শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
বারইয়ারহাটে র‍্যাবের উপর মাদক কারবারিদের পরিকল্পিত হামলা ও ঘটনার বিশ্লেষণ ইতিহাস৭১.টিভির বর্ষপুর্তি উপলক্ষে আলোচনা ও কেক কাটা অনুষ্ঠান সম্পন্ন এসিল্যান্ড মাসুদ রানার অঙ্গীকার, ভুমি সেবা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ ঋণের দিক দিয়ে এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে ভালো: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভাণ্ডারিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে “ভোক্তা অধিকার বিভাগ” চায় ক্যাব চকরিয়ায় ইউপি সচিবের উপর হামলার ঘটনায় ইউপি মেম্বার কারাগারে নিকলীতে কৃষক রেনু হত্যার এক মাসেও আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে সরিষাবাড়ীতে কচুড়িপানায় নদীর উপর রাস্তা : ভরা নদীর বুকে চালাচ্ছে সাইকেল, খেলছে ফুটবল নরসিংদীতে দুর্ঘটনার কবলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ত্রাণবাহী পিকআপ ভ্যান

আমার বোন আরিশা-আরিয়ার ভাবনা-১

মোহাম্মদ রুহুল আমিনঃ
আমার নাম আরিয়া আর আমার বড় বোন আরিশা।আমার বয়স তেমন কিছু বেশি না।দুই মাসের সামান্য বেশিটেশি হবে হয়তো।আমার নামকরণের ইতিহাসটা আগে ফেলা যাক।দুনিয়ার সব বাচ্চাকাচ্চাদের নাম ঠিক করে তাদের ময় মুরুব্বিরা অথচ আমার বেলায় উল্টোটাই ঘটেছে।আমার নাম রেখেছে আমার বোন,যে নিজেই কিনা নিজের নামটা ঠিকঠাক বলতে পারে কিনা সন্দেহ,সে তার নিজের নামের সাথে মিল রেখেই আমার নাম রেখেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে,আরিশার সাথে মিল রেখে আরিয়া,অনেকটা সাথির সাথে মিল রেখে হাতি রাখার মতই।দুনিয়ায় এক গ্যাদা বাচ্চার নাম আরেক গ্যাদা বাচ্চা রেখেছে কিনা কে জানে।আমার বোন আরিশা কিন্তু খুব ডিস্টার্ব।
আরিশার যন্ত্রনায় আমার ঘুমের জগত আউলাঝাউলা হয়ে গেছে।এমনিতেই সামান্য শব্দ হলেই আমার ঘুম ভেঙে যায়, এমনকি সামান্য শব্দ করে শ্বাস নিলেও আমি চমকে উঠি অথচ আমার বোন সারাক্ষণ কানের কাছে হৈ চৈ করে।মা দুই ঘন্টা চেষ্টা করে যখন আমাকে প্রায় ঘুম পাড়িয়ে ফেলেছেন অমনি আমার বোন এসে এমন হাউকাউ করে যে ঘুম তো দূরের কথা জেগে থাকাই মুশকিল হয়ে উঠে।মাঝেমাঝে চকলেট বিস্কিট দিয়ে বলা হয় আরিশা তোমার ছোটো বোন ঘুমায় তুমি শব্দ করিও না,আরিশা ঘাড় কাত করে জানায় সে শব্দ করবেনা অথচ চকলেট বিস্কিট খাওয়া শেষ হওয়া মাত্রই আমি ঘুমাতে না ঘুমাতেই সে হাজির হয়ে বলে আমাকে আরও চকলেট দাও তা না হলে আমি শব্দ করে আরিয়ার ঘুম ভেঙে দিব,কোনো মানে হয়?আমার বোন আরিশা একদিন বিকট শব্দে কান্না করে আমার ঘুম ভেঙে দিল,মা চিন্তিত মুখে জিজ্ঞাস করলেন-আরিশা তুমি কাঁদো কেন?
সে বলে দুই সপ্তাহ আগে মা নাকি তাকে মাইর দিয়েছে সেই ব্যাথায় সে কান্না করছে,আমার ঘুমে ডিস্টার্ব করার জন্য কি অদ্ভুত ধরনের অজুহাত চিন্তা করা যায়!মা যদি বলেন,আরিশা বোনকে একটু দেখো আমি একটু কাজ করি,সে বলে আমি ছোটো মানুষ আমি দেখতে পারব না বাবাকে বলো।অথচ আমি ঘুমানো মাত্রই সে মা’কে বলে মা আমি বোনের পাশে থাকি??মা খুশি হয়ে বলে,থাকো।এরপরে সে আমার পা ধরে টানাটানি করে,পা ধরে টানলে কি কেউ ঘুমাতে পারে??আমার বোন এরকম ডিস্টার্ব। আমার বোন যখন মোবাইলে ভিডিও দেখে তখন যদি আমি কান্না করি তখন সে ভারী বিরক্ত হয়ে মা’কে বলে তোমার মেয়ের যন্ত্রনায় ত আমাকে বাসা ছাড়তে হবে অথচ আমি ঘুমালে সে নানান কায়দাকানুন করে আমার ঘুম ভেঙে দেয় আমি কিন্তু বাসা ছেড়ে যাওয়ার কথা বলিনা,গলা ফাটাই কান্না করি শুধু।
ঘুমে ডিস্টার্ব করলে আমি ত আর বড়দের মত বলতে পারিনা- এই ফাজিল মেয়ে যাও আমাকে ডিস্টার্ব করিও না।কিংবা বাবার মত বাঁজখাই গলায় বলতে পারিনা- ঘুমের সময় ডিস্টার্ব করলে কিল দিয়া পিঠ ফাটাই দিবো,যদিও আমি জানিনা কিল মানে কি।আমি শুধু কান্না করি কারন আমার হাতে অস্ত্র এই একটাই।এই কান্না নিয়াও আমার ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে,আমি নাকি এমনভাবে কান্না করি যে আশেপাশের দুই গ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে যায়, এই অভিযোগটা ডাহা মিথ্যা কারন আমার কান্না শুনে পাশের বাসার আন্টিও কখনো এসেছেন বলে শোনা যায় নাই।আমি কান্না করলে বাবা মা আমাকে বিস্বাদ এক ধরনের সিরাপ খাইয়ে দেন।অথচ তাদের উচিৎ ছিলো লেভেল স্লিপিং ফিল্ড(সবার জন্য ঘুমের সমান পরিবেশ) সৃষ্টি করা।
জানেন আমাদের বাসায় দুই ধরনের নিয়ম।আমি কান্নাকাটি করলেই বাবা মা আমাকে কান্না কামানোর ঔষধ খাওয়াই দেন,প্রথমে আমি ভেবেছিলাম কান্না করলে বোধহয় সবাইকেই সিরাপ খাওয়াতে হয় এটাই প্রচলিত নিয়ম,যদিও ঔষধ খেয়ে আমার কান্না একটুও কমেনা।আমি কান্না করলে আমাকে জোর করে ঔষধ খাইয়ে দেয় অথচ আমার বোন কান্না করলে তাকে চকলেট নামক এক ধরনের বস্তু দেয়া হয়।এমনকি মা যখন বাবার সাথে ঝগড়া করে কান্নাকাটি করে মায়ের কান্না থামানোর জন্যও মা’কে কোনো সিরাপ খাওয়ানো হয়না,যত অনিয়ম শুধু আমার সাথেই। আমার কান্নার কারন যে ঘুমের ব্যাঘাত এটা বাবা মা কেন বুঝতে পারেনা সেটাই আমার কাছে এক বিস্ময়।বাসায় লেভেল স্লিপিং ফিল্ড তৈরি না করে বাবা মা আমাকে পঁচা স্বাদের ধরনের সিরাপ খাওয়ান,কোনো মানে হয়?আমার বোন আরিশাকে ঘন্টা দুই বেধে রাখলেই যে সিরাপের দরকার হয় না বড়রা এই সহজ বিষয়টা ধরতে পারছেনা কেন কে জানে।
চলবে……

লেখকঃ মোহাম্মদ রুহুল আমিন-ভারপ্রাপ্ত সচিব বাংলাদেশ চা বোর্ড ও সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা হাটহাজারী উপজেলা।

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/১১ঃ১০পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved