শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
এনজিও খেকে অন্যের নামে ঋণ উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ; স্বামী স্ত্রী আটক এনজিও খেকে অন্যের নামে ঋণ উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ; স্বামী স্ত্রী আটক পুলিশ সদস্যের কব্জি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় সন্ত্রাসী কবির গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক সহযোগীসহ আটক নগরীর কোতোয়ালি থেকে ছিনতাইকৃত টাকাসহ ১ ছিনতাইকারী আটক বিচক্ষন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,দক্ষ সংগঠক ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসাবে কেমন আ জ ম নাছির উদ্দিন? ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন  আসার পর ফুলপুরে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। ভুট্টা মাড়াই শেষে,  রাস্তার ধারে ভুট্টা গাছ পুড়ছে চাষীরা ।  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তার দু’ধারের নারিকেল গাছ  ।  গত কাল ছবিটি পোল্যাকান্দি প্রধান সড়ক থেকে তোলা ।  প্রেমের সম্পর্ক করে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল;এক সাইবার প্রতারক আটক সিআরবি সাত রাস্তার মোড় থেকে চুরিকরা মোটরসাইকেলসহ আটক ১ আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রামে র‍্যাবের সাঁড়াশি অভিযান;সাতকানিয়ার সহিংসতার ঘটনায় ৮ সন্ত্রাসী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সহিংসতার ঘটনায় র‌্যাব-২, র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১৫ যৌথ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ৮ সন্ত্রাসীকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ চট্টগ্রাম মহানগরী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বান্দরবান সদর ও ঢাকা মহানগরীর তেজকুনীপাড়া হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ও আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত আসামীরা হলেন, সাতকানিয়া্র জামাল উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন (৩১) হাজী শামসুল ইসলামের ছেলে মোঃ মোরশেদ (২৬),সাত্তার মিয়ার ছেলে কোরবান আলী (৩৭),মৃত আলী আহাম্মদের ছেলে মোঃ ইসমাঈল (৫৫) চান্দনাইশের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মোঃ মিন্টু (২৬) ,সাতকানিয়ার জাগির হোসেনের ছেলে মোঃ কায়েস (২২) ও মুজাফফর আহমেদের ছেলে মোঃ জসিম (২৪) এবং আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ নুরুল আবছার (৩৩)।

র‍্যাব-৭ এর সিনিঃ সহকারী পরিচালক মোঃনুরুল আবছার জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কতিপয় অস্ত্রধারী দুষ্কৃতিকারী ব্যাপক সহিংসতা ও নাশকতা চালায়। উক্ত সহিংসতার ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রুজু করা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নঘটায় গণমাধ্যমসমূহে সহিংসতাকারীদের চিহ্নিত করে গুরুত্বের সহিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব উক্ত সহিংসতা ও নাশকতার সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

তিনি জানান, এরই ধারাবাহিকতায় উক্ত সহিংসতায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখার তত্বাবধানে র‌্যাব-২, র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১৫ অভিযান পরিচালনা করে ৮ জনকে আটক করে। পরে সাতকানিয়ার খাগরিয়া হতে উদ্ধার করা হয় সহিংসতায় ব্যবহৃত ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি দোনলা বন্দুক, ১টি ওয়ান শুটারগান, অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ও ৪২ রাউন্ড গোলাবারুদ।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সহিংসতায় শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী উক্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও নাশকতা চালায়। হামলায় নিহত হয় ২ জন ও অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়। সহিংসতার ঘটনায় সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের ২টি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার কারণে গণমাধ্যমসমূহ বর্ণিত সহিংসতার ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে নেয় এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করতঃ বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব চিহ্নিত সন্ত্রাসীসহ জড়িত অন্যান্য সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এজন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যম সমূহকে র‌্যাব ফোর্সেস এর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

তিনি জানান ,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় গ্রেফতারকৃত মোঃ কায়েস গত দুই বছর যাবত চট্টগ্রামে একটি কোম্পানীতে চাকুরী করে আসছে। পাশাপাশি সাতকানিয়া উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব প্রদান করে থাকে। সে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য ৩০-৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল পরিচালনা করত। সে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে তার দলের সদস্যদের সরবরাহ করত বলে জানা যায়। বর্ণিত সহিংসতার ঘটনায় তার নেতৃত্বে জসিম, মোর্শেদ, মিন্টু, আবছারসহ আরো শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চালায়। সহিংসতা পরবর্তীতে সে ঢাকায় আত্মগোপন করে। সে বর্ণিত সহিংসতায় সাতকানিয়া থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভ‚ক্ত আসামী। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় সহিংসতার মামলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত নাসির একটি কোম্পানীর চট্রগ্রাম বন্দর শাখার কর্মচারী। সে ২০১১-১৩ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী ছিল। পরবর্তীতে দেশে এসে ঢাকার শাহাবাগে ফুল বিক্রি করত। সে উক্ত সহিংসতায় সশস্ত্র দলের নেতৃত্ব প্রদান করেছে বলে জানা যায়। সহিংসতাকালীন নাসিরকে মেরুন রংয়ের মাফলার ও মুখে লাল-সবুজ রং এর মাস্ক পরিহিত অবস্থায় একটি একনলা বন্দুক হাতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সে বান্দরবানের গহীন জঙ্গলে আত্মগোপন করে। সে বর্ণিত সহিংসতায় সাতকানিয়া থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভ‚ক্ত আসামী।

গ্রেফতারকৃত আবছার ঢাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান সমিতির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। যখনি সাতকানিয়ায় কোন সহিংসতার সম্ভাবনা দেখা দেয় তখন সে এলাকায় চলে আসে। সে নির্বাচনের পূর্বে ঢাকা হতে সাতকানিয়াতে গমন করে এবং কায়েসের নির্দেশে সাতকানিয়ার খাগরিয়াতে সহিংসতাকালীন সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব প্রদান করে। পরবর্তীতে সে ঢাকায় চলে আসে ও আত্মগোপন করে। সে কায়েসকেও আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করে। আবছারকে ঢাকার তেজকুনী পাড়া হতে গ্রেফতার করা হয়। সে বর্ণিত সহিংসতায় সাতকানিয়া থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভ‚ক্ত আসামী। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় সহিংসতার মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত মোরশেদ কায়েসের গ্রুপের একজন অন্যতম সক্রিয় সদস্য। সে পেশায় একজন সিএনজি চালক। তাকে ঘটনার দিনে একটি একনলা বন্দুক হাতে সহিংসতা ও নাশকতা চালাতে দেখা যায়। সহিংসতার পর সে সাতকানিয়াতে আত্মগোপনে থাকে। সে বর্ণিত সহিংসতায় সাতকানিয়া থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভ‚ক্ত আসামী। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় সহিংসতার মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত জসিম খাগরিয়ার বাসিন্দা ও পেশায় রাজমিস্ত্রী হলেও চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন সহিংসতায় বিভিন্ন সময়ে অংশ নেয়। সহিংসতাকালীন একটি ছবিতে লাল জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় তাকে কার্তুজ/এ্যামোনিশনের একটি বস্তাসহ গ্রেফতারকৃত মোরশেদের পাশে দেখা যায়। সহিংসতার পর সে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আত্মগোপন করে।

গ্রেফতারকৃত মিন্টু পেশায় গাড়ি চালক। সে বিগত ১৩-১৪ বছর যাবত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ায় মাইক্রোবাস চালিয়ে আসছে। কায়েসের নির্দেশে সে সহিংসতার উদ্দেশ্যে বাহির থেকে অস্ত্র পরিবহণ করে। এছাড়াও তার তত্বাবধানে সহিংসতার উদ্দেশ্যে ৩০-৩৫ জন বহিরাগত’কে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়। সহিংসতাকালীন তাকে ১টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়। তার বিরুদ্ধে চান্দনাইশ থানায় দস্যুতা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত কোরবান আলী পেশায় একজন নিরাপত্তাকর্মী। সে বর্ণিত সহিংসতাকারীদের লাঠিসোঠা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র সরবরাহ করার মাধ্যমে সহিংসতায় প্রতক্ষ্যভাবে অংশগ্রহণ করে। সহিংসতার পরবর্তীতে সে সাতকানিয়াতে আত্মগোপনে থাকে। তার বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ইসমাঈল পেশায় একজন জমির দালাল। পূর্বে রংপুর হতে তামাক সংগ্রহ করে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করত। সে সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নে সহিংসতায় লাঠিসোঠা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। সহিংসতার পরবর্তীতে সে সাতকানিয়াতে আত্মগোপনে থাকে। সে বর্ণিত সহিংসতায় সাতকানিয়া থানায় অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভূক্ত আসামী।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত কায়েস বেশ কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে ভাড়ায় অস্ত্র সংগ্রহ করত বলে তথ্য পাওয়া যায়। অস্ত্র সংগ্রহ করে কায়েস তার বিশ্বস্ত সদস্যদেরকে অস্ত্র সরবরাহের দায়িত্ব দিত। তারা গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদেরকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সহিংসতায় অস্ত্র সরবরাহ করত। কার্যশেষে অস্ত্র ফেরত দিলে তারা স্থানীয় কবরস্থান ও পুকুরপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে সেসব অস্ত্র লুকিয়ে রাখত।

র‍্যাব-৭ এর সিনিঃ সহকারী পরিচালক মোঃনুরুল আবছার জানান,জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃতরা গত ০৭ ফেব্রুয়ারি সাতকানিয়াতে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বানচল করার অপচেষ্টার উদ্দেশ্যে উক্ত সহিংসতা ও নাশকতা চালায়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/৫ঃ১৭পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved