শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
এনজিও খেকে অন্যের নামে ঋণ উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ; স্বামী স্ত্রী আটক এনজিও খেকে অন্যের নামে ঋণ উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ; স্বামী স্ত্রী আটক পুলিশ সদস্যের কব্জি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় সন্ত্রাসী কবির গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক সহযোগীসহ আটক নগরীর কোতোয়ালি থেকে ছিনতাইকৃত টাকাসহ ১ ছিনতাইকারী আটক বিচক্ষন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,দক্ষ সংগঠক ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসাবে কেমন আ জ ম নাছির উদ্দিন? ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন  আসার পর ফুলপুরে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। ভুট্টা মাড়াই শেষে,  রাস্তার ধারে ভুট্টা গাছ পুড়ছে চাষীরা ।  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তার দু’ধারের নারিকেল গাছ  ।  গত কাল ছবিটি পোল্যাকান্দি প্রধান সড়ক থেকে তোলা ।  প্রেমের সম্পর্ক করে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল;এক সাইবার প্রতারক আটক সিআরবি সাত রাস্তার মোড় থেকে চুরিকরা মোটরসাইকেলসহ আটক ১ আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

ড. মাহমুদ হাসান চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় থাকবে ভক্ত- অনুরক্ত মানুষের কাছে

কমল চক্রবর্তী /সজল চক্রবর্ত্তী
আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিবেদিত প্রাণ, সৎ ও সাহসী রাজনীতিবিদ , আপোষহীন ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রবাদপুরুষ ড. মাহমুদ হাসান চৌধুরী। তিনি আজীবন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম করেছেন। রাজনীতির মধ্য দিয়ে সংষ্কৃতি চর্চার মাধ্যমে এবং সাংষ্কৃতিক উত্তরনের মধ্য দিয়ে দেশ এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করা যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ফটিকছড়ি কৃতি সন্তান ড. মাহমুদ হাসান। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ পাবলিসিটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট দানবীর ও ফটিকছড়ির মাটি ও মানুষের নেতা ড. মাহমুদ হাসান।

মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য, ড.মাহমুদ হাসান। তিনি একাধারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ পাবলিসিটি কাউন্সিলের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন সাথে জড়িত ছিলেন।তিনি ফটিকছড়ির নানুপুর রহমত বাড়ীর সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৭ সালের আজকের এই দিনে ৬২ বছর বয়সে মারা যান।

তিনি আজীবন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম করেছেন। মানুষ, সমাজ, সংষ্কৃতি ও কৃষ্টির জন্য কাজ করে রাজনীতির মধ্য দিয়ে মানবতার জয় গান গাওয়া যায় তাই করে দেখিয়েছেন ড. মাহমুদ হাসান । আজীবন মানবতার কল্যাণে ও মানবতার জয়যাত্রায় নিবেদিত ছিলেন ড. মাহমুদ হাসান। চট্টগ্রামের সমাজ সংস্কৃতি ও রাজনীতির আধুনিক পরিভ্রাজক ছিলেন ড. মাহমুদ হাসান। আজ তাকে হারিয়ে শুধু ফটিকছড়ি নয় সারা দেশ হারিয়েছে এক মহান রাজনীতিবিদ ও মানবতার পূজারীকে। যার অভাব কোন দিন পূরণ হবার হয়।

এই পৃথিবীতে কত লোক অহরহ মারা যাচ্ছে। জীবন নদে ভেসে যাচ্ছে কত জীবন প্রতিনিয়ত। কে কার খবর রাখে। কিন্তু অলি মহাপুরুষ তাদের আত্নত্যাগের বিনিময়ে অনেক উজ্জ্বলতা স্বাক্ষর রেখে গেছেন যাঁদের আমরা চিরকাল স্মরণ করে আসছি এবং ভবিষ্যতেও করব। প্রয়াতদের রেখে যাওয়া দ্বীপ্তময় জীবন থেকে আলোর রশ্মিদ্বারা নিজেদের করি পরিশুদ্ধ। তবুও বিধির বিধান রচিত মৃত্যুকে মেনে চলতে হয়। কত প্রিয়জনকে হারিয়েছি, আরো কত বেদনার ভার সইতে হবে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তবে বয়সের সংখ্যা যত বাড়ছে ততই এ প্রাণ বায়ূ যেন কচুপাতার পানির মত টলমল করছে। কবির ভাষায়- “এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, জীবনে তাহাই তুমি করে গেলে দান”। বিগত ০১ এপ্রিল ২০১৭ ইংরেজি। আজ সেই ০১ /০৪/২২ ইংরেজি। দেখতে দেখতে এত দিন,এত মাস,এত বছর ড. মাহমুদ হাসান সাহেব ফটিকছড়িবাসীকে ছেড়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন অন্তহীন জগতে।

ভাবতে কষ্ট হয় তিনি আমাদের মাঝে নেই, । বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় তিনি নেই। এমনতো হবার কথা ছিল না। সেদিন কিসের এতো তাড়া ছিল, কেন এত কম সময়ে মাঝপথে, বর্ণিল অনুভূতি ছিদ্র করে চলে যেতে হলো। কবির ভাষায়- মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবণে, রুপ-রস গন্ধ ভরা মায়াময় পৃথিবী ছেড়ে কোন মানুষই চলে যেতে চাই না। এ যেন প্রকৃতির অমোঘ বিধান। যেতে নাহি দিব হায় কে মিথ্যে করে তিনি এ জগৎ সংসার থেকে বিদায় নিয়েছেন। মহাকাব্যর মহানায়কের মত রেখে গেছেন বহু স্মৃতি, বহু কথা, রেখে গেছেন অসংখ্য আত্নীয় স্বজন, গুণগ্রাহী। ছাত্র হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী হওয়ার সত্ত্বেও ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন রাজনীতি, সমাজ সেবা ও মানব সেবাকে। কারো কাছে তিনি ভাই, কারো কাছে তিনি বদ্দা, কারো কাছে বাবা, কারো কাছে স্যার, কারো কাছে ড. মাহমুদ হাসান সাহেব। কিন্তু সবকিছুর উর্ধ্বে তিনি ছিলেন সকলের প্রিয়নেতা। তিনি সমাজ, দেশ ও সকল মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে প্রাণভর চেষ্ঠা করেছেন। নিরন্তর ডুবে থাকতেন রাজনীতিতে, প্রচুর সময় দিতেন। মানব কল্যাণকামী দর্শনই ছিল তার সবকর্মের মূখ্য চালিকাশক্তি। তিনি সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি আজীবন লড়ে গেছেন।

তিনি ছিলেন অনন্য এক প্রেরনার মানুষ। তিনি যাকে যা দেওয়ার দিয়ে গেছেন অন্তত দিয়ে । পাশাপাশি লেখালেখিও করতেন। তিনি নিজেই অসুস্থতার সত্ত্বেও যেকোন কাজে ডাকা মাত্রই সাড়া দিতেন। তিনি দান করে গেছেন ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রামের আনাচে-কানাচে। কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পাইনি, আশাও করেননি। তিনি ছিলেন আপোষহীন সংগ্রামী ওয়ান ইলেভেনের সময়ের ফটিকছড়ির আপাময় মানুষের পাশে থেকে দুঃসময়ের একজন অগ্রসেনানিরুপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ওনার সুমহান কর্মযজ্ঞে নিরলস ত্যাগে নিজেকে উদ্ভাসিত করার সুযোগ তিনি হাত ছাড়া করেননি। এ কোলাহল ও মায়ামুগ্ধ জীবনে সব কিছুই ক্ষণস্থায়ী ও অবাস্তব যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। একমাত্র মৃত্যুটাই চিরন্তর। বাস্তব ও শ্বাশ্বত এই মায়াময় জীবন ছেড়ে এক সময় চলে যেতেই হবে সব কিছুর বন্ধন ছিন্ন করে।

কবির ভাষায়- যেতে নাহি দিব হায়, তবুও যেতে দিতে হয়, তবুও চলে যায়। এখন অঘূম আক্ষেপের সুরে বলতে হয়- যারা -পুত্র-পরিবার, তুমি কার-কেউবা তোমার এ নশ্বর পৃথিবীতে সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকেই কত লাখো লাখো, কোটি-কোটি মানুষ চলে গেছে, চলে যাচ্ছে, চলে যাবে। এ চিরন্তর গতিধারা সৃষ্টির প্রলয়কাল পর্যন্ত চলবেই। কত জ্ঞানী, গুনী, ধনী, গরীব, প্রবীণ মহান ব্যক্তিত্ব কোটিপতি থেকে কাঙ্গাল পর্যন্ত বিলীন হয়ে পরপারে পাড়ি দিচ্ছে। কে কার খবর রাখে? কিন্তু কিছু কিছু জ্ঞানী, গুণী মহান ব্যক্তিত্ব চলে গেলেও উনারা আমাদের হৃদয়ে চির জাগ্ররুক হয়ে আছেন এবং চিরদিনই থাকবেন। ওনাদের কীর্তিকলাপ পরবর্তী প্রজন্ম কোন দিনই ভুলতে পারবে না।

বিধাতার নিষ্টুর বিধান বেঁচে থাকার সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অকালে তিনি নিয়ে গেলেন ড. মাহমুদ হাসান সাহেবকে। তাঁর সব অসমাপ্ত কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে আমরা অনন্তকাল ধরে তাঁর স্মৃতিকে সবার মাঝে সজীব করে রাখার জন্য সর্বদা চেষ্টা করব। তিনি চিরদিন অমর হয়ে থাকবেন আমাদের স্মৃতিতে। বিদ্রেহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর মানুষ নামক কবিতায় যথার্থই লিখেছেন-“মানুষের চেয়ে বড় কিছুই নাই, নাহি কিছু মহিয়ান”। সে রকম একজন বড় মাপের মানুষ ছিলেন হাসান সাহেব। সে মানুষটি আওয়ামী লীগকে ভালবেসে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন জনমানুষের সেবার তরে।

তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় গড়ে উঠেছে চট্টগ্রামসহ ফটিকছড়ির আনাচে কানাচে শত শত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তিনি ছিলেন জাতীয় সম্পদ, তিনি ছিলেন সংগঠনের অহংকার। তাঁকে জীবদর্শায় যেভাবে মূল্যয়ন করা উচিত ছিল, সেভাবে তিনি মূল্যায়িত হননি। তাঁর অকাল মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তাঁহার সদালাপি কথা এখনো আমাদের চোখে অশ্রুসজল এসে ভিড় করে প্রতিনিয়ত। এতকিছুর পরও এই ভেবে যে, শান্তি অনুভব করি তাঁর সুযোগ্য সন্তান, পিতার মৃত্যুতে শূণ্য হওয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্য, এ প্রজন্মের দানবীর,সমাজ সেবক, ডক্টর মাহমুদ হাসান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য আখতার উদ্দিন মাহমুদ পারভেজের মধ্যে প্রয়াত ড. মাহমুদ হাসানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।

এখনো মনের অজান্তে কষ্ট অনুভব করি। নিজেদের মন ব্যতিত হয় প্রতিমুহুর্তে, প্রতি ক্ষণেক্ষণে। তুমি রবে নীরবে, প্রতিটি ফটিকছড়ি বাসীর অন্তরে।। কাঁদিবে প্রাণ তোমার তরে।

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/৯ঃ৩০পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved