি আর ঝাঁপাঝাপির ছবি দেখে অনেকের বুকে হাহাকার করে সেটা দোষের কিছু নয়! আমি আরো কয়েকজনকে চিনি যারা কোন সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন শুধু এই মুখরা মানুষের আলাপ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য একটু ভালো থাকার জন্য! দুজন মানুষের ভালো থাকাটা শুধু দুজনের বিষয় হলে পৃথিবীটা আরো সুন্দর হতো। সেখানে অনেক মানুষ ঢুকে পড়ে যারা ব্যক্তিগত সব বিষয়ে অতি উৎসাহী হয়ে নাক গলিয়ে ফেলেন যা সুখকর হয় না কারো জন্য। এর চেয়ে বরং নিজেকে নিয়ে ভাবতে শেখা উচিত। কারন অন্যকে নিয়ে আমরা এতো বেশি ভাবনা চিন্তা করি যে – কখন নিজের পায়ের নিচের তলাটা ক্ষয় হয়ে যাবে একটুও বুঝবেন না – শুধু তখনই চোখে পড়বে যখন দেখবেন অন্যরা বলবে আপনার পায়ে ধূলা লেগে আছে একটু পরিষ্কার করুন!

লেখকঃ রাজীব হোসেন- সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/৬ঃ৩০পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved