মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
রেমিটেন্স যোদ্ধাদেরকে সম্মাননা দেবে মহানগর আওয়ামী লীগ- আ জ ম নাছির উদ্দীন যাত্রীর স্বর্ণালংকারসহ ব্যাগ চুরি;এ্যাপসের সহায়তায় সিএনজি চালক আটক রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার তালিকায় স্থান না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবেঃ জেলা প্রশাসক চলচ্চিত্র ‍‘হুইল চেয়ার’র প্রিমিয়ার শো চট্টগ্রাম শিল্পকলায় বৃহস্পতিবার বাগেরহাট জেলার সেরা অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন এসি ল্যান্ড মোঃ আলী হাসান খেলাধুলায় সম্পৃক্ত থাকলে আমাদের সন্তানরা বিপদগামী হবে না-মহিউদ্দীন মহারাজ ভান্ডারিয়ায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন কোভিড-১৯ এর সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশগামী সাধারণ যাত্রীদের সাথে প্রতারণা;চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার নগরীতে র‍্যাব-৭ ও ভোক্তা অধিকার যৌথ অভিযান;১২ হাজার লিটার তৈল জব্দসহ ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি সংস্কার করা হয়েছে 

গলাচিপায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই কোন শহিদ মিনার শ্রদ্ধা জানাতে পারেনি শিক্ষার্থীরা

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার থাকার কথা থাকলেও পটুয়াখালীর গলাচিপার মহিলা ডিগ্রি কলেজসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহিদ মিনার। ফলে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশে ফেব্রুয়ারিতে আয়োজন হয় না কোনো অনুষ্ঠান।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয় উপজেলার একমাত্র গলাচিপা মহিলা ডিগ্রি কলেজ। কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। একুশে ফেব্রæয়ারিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারলেও এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কলেজটির শিক্ষার্থীরা।
কলেজের শিক্ষার্থী আছমা আক্তার বলেন, ভাষার জন্য যারা শহিদ হয়েছেন, যাদের জন্য আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি, বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি, কলেজে শহিদ মিনার না থাকায় সেই শহিদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারছি না। আমরা কলেজে শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি করছি। আমরা যেন আগমী বছর একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করে ফুল দিতে পারি।
মোসাঃ তুলি আক্তার নামে আরেক এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজে শহিদ মিনার নেই, তাই ফুল দিতে পারি নাই। কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী মোসাঃ তানিয়া বলেন, কলেজে ভার্তি হবার পর থেকে কোন দিনই একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করতে পারি নাই। আমরা চাই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহিলা কলেজে একটি শহিদ মিনার।
কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান বলেন, ১৯৯৮ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এমপিওভুক্ত হয় ২০০১ সালে। বর্তমানে প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী এই কলেজে পড়াশুনা করলেও এখন পর্যন্ত শহিদ মিনার তৈরি হয়নি। ফলে একুশে ফেব্রুয়ারি আসলে শহিদ মিনার না থাকায় আমরা দিনটি যথাযথভাবে পালন করতে পারি না। কয়েক বছর আগেই উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি। এখন আমরা নিজেদের উদ্যোগে শহিদ মিনার বানাবো।
শুধু গলাচিপা মহিলা ডিগ্রি কলেজেই নয়, পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উদায়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও নেই শহিদ মিনার। উপজেলা আ.মীলীগের সভাপতি অধ্যাপক সন্তোষ কুমার দে বলেন, সরকারী নির্দেশনায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠছে না শহিদ মিনার। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশ স্বাধীনতার ৫১ বছরেও গড়ে উঠেনি শহিদ মিনার। শহিদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস, ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে না। শিক্ষার্থীদের অনেক দুর দুরন্তে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা টিটো বলেন, স্বাধীনতার ৫১ বছরেও গলাচিপা অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই, এটি আমাদের জন্য লজ্জাকর এবং দুঃখজনক। আমার ভাবতে অবাক লাগে, যে জাতি ভাষার জন্য রক্ত দিল, সেই জাতির দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই। এর জন্য দায়ী প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফা বলেন, উপজেলায় মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ মিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৫টি। এর মধ্যে প্রায় ১৫টি শিক্ষাতিষ্ঠানে শহিদ মিনার রয়েছে। বাকি ৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই। যাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই তারা কলাগাছ দিয়ে কোন রকম চালিয়ে গেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved