বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
ছাতকের পরিস্থিতি ভয়াবহ,সারা‌দে‌শে সঙ্গে সড়ক যোগা‌যোগ বন্ধ পিরোজপুরে বাস চাপায় কলেজ ছাত্র নিহত ১৭ মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,গণতন্ত্রের অগ্নিবীণা ও উন্নয়ন-প্রগতির প্রত্যাবর্তনঃ তথ্যমন্ত্রী নাজিরপুর অঞ্চলের কৃষকের স্বপ্ন প্রতি বছর তলিয়ে যায় পানির নিচে কালিহাতীতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন রাজশাহী জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের ভোট স্থগিত প্রফেসর ডাক্তার উত্তম কুমার বড়ুয়াকে সংবর্ধিত করলো মিলন-পুর্নিমা ফাউন্ডেশন ঈদগাঁওর ৫ ইউনিয়নে আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঙ্গাভাব: উচ্ছাস তৃনমূলে চট্টগ্রামের হিজরা সুমন মানবিক কাজে আত্ম তৃপ্তি পান সরিষাবাড়ীতে দুই শিশু শিক্ষার্থী হারানোকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হামলা ভাঙচুর ও শিক্ষককে লাঞ্ছিত

আশুলিয়া্র চাঞ্চল্যকর শহিদুল ইসলাম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ৭ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর শহিদুল ইসলাম (৩২) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ আলমগীর (২৯) সহ ৭ জনকে টাঙ্গাইল, শেরপুর এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত পর্যন্ত টাঙ্গাইল, শেরপুর এবং ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডে জড়িত জামালপুর জেলার মোঃ আলমগীর (২৯), গাইবান্ধা জেলার ওবায়দুল হকের মেয়ে ববিতা খাতুন ওরফে আকলিমা (২৪), ঢাকা জেলার মোঃ সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ সাগর হোসেন বাবু ওরফে কালা বাবু (২২), মানিকগঞ্জ জেলার মোঃ বাবলু শেখ এর ছেলে মোঃ মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ (২০), ঢাকা জেলার মোঃ ওহেদুর রহমান এর ছেলে মোঃ আফজাল হোসেন (২৬) ও বরিশাল জেলার মোতাহার আলী খান এর ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম খান ওরফে সাগর (৩৯) এবং ঢাকা জেলার মোঃ রেজাউলের ছেলে মোঃ রাকিব শেখ (২২)।

র‍্যাব সুত্রে জানা যায়, ভিকটিম শহিদুল ইসলাম ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন বাইপাল বুড়ির বাজার এলাকায় যৌথভাবে কর্ণফুলি শ্রমজীবি সমবায় সমিতি লিঃ পরিচালনা করে আসছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ভিকটিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল থেকে তার ব্যবসায়ীক পার্টনার মাসুদকে ভিকটিম শহিদুল ইসলাম অসুস্থ্য হয়ে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় পড়ে আছে বলে জানায়। তখন মাসুদ ভিকটিম শহিদুলকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে আশুলিয়ায় ডেন্ডাবর কাঠাল বাগান ফয়েজের মোড় এলাকায় তাকে অসুস্থ অবস্থায় অটোরিক্সার মধ্যে দেখতে পায়। তাৎক্ষণিক মাসুদ ভিকটিম’কে চিকিৎসার জন্য প্রথমে পলাশবাড়ীস্থ হাবিব হাসপাতা্লে পরবর্তীতে ভিকটিমের অবস্থা গুরুতর দেখে মুজারমিল ল্যাব-১ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ভিকটিমের শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে গত ১০ ফেব্রুয়ারি শহিদুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। এ সংক্রান্তে ভিকটিমের ভাই মোঃ আবুল মনসুর (৫০) বাদী হয়ে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই নির্মম হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ বর্ণিত হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকারীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে দ্রুততার সাথে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

র‌্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক (অপস্ অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল, শেরপুর এবং ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডে জড়িত ৭ জনকে আটক করে। এসময় আসামী মাসুদের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত রক্তমাখা জ্যাকেট ও তাদের ব্যবহৃত ১০ টি এবং ভিকটিমের সাথে থাকা ১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

তিনি জানান, আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আলমগীর ভিকটিমের সমিতির পার্টনার। সে অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ প্রাপ্তির লোভে, অর্থের বিনিময়ে তার পূর্ব পরিচিত একটি মেয়ে (ববিতা) কে রাজি করায় এবং পরবর্তীতে মেয়েটি অত্যন্ত সুকৌশলে প্রেমের সর্ম্পক তৈরী করে ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে।

তিনি আরও জানান, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি আসামী ববিতা ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ফোনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে আসে। ববিতা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে নিয়ে ঘটনাস্থল আশুলিয়া পলাশবাড়ী তালতলা মাঠে পৌঁছামাত্রই পূর্ব থেকেই অবস্থান নেওয়া আসামীগণ ও পলাতক আসামী মিলন, পিন্টু ও ধলা বাবুসহ ভিকটিমকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে হাতুড়ী এবং লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ধৃত আসামীরা ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার সমিতির পার্টনার দিদারুল ইসলামের নিকট হতে মুক্তিপণ বাবদ ১,০০,০০০ (এক লক্ষ টাকা) বিকাশ করে দেওয়ার জন্য বলে। মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় আসামীরা পুণরায় হাতুড়ী এবং লাঠি দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন অংশে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। ভিকটিম গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে আসামী আফজাল ভিকটিমকে আশুলিয়ার নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড হতে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমিতির পার্টনার মাসুদকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায়। আসামীরা ভিকটিমকে অচেতন অবস্থায় আশুলিয়ার নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি অটোরিক্সায় রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর ধৃত আসামীরা বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে অবস্থান করতে থাকে মর্মে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/৭ঃ৫৪পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved