সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০২:৫৮ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
অভয়নগরে স্কুলে নিয়োগ বাণিজ্য সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন পুঠিয়ার বানেশ্বরে স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির মারামারিতে সভাপতি আহত জয়পুরহাটে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে ব্যাপক হারে চোখ ওঠা রোগী  বেড়ে চলছে  বিদেশি মদসহ সিএনজি ড্রাইভার আটক টেকনাফে ১২টি নবনির্মিত ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী  সরিষাবাড়ীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হত্যার উদ্দেশ্যে হামলায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে  কালাম সরদার তিনজনকেই ফ্ল্যাট দিয়ে সুন্দর পরিবেশে রাখা উচিত যা বললেন ডিপজল মাধবপুরে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা গুলি ছুড়ে ডাকাত আটক।

জরাজীর্ণ বাঁশের সেতুটি যেন তাদের ভরসা!

নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটী বাজারের কাছে আফরা এলাকায় বুড়ি ভৈরব নদের উপর সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। যাতায়াত সুবিধার জন্য নিজস্ব অর্থায়নে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের সেতু দিয়ে সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আটটি এবং যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের আটটি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এ নদী পরাপার হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, ভৈরব নদের উভয় পারের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিলেন। শেখহাটি এলাকার অনেক শ্রমিককে নদীর পশ্চিম পারের যশোরের নওয়াপাড়া ও বসুন্দিয়া এলাকায় শিল্প-কারখানায় কাজ করে অনেক রাতে বাড়ি ফিরতে খেয়া নৌকার অপেক্ষায় থাকতে হতো। এলাকাবাসীর কষ্টের কথা ভেবে শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম রেজা ওরফে মাসুম গাজী সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অনেক দেনদরবার করেও ব্যর্থ হন।
অবশেষে ২০১২ সালে নিজের প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে বুড়ি ভৈরব নদের উপর কাঠ ও বাঁশ দিয়ে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রশস্ত একটি সেতু নির্মাণ করেন। অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছুদিনের মধ্যেই বাঁশের সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে কাজ চালানো হচ্ছে। মাঝে মাঝে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করেন।
বর্তমানে বাঁশের সেতুটির অবস্থা খুবই নাজুক। সেতুর অনেক জায়গায় বাঁশ কাঠ পচে নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুটি হেলে পড়েছে। কাঠের পাটাতন ও বাঁশের লম্বা বাতার ভাঙা অংশে পড়ে প্রয়াই ঘটছে দুর্ঘটনা। সেতুর উপর মানুষ বা যানবাহন উঠলেই দুলতে থাকে। বাঁশের সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। তবুও এ সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪/৫ হাজার মানুষ চলাচল করছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা নির্মিত বাঁশের সেতুটি যে কোন মূহুর্তে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ সেতুটির দুই পাশে রেলিং নেই। কংক্রিটের দু’টি পিলার ভেঙ্গে গেছে। বাকি পিলারগুলো হেলে পড়েছে। সেতুর কাঠ এবং বাঁশের পাটাতনের বিভিন্ন স্থান ভেঙে গেছে। লোকজন উঠলেই দুলতে থাকে। সেতুর উপর দিয়ে ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
শেখহাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন,‘নদীর পশ্চিম পারের যশোর অংশে প্রায় ৮/১০ গ্রামের অসংখ্য কৃষকের কৃষি জমি রয়েছে পূর্বপারে অর্থ্যাৎ নড়াইল অংশে। যে কারণে সেতুর উপর দিয়ে উভয় পারের কৃষকেরা বিভিন্ন কৃষিপণ্য আনা-নেয়া করেন। এছাড়া স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েসহ অসংখ্য মানুষ আসা-যাওয়া করেন এই সেতু দিয়ে।’সরকারি ভাবে একটি সেতু নির্মান হওয়া খুবই জরুরী। কিন্তু সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় নড়াইল বা যশোর’র কোন সাংসদ এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব না দেয়ায় আজ অবধি গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানে সেতু নির্মান করা হয়নি। তিনি দাবি করেন অচিরেই জনস্বার্থে আফরা এলাকায় বুড়ি ভৈরব নদে সেতু নির্মান করা হোক।
আফরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবির ইসলাম ও সুমনা বলেন‘ আমাদের ঝুঁকি নিয়ে নদীর এপার-ওপারে যেতে হয়। আগে স্কুলে যেতে দুটি খেয়া নৌকা পার হতে হতো। এখন নৌকা পারের ঝামেলা না থাকলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সেতু পার হতে হচ্ছে। অনেকে প্রায়ই সাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় পানিতে পড়ে যায়।’
স্থানীয় জগন্নাথপুরের বাসিন্দা ও বিকেবি নড়াইল শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আহাদ আলী খান বলেন,‘ আমি খুব কম সময়ে সেতু দিয়ে নিয়মিত অফিস করি। কিন্তু সেতুটির নড়বড়ে অবস্থা হওয়ায় মোটরসাইকেল নিয়ে ভয়ে পার হতে হয়।’
শেখহাটি ইউপি চেয়ারম্যান গোলক বিশ্বাস বলেন,‘মাঝে সেতু ভেঙ্গে গেলে আমরা নিজ উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে মেরামত করে কোনরকম চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। দুই জেলার সীমান্তবর্তী নদীর উপর সেতু নির্মাণের বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এর আগে নড়াইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে লিখিতভাবে আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’
জানতে চাইলে এলজিইডির নড়াইল সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জহির মেহেদী হাসান বলেন,‘সেতুটি নড়াইল ও যশোরের মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করে। বুড়ি ভৈরব নদের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতুটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved