বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
ছাতকের পরিস্থিতি ভয়াবহ,সারা‌দে‌শে সঙ্গে সড়ক যোগা‌যোগ বন্ধ পিরোজপুরে বাস চাপায় কলেজ ছাত্র নিহত ১৭ মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,গণতন্ত্রের অগ্নিবীণা ও উন্নয়ন-প্রগতির প্রত্যাবর্তনঃ তথ্যমন্ত্রী নাজিরপুর অঞ্চলের কৃষকের স্বপ্ন প্রতি বছর তলিয়ে যায় পানির নিচে কালিহাতীতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন রাজশাহী জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের ভোট স্থগিত প্রফেসর ডাক্তার উত্তম কুমার বড়ুয়াকে সংবর্ধিত করলো মিলন-পুর্নিমা ফাউন্ডেশন ঈদগাঁওর ৫ ইউনিয়নে আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঙ্গাভাব: উচ্ছাস তৃনমূলে চট্টগ্রামের হিজরা সুমন মানবিক কাজে আত্ম তৃপ্তি পান সরিষাবাড়ীতে দুই শিশু শিক্ষার্থী হারানোকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হামলা ভাঙচুর ও শিক্ষককে লাঞ্ছিত

জলদস্যূ কামাল বাহিনীর প্রধান কামালসহ ৫ জলদস্যু আটক;বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রাম-হাতিয়া চ্যানেলে ৭২ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে জেলেদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অপরাধে কুখ্যাত জলদস্যূ কামাল বাহিনীর প্রধান কামালসহ মোট ৫ জন জলদস্যু বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার। এসময় অপহৃত ৪ জন ভিকটিম ও ১টি ট্টলার উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম।

গতকাল মঙ্গলবার ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪ঃ১৫ মিনিটের সময় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আজ বুধবার ১৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২ঃ০০ টায় র‍্যাব-৭ এর সিপিসি-৩, চাঁদগাঁও ক্যাম্প (বহদ্দারহাট) এ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং তাদের আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এম এ ইউসুফ।

আটক কৃত জলদস্যুরা হলেন, নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর থানাধীন চর পানাউল্যাহ এলাকার মনসুর আহমদের ছেলে মোঃ কামাল (৩৫),  মধ্যম ব্যাগ্যা এলাকার মোঃ মনছুর আহমদের ছেলে মোঃ নূর নবী (২৬), লক্ষীপুর জেলার রামগতি থানাধীন নুর উদ্দিন মাঝির ছেলে মোঃ শামীম (২৪) ও একই থানাধীন বড়খিরি এলাকার মোঃ আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ এ্যানি (৩১) এবং বড়খিরি এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে মোঃ ফেরদৌস মাঝি (৩৫)।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড পূর্বজোন এর মাধ্যমে জানা যায় কুখ্যাত জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা চট্টগ্রাম-হাতিয়া চ্যানেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা জেলেদের ব্যবহৃত কাঠের ট্রলার সহ জেলেদের জোরপূর্বক অপহরণ করে আটক করে মারধর করে জেলেদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং বোট মালিকের নিকট ফোন করে মোটা অংকের টাকা মুক্তিপন দাবী করছে। সংবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জেলেদের জীবনের নিরপত্তা এবং চট্টগ্রাম সীপোর্ট এলাকার দেশী বিদেশী জাহাজের মালামালসহ নাবিকদের নিরাপত্তা চট্টগ্রাম বন্দরের ইমেজ এর সম্পর্কৃত। বিষয়টি র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে এবং এ বিষয়ে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা প্রদানের জন্য র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর গোয়েন্দা বিভাগকে সমন্বিত করা হয়। পরবর্তীতে র‌্যাব-৭ কোস্টগার্ড পূর্বজোন এবং র‌্যাব ফোর্সেস গোয়েন্দা বিভাগের সার্বিক সহযোগীতায় ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। প্রায় ৩ দিন ধারাবাহিক অভিযানের ফলে  র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোডের একটি ভবনের ২য় তলায় অভিযান পরিচালনা করে ৫ জন জলদস্যুকে আটক করে। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে উক্ত ভবনের ২য় তলার ছাদের উপর থেকে ১ টি একনালা বন্দুক, ২ টি ওয়ান শুটারগান, ৩ টি রামদা, ৩ টি চাপাতি, ১ টি ধারালো চাকু এবং ১ টি ক্ষুর উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, এই কুখ্যাত জলদস্যুদের মধ্যে মোঃ কামাল মূলত এই দলটির প্রধান ছিলো। এই কারণেই সে তাদের বাহিনীর সকল অপকর্মের পরিকল্পনা করত এবং উল্লেখিত ঘটনায় ভিকটিমদের আত্বীয়-স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদ এর মাধ্যমে টাকা আদায় করত। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতিসহ ২ টির ও বেশী মামলা রয়েছে। ধৃত জলদস্যু মোঃ নূরনবী এই ডাকাত দলের বোট এবং পারের টাকা পয়সা আদায় সংক্রান্তে তথ্য আদান-প্রদান ও তাদের খাবার সরবরাহ করত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও ডাকাতিসহ ৩ টির ও বেশী মামলা রয়েছে। ধৃত জলদস্যু মোঃ শামীম ভিকটিমদেরকে বোটের মধ্যে আটকে রেখে বিভিন্ন রকম অত্যাচারসহ পাহারা দিতো। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও ডাকাতিসহ একাধীক মামলা রয়েছে। ধৃত জলদস্যু মোঃ এ্যানি অপহরণকৃত ভিকটিমদের অমানবিক নির্যাতন করতো এবং ঐ সময় তাদের আত্বীয় স্বজনদেরকে ফোনের মাধ্যমে আর্তনাদ শুনিয়ে দুর্বল করে মুক্তিপণ আদায়ে কৌশল অবলম্বন করত এবং সর্বশেষ ধৃত জলদস্যু মোঃ ফেরদৌস মাঝি ভিকিটিমদেরকে বোট চালিয়ে সাগর পারের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখার ব্যাপারে সহায়তা করত।

এম এ ইউসুফ বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় তৈরী অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জি¦ত হয়ে উল্লেখিত ৪ জন ভিকটিমসহ ১টি কাঠের ট্রলার বঙ্গোপসাগরের চট্টগ্রাম হাতিয়া চ্যানেলে মাছ ধরা অবস্থা হতে জোরপূর্বক মুক্তিপন আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে। পরবর্তীতে আসামীদের দেয়া তথ্য মতে চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড সংলগ্ন সাগর তীরবর্তী বেড়িবাধের নিকট হতে জোরপূর্বক ছিনতাইকৃত বোটের কেভিন হতে ৪ জন ভিকটিম সহ উক্ত বোটটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম কর্তৃক চটগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে কবীর বাহিনীর প্রধানসহ মোট ১৫ জন জলদস্যুকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ আটক করে।

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/২ঃ০৮পিএম

 

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved