শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
এনজিও খেকে অন্যের নামে ঋণ উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ; স্বামী স্ত্রী আটক এনজিও খেকে অন্যের নামে ঋণ উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ; স্বামী স্ত্রী আটক পুলিশ সদস্যের কব্জি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় সন্ত্রাসী কবির গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক সহযোগীসহ আটক নগরীর কোতোয়ালি থেকে ছিনতাইকৃত টাকাসহ ১ ছিনতাইকারী আটক বিচক্ষন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,দক্ষ সংগঠক ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসাবে কেমন আ জ ম নাছির উদ্দিন? ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন  আসার পর ফুলপুরে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। ভুট্টা মাড়াই শেষে,  রাস্তার ধারে ভুট্টা গাছ পুড়ছে চাষীরা ।  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তার দু’ধারের নারিকেল গাছ  ।  গত কাল ছবিটি পোল্যাকান্দি প্রধান সড়ক থেকে তোলা ।  প্রেমের সম্পর্ক করে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল;এক সাইবার প্রতারক আটক সিআরবি সাত রাস্তার মোড় থেকে চুরিকরা মোটরসাইকেলসহ আটক ১ আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

নগরীতে থেমে নেই নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বিপণন;প্রশাসনের নিরবতায় মালিকদের পোয়াবারো!

কমল চক্রবর্তীঃ চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধানঃ
পলিথিন থেকে নির্গত হয় বিষফেনোল নামক বিষাক্ত পদার্থ। যা মানবদেহের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। এছাড়া পলিথিন এমন একটি উপাদান যা পরিবেশের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। মানুষের অবাধে ব্যবহারের পর যত্রতত্র ছুড়ে ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্ট পলিথিন বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনে-নর্দমায় ঢুকে পড়ে। আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার ২০ বছরেও উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধ হয়নি। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সারাদেশে চলছে পলিথিনের রমরমা বাণিজ্য। পলিথিনের অবাধ ব্যবহারের কারনে ভেঙ্গে পড়ছে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। প্রতিনিয়ত ভরাট হচ্ছে খালবিল, নদী, দূষিত হচ্ছে পানি। পলিথিনের কারনে উর্বরতা হারাচ্ছে মাটি। অতিমাত্রায় পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহারের কারণে মানবশরীরে বাসা বাঁধছে ক্যানসারসহ নানা রোগ।

আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর পলিথিন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই চট্টগ্রামসহ সারাদেশেই পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার হচ্ছে। ক্ষুদ্র একটি জিনিস থেকে শুরু করে সবকিছুই এখন বিক্রেতারা পলিথিনের ব্যাগে করেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে চর্মরোগ ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে পলিথিন ব্যাগকে চর্মরোগের এজেন্ট বলা হয়। এছাড়া পলিথিনে মাছ, মাংস মুড়িয়ে রাখলে এতে রেডিয়েশন তৈরি হয়ে খাবার বিষাক্ত হয়।

চট্টগ্রাম শহরের চাক্তাই খাল, নাসিরাবাদ, বাকলিয়ার কালামিয়া বাজার,খাতুনগঞ্জ, ইপিজেড, পতেঙ্গা, বিমানবন্দর রোড, মাঝিরঘাট, পূর্ব মাদারবাড়ি, আন্দরকিলা, পাহাড়তলী, নাসিরাবাদ, আতুরার ডিপো,অক্সিজেন, আসাদগঞ্জ ও রহমতগঞ্জ , ফতোয়াবাদ দক্ষিণ পাহাড়তলী, দক্ষিণ পাহাড়তলীর ছড়ারকূল,হালিশহরসহ বেশ কিছু এলাকায় গড়ে উঠেছে পলিথিন কারখানা। সেই সাথে ঢাকার কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, বেগমগঞ্জ, চকবাজার, মৌলভীবাজার, চানখাঁরপুল, ইসলামবাগ, লালবাগ, ইমামগঞ্জ, আরমানিটোলা, দেবীদাস লেন, সোয়ারিঘাট, মিরপুর, তেজগাঁও, কামরাঙ্গীরচর, জিঞ্জিরা ও টঙ্গীতে গড়ে উঠা পলিথিন কারখানা  থেকে অবাধে আসছে পলিথিন। বিভিন্ন ডিলারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে পলিথিন। হাত বাড়ালেই মিলছে নিষিদ্ধ পলিথিন। এছাড়া নগরীর বক্সির হাট বাজার, খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই,রিয়াজউদ্দিন বাজার, সিডিএ মার্কেট, জেল রোড,পতেঙ্গা, পাহাড়তলী, মুরাদপুরসহ নগরীতে বেশ কিছু পিলিথিনের পাইকারী বাজার রয়েছে।

সরেজমিনে খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খাতুনগঞ্জের ওসমানিয়া গলির রহমান স্টোর, রূপালী স্টোর, সালাউদ্দিন ব্রাদার্স, আলাউদ্দিন স্টোর, ফারুক এন্ড ব্রাদার্সসহ ১০ থেকে ১২টি দোকানে নিষিদ্ধ এসব পলিথিন বিক্রি হচ্ছে অবাধে। যেখানে রয়েছে এইচডিপিই, শপিং ব্যাগ, এলডিসহ বিভিন্ন ধরনের পলিথিন। দোকানিরা প্রতিটি পণ্যই পলিথিনের ব্যাগে পুরে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। বিভিন্ন পণ্যসহ ছোট ছোট পলিথিনের ব্যাগগুলো আবার বড় বড় পলিথেনের ব্যাগে ভরে ক্রেতাদের হাতে দেয়া হচ্ছে। খুব কম ক্রেতাকেই বাসা থেকে চট কিংবা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে বাজারে আসতে দেখা গেছে। একই অবস্থা দেখা গেছে বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে। নগরির ছোট বড় সুল বাজারে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন। এছাড়া পাড়ায়-মহল্লায় মুদির দোকান ও চায়ের দোকানগুলো থেকে শুরু করে মাছ বাজার থেকে ভ্যানগাড়ির ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতেও পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে এখনও এক হাজারের বেশি পলিথিন কারখানা রয়েছে।এর মধ্যে খোদ চট্টগ্রামে আছে বেশ কিছু পলিথিন কারখানা। পরিবেশ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জরিমানা করে ও কারাদণ্ডও দেয়। তবুও পলিথিন ব্যবহার বন্ধ হয় না। আইনের কঠোর প্রয়োগ না করায় অভিযানের কদিন পরই আবারও স্বাভাবিকভাবেই চলে উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) প্রকাশিত তথ্যমতে,শুধু চট্টগ্রামেই দিনে প্রায় ১ কোটি পলিথিন ব্যাগ জমা হচ্ছে। আর বিশ্বে প্রতি বছর ব্যবহার হচ্ছে পাঁচ লাখ কোটি পলিথিন। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক বলে বিবেচনা করে ২০ বছর আগে রফতানিমুখী শিল্প ছাড়া সব ধরনের পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। প্রাণ ও পরিবেশ বাঁচাতে শাস্তির বিধান রেখে আইন করা হয়। কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় পলিথিনের উৎপাদন ও বিক্রি থামানো যায়নি, কিছুদিন পর ফের বাজার ছেয়ে যায় পলিথিনে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ সারাদেশে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরির এক হাজার ২০০ কারখানা রয়েছে। যার বেশির ভাগই ঢাকায়। শুধু পুরান ঢাকার অলিগলিতে আছে ৫ শতাধিক কারখানা। পণ্য বহনে পরিবেশবান্ধব পাটজাত ব্যাগ ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করার কথা থাকলেও আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ, উৎপাদন, মজুদ, বাজারজাত ও ব্যবহার করা হচ্ছে। রফতানিযোগ্য কিছু পণ্য, প্যাকেজিং, নার্সারির চারা, রেণু পোনা পরিবহন ও মাশরুম চাষের জন্য পলিথিন উৎপাদনের ছাড়পত্র নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পলিথিন ব্যাগ তৈরি করছে। আর ক্ষতিকর জানার পরও দিন দিন এই ব্যাগের ব্যবহার বেড়েই চলছে, যা পরিবেশকে ঠেলে দিচ্ছে হুমকির দিকে। এ বিষয়টি সবাই জানলেও কার্যত তেমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, অনেক দেশ আইন করে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে স্থলের পর এবার সাগর-মহাসাগরকে বিষিয়ে তুলছে বিষাক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক। তারপরও সচেতনতা বাড়ছে না। মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশকে রক্ষা করতে পলিথিন ও ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তারা বলছেন, পলিথিন নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সারা দেশে চলছে এর রমরমা ব্যবহার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনেই রাজধানীসহ সারা দেশেই পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার চলছে। ছোট্ট পণ্য থেকে শুরু করে বড় পণ্য—সবকিছুই বিক্রেতারা পলিথিনের ব্যাগে ভরে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে চর্মরোগ ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। অথচ ২০০২ সালে আইন করে পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। আইনের বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ পলিথিনসামগ্রী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করে তা হলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা, এমনকি উভয় দণ্ডও হতে পারে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দেওয়া তথ্য অনুসারে বিশ্বের ৮৭টি দেশে একবার ব্যবহার উপযোগী পলিথিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ পলিথিন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরের পলিথিন কর্ণফুলির তলদেশে জমা হচ্ছে। নগরীর চারপাশের প্রতিটি খাল ও ড্রেনের একই অবস্থা। পলিথিনের বহুবিধ ব্যবহারের কারণে মানবদেহে বাসা বাঁধছে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগ। পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যবহারের মানবদেহে হরমোনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে দেখা দিতে পারে বন্ধ্যত্ব, নষ্ট হতে পারে গর্ভবতী মায়ের ভ্রূণ, বিকল হতে পারে লিভার ও কিডনি।

তারপরও পলিথিনের ব্যবহার কমছে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলছে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হলেও তা পলিথিনের ব্যবহার কমাতে পারছে না। পলিথিন ব্যাগের বা প্লাস্টিক পণ্যের জনপ্রিয়তার কারণ হিসেবে জানা যায়, পলিথিন ব্যাগ সহজলভ্য ও দাম কম। পলিথিনকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে সুয়্যারেজ লাইন বন্ধ হয়ে যাবে, নদী মরে যাবে, প্রাণিজ সম্পদ ধ্বংস হওয়ার মাধ্যমে পরিবেশের মহাবিপর্যয় ঘটবে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান এ বিষয়ে বলেন, পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধে আইন থাকলেও এর কার্যকারিতা নেই। পলিথিন দূষণ আমাদের ভূমি, নদী-সাগর সব বিষাক্ত করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার কারণে নিষিদ্ধ পলিথিন এখনো অবাধে উৎপন্ন ও বাজারজাত হচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় এক হাজার ২শত কারখানায় নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি হচ্ছে। এগুলোর বেশির ভাগই ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক। তাই পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে এখনই নিতে হবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা। বন্ধ অরে দিতে হবে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার। এর ক্ষতিকর প্রভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে বেড়াবে নানা রোগব্যধি।

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/১২ঃ৩০পিএম

 

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved