রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
নোয়াখালীতে ক্রাইম পেট্রোল দেখে শিখে অদিতাকে খুন,   ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ; মৃত্যু নিশ্চিত করতে জবাই মেসির জোড়া গোলে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত জয় এইচএসসি ব্যাচ-২২ এর উদ্যোগে ও আয়োজনে ব্যতিক্রমী শিক্ষা সমাপনী “Flashmob” অনুষ্ঠিত ধোবাউড়া কলসিন্দুরে ফুটবল কন‍্যাদের পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন কমেছে বিক্রি, হতাশ সদরঘাটের ব্যবসায়ীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্থবির কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির তদন্তে অর্ধবছর পার বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার কমিটি গঠন দুর্গাপুরে ৫নং ঝালুকা ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের কমিটি গঠন সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে বাড়ি তৈরি করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রামগঞ্জে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ বিপাকে

বাজারে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। মানুষ দ্বিকবিদিক ছুটে চলছে। অস্থির হয়ে পড়ছে লোকজন। এ আগুন নেভানোর দায়িত্ব কার তারও হিসেব মিলাতে পারছেনা মানুষ। অনেকের কপালে ভাঁজ পড়ে গেছে। একজনকে জিজ্ঞাসা করাতেই বলে ভাই বাজারে আগুন। গরীব মানুষের বুঝি আর বাচাঁর উপায় নাই। সয়াবিন তেল কিনলে আর কিছু কিনতে টাকা থাকেনা। সয়াবিন তেলের বাজারে যেন আগুন ধরেছে। যখন তখন কোন কারণ ছাড়াই সব ধরণের দ্রব্যের মূল্য বেড়েই চলেছে। আর তাতে নাভিশ্বাস উঠেছে ক্রেতা সাধারণের। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের আয়ের সাথে ব্যয় সমন্বয় করতে পারছেন না।
কয়েক মাসের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার মূল্যের পাগলা ঘোড়া যেন কিছুতেই থামছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত শ্রেনীও বিপাকে রয়েছে। গতকাল উপজেলার কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া যায়। রামগঞ্জ কাঁচা বাজারে হুহু করে বাড়ছে করলা, সিম, টমেটো, কচুর চড়া, ফুলকপি, কুমড়া, ধনে পাতা,পাতাকপি,  কাঁচা মরিচসহ নিত্যপন্য। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। জিনিষপত্রের মূল্যে বৃদ্ধিতে চরম হতাশায় দিন কাটছে খেটে খাওয়া মানুষের। পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে নিত্যপণ্যের দাম। কোন লাগাম নেই বাজারে।
সরেজমিনে রামগঞ্জ মাছ ও কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, করলা কেজি প্রতি ১২০, কুমড়া ৩৫, কচুর চড়া ৪০,ধনে পাতা ১০০, টমেটো ৪০, মুলা ৩০, বেগুন ৬০, ফুলকপি ৫০, গোল বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, তরি ৬০, গাজর ৪০, শসা-৬০, শিম ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পাতা কপি ৫০, সিমের বিচি ১২০, লাল শাক ৫০, কাঁচা মরিচ ৮০, কলার হালি  (ছোট) ৫০, লেবুর হালি ৬০ ও কচুর লতি ৮০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও কাঁকরোল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  এছাড়াও গরুর মাংস হাড় ছাড়া  ৭০০ টাকা, ব্রয়লার মরগী ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, কক মরগী ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, রুই মাছ (ছোট) ২৮০ থেকে ৩৫০টাকা কেজি, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২৮০ টাকা, মিরগা মাছ ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, পেঁয়াজের কেজি ৪৫ থেকে ৫২ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি সর্বনিম্ন ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন, আদা ও গরম মশালার দাম উর্দ্ধমুখী। প্রতিকেজি ছোট আকারের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ১১০ টাকা ছিল। আর এক মাস আগে একই দামে বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের মসুর ডাল কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ১০০-১০৫ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৯৫-১০০ টাকা বেড়েছে ছোলাসহ বিভিন্ন ডালের দাম । চালের দামের উর্দ্ধগতি। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা। ২৮ জাতের চাল প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৬২ ও বাসমতি চাল ৬৮ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে । ভোজ্য তেলের দামও লাগাম ছাড়া হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ভোজ্যতেলের দামে গত দেড় বছর ধরে ক্রেতার নাভিশ্বাস উঠছে। গত বছর এ সময় পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৫৮০ টাকা, যা এখন ৭০০-৭৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া খুচরাবাজারে প্রতিকেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৪০-৪৫ টাকা। চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা। সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন।
বাজারে আসা ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা বলেন, যেভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম হু হু করে বাড়ছে তাতে মনে হয় বাজারে আগুন লেগেছে। যারা দিন আনে দিন খায় তারা কিভাবে চলবে? মানুষের কাজ নেই। আর কাজ না থাকলে আয় কিভাবে হবে? এখন দেখছি গরীব মানুষ না খেয়ে মরতে হবে। সরকার চাউল ও তেলের দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তার কোন প্রভাব নেই। বাজার এখন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে। বাজারে ভোজ্য তেলের দাম অস্বাভাবিক, আমাদের মত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের পক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার আয়ের সাথে ব্যয় সমন্বয় করতে পারছি না।
রামগঞ্জ বাজার করতে আসা ভ্যান চালাক রহিম বলেন, দৈনিক ৪০০ টাকা আয় করলেও সংসার চালোনো কষ্ট হয়ে পড়েছে চাল, ডাল, তৈলসহ জিনিষের দাম দ্বিগুণ আমরা সাধারণ মানুষ কি করে সংসার চালাবো? সামনে রোজার মাস সব জিনিসের দাম আরও বাড়বে। আমরা চলবো কেমনে?
তিনি আরো বলেন, পেপার পত্রিকায় দেখি রমজান মাসে বিভিন্ন দেশে দ্রব্যের মূল্যের দাম কমে। তবে আমাদের দেশে তার উল্টো চিত্র। সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়।
কাপড় ব্যাবসায়ী মোঃ আজাদ হোসেন পাটোয়ারী বলেন মানুষের ভেতরে হাহাকার চলছে। খেতে পারে না, জামা কাপড় কিনবে কী দিয়ে। দিনের পর দিন দোকানে এক টাকাও বিক্রি হয় না। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই কীভাবে চলছি। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি। সে তুলন্যায় মানুষের রোজগার তো বাড়েনি। নিম্ন আয়ের মানুষ তাও হাত পাততে পারে। আমাদের পক্ষে তো তা সম্ভব না।
তরকারী বিক্রেতা আরিফ হোসেনসহ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, মহাজনের গদিতে বাজারের প্রতিটি দোকানদার লাখ লাখ টাকা দেনা। প্রতিদিন আড়তদার প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে টাকার জন্য। প্রতিদিনই দেনার বোঝা বাড়ছে।
রামগঞ্জ কাঁচা বাজারের পাইকারী বিক্রেতা সুমা ভান্ডারের পরিচালকে রাশেদ কাজী বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার কুমিল্লার নিমসার। সেখানে বাজার দরে ওঠানামাটা আমাদের এলাকার বাজান নিয়ন্ত্রন করে। তিনি আরও বলেন,) গত ৩ মাসে বেশ কয়েকভার টানা বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টির কারনে তরি-তরকারী ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নতুন রোপন করা গাছে এখনো ফসল আসেনি। যে কারনে বাজার এখন থমকে আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved