বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
১৭ মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,গণতন্ত্রের অগ্নিবীণা ও উন্নয়ন-প্রগতির প্রত্যাবর্তনঃ তথ্যমন্ত্রী নাজিরপুর অঞ্চলের কৃষকের স্বপ্ন প্রতি বছর তলিয়ে যায় পানির নিচে কালিহাতীতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন রাজশাহী জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের ভোট স্থগিত প্রফেসর ডাক্তার উত্তম কুমার বড়ুয়াকে সংবর্ধিত করলো মিলন-পুর্নিমা ফাউন্ডেশন ঈদগাঁওর ৫ ইউনিয়নে আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঙ্গাভাব: উচ্ছাস তৃনমূলে চট্টগ্রামের হিজরা সুমন মানবিক কাজে আত্ম তৃপ্তি পান সরিষাবাড়ীতে দুই শিশু শিক্ষার্থী হারানোকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হামলা ভাঙচুর ও শিক্ষককে লাঞ্ছিত নাটোরে ধর্ষণ মামলায় যুবক গ্রেফতার মনোহরদীতে নৌকার প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা, ভাংচুর

সৈয়দপুরে প্লাস্টিক বর্জ্যে এনেছে আয়, পরিবেশ রক্ষা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে প্লাস্টিক কারখানা।  কারখানাগুলোতে ফেলা বোতল কিংবা ভাঙা প্লাস্টিক কুচি (টুকরা) করা হচ্ছে। এসব প্লাস্টিক বর্জ্য যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। রপ্তানি হচ্ছে  বিদেশেও। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি উপজেলায় অন্তত পঞ্চাশ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। এমনটি জানিয়েছেন কয়েকজন কারখানা মালিক ও শ্রমিক।
তাঁরা বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই খাতের আরো বিকাশ সম্ভব।

জানা যায়, উপজেলার পৌরসভা ও ৫ টি ইউনিয়নে  রয়েছে প্রায় ১১০ টি প্লাস্টিক কারখানা।  কারখানাগুলোতে  মূলত প্লাস্টিকের পুরোনো বোতল এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক মেশিনে ভেঙে তৈরি করা হয় প্লাস্টিক কুচি। এসব কুচি এখান থেকে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন বাজারে। প্রতিটি কারখানায় সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন।
সরেজমিন শহরের বাঙ্গালীপুর এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, একদিকে ছুঁড়ে ফেলা বোতল কিংবা ভাঙা প্লাস্টিক বর্জ্য স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে প্লাস্টিক কুচি শুকাতে ব্যস্ত কয়েকজন শ্রমিক।

কামারপুকুর ইউনিয়নের আশুরখাই গ্রামের  আতিয়া পারভীন নামের নারী শ্রমিক বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতাম।  তিন সন্তানকে নিয়ে একবেলা খেয়ে আরেকবেলা না খেয়ে কোনোরকমভাবে দিন কাটত। কিন্তু এখন প্লাস্টিক বর্জ্য কারখানায় কাজ করে সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে।

কথা হয় কারখানা মালিক ইমরান হোসেনের  সাথে। তিনি জানান, বিভিন্ন ভাঙাড়ির দোকান থেকে তারা প্লাস্টিকের পুরোনো বোতল কেনেন প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে। আর  অন্যান্য প্লাস্টিক সামগ্রী কেনেন ৩৫ টাকা কেজি দরে। তারপর এসব প্লাস্টিক সামগ্রী তাঁরা মেশিনের সাহায্যে পানি দিয়ে ওয়াশ করেন। পরে মাড়াই করে প্লাস্টিকের কুচি মেশিনের মাধ্যমে শুকিয়ে বস্তাভর্তির পর সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন এ কারখানায় শতাধিক মণ প্লাস্টিক সামগ্রী কেনা হয়। তিনি আরও বলেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে এ শিল্পের আরও প্রসার ঘটানো যেতো।

ইলিয়াস হোসেন নামের আরেক প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবসায়ী জানান, পথেঘাটে এবং নালা নর্দমায় পড়ে থাকা এসব প্লাস্টিক বর্জ্য কুড়িয়ে আনা হয়। এগুলো পরিষ্কার করে আমাদের কাছে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয় প্লাস্টিকের গুটি। এটা নতুন করে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয় নানা পণ্য। এখানে দুই-তিন ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা থাকে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিবেশের বড় উপকার করছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, কোটি কোটি বোতলসহ প্লাস্টিক বর্জ্য যদি খাল, নদী দখল করত, তাহলে তা পলিথিনের চেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠত।
পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুরের পরিদর্শক (নীলফামারী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত)  মনোয়ার হোসেন বলেন, যদি এসব প্লাস্টিক দ্রব্য যত্রতত্র পড়ে থাকে তবে তা পরিবেশের  জন্য মারাত্বক হুমকি। এক্ষেত্রে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করায় পরিবেশ দূষনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হুসাইন দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারকে বলেন, আমি এ উপজেলাতে নবাগত। এ শিল্পের ব্যাপারে খোজ খবর নেওয়া হবে। যদি এ শিল্প পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হয় তাহলে সহযোগিতার বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved