শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
বারইয়ারহাটে র‍্যাবের উপর মাদক কারবারিদের পরিকল্পিত হামলা ও ঘটনার বিশ্লেষণ ইতিহাস৭১.টিভির বর্ষপুর্তি উপলক্ষে আলোচনা ও কেক কাটা অনুষ্ঠান সম্পন্ন এসিল্যান্ড মাসুদ রানার অঙ্গীকার, ভুমি সেবা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ ঋণের দিক দিয়ে এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে ভালো: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভাণ্ডারিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে “ভোক্তা অধিকার বিভাগ” চায় ক্যাব চকরিয়ায় ইউপি সচিবের উপর হামলার ঘটনায় ইউপি মেম্বার কারাগারে নিকলীতে কৃষক রেনু হত্যার এক মাসেও আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে সরিষাবাড়ীতে কচুড়িপানায় নদীর উপর রাস্তা : ভরা নদীর বুকে চালাচ্ছে সাইকেল, খেলছে ফুটবল নরসিংদীতে দুর্ঘটনার কবলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ত্রাণবাহী পিকআপ ভ্যান

সিলেটে ঈদকে টার্গেট করে বেপরোয়া টানাপার্টি : বসে নেই পকেট চোর ও অজ্ঞান পার্টির চক্র!

সিলেটে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে শপিংমলগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। যত সময় যাচ্ছে বাড়ছে মানুষের চলাচল আর বাড়ছে যানচলাচলও। এ সুযোগেই তৎপরতা শুরু করেছে অপরাধীরা। ঈদ টার্গেট করে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে টানাপার্টির সদস্যরা। বসে নেই পকেট চোর, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরাও।
মানুষ টানাপার্টিদের কবলে পড়ছে হেঁটে কিংবা রিকশায়, বাসে কিংবা অটোরিকশা গাড়িতে চলাচলের সময়। সকালে-দুপুরে-সন্ধ্যায় জনাকীর্ণ কিংবা ফাঁকা রাস্তায়। বিপদের কথা হলো- ছিনতাইকারীরা এখন শুধু লোকজনের টাকাপয়সা, মোবাইল ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়েই ভাগছে না, ছুরিকাঘাত করছে, এমনকি খুন করতেও দ্বিধা করছে না। চলতি বছর ও গত বছরের টানাপার্টির কবলে পড়ে বেশকিছু প্রাণঘাতীর ঘটনাও ঘটে। এছাড়া টানাপার্টির কবলে পড়ে প্রয়োজনীয় অনেক কিছু হারানোর ঘটনার পাশাপাশি অনেকেই আহত হচ্ছেন মারাত্মকভাবে।
গত বছরের ঈদের এমন সময়ে সিলেট নগরীতে প্রায় দশটিরও বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিলো।
একাধিক সুত্রে জানা গেছে- আসন্ন ঈদের বাজারকে ঘিরে ছিনতাইকারী, জাল নোট কারবারি, মলমপার্টি-অজ্ঞানপার্টি, চাঁদাবাজ চক্রসহ নানা ধরনের অপরাধী এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগরে। তবে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে আইনমৃঙ্খলাবাহিনী। ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় ছিনতাইসহ মৌসুমি অপরাধী ধরতে এরই মধ্যে অভিযান শুরু করেছে ডিবির একাধিক টিম। সেই সাথে কাজ করছে পুলিশ ও র‍্যাব। বড় অঙ্কের অর্থ বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানি এস্কর্ট সেবা দিচ্ছে মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। তবে নগরজুড়ে পুলিশের টহল টিম থাকলেও ছিনতাইয়ের ঘটনার সময় পুলিশের উপস্থিতি খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জনতার হাতে ছিনতাইকারীরা আটক হচ্ছে। আর পুলিশ বলছে, প্রায়ই টানাপার্টির কবলে পড়ে ব্যাগ, টাকা, মোবাইল হারানোর ঘটনার তথ্য আসলেও থানায় অভিযোগ আসে কম। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, সার্টিফিকেট বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারালে সেগুলোর জন্য সাধারণ ডায়েরি করেন ভুক্তভোগীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে- ছিনতাইয়ে জড়িতদের বেশির ভাগই কিশোর, উঠতি তরুণ ও গাড়িচালক। পুলিশ জানিয়েছে, কিছু ভুক্তভোগী মামলা করেন, অনেকেই করেন না। কোনো থানা যদি ছিনতাইয়ের মামলা না নিতে চায়, তবে ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের জানাতে বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ দিকে বিভিন্ন পেশাজীবীর মধ্যে কারা কারা ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নগরীতে বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা গেছে- চলতি পথে কিংবা রিকশায় করে যাতায়াতের সময় আচমকা টান। মুহূর্তেই সবকিছু নিয়ে চম্পট ছিনতাইকারী। ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে নিজেদের ভারসাম্য রাখতে না পেরে ভুক্তভোগীদের অনেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হচ্ছেন। সেই সাথে নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
অভিযোগ আছে, ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কার কিংবা সিএনজি চালকদের সাথে যোগসাজশ আছে।
সূত্র বলছে- পরপর আলোচিত বেশ কয়েকটি ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বেশ তৎপর হয়ে উঠেন। বিশেষ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু টানাপার্টির সদস্যদের গ্রেপ্তারও করেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়। বিশেষ করে পুলিশ ও র‍্যাবের বিশেষ অভিযানের কারণে রাতের বেলায় পথচারীরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই চলাফেরা করে। কিন্তু ইদানীং হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে এসব ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে কোথাও না কোথাও টানাপার্টির কবলে পড়ার খবর। যেভাবে ঘটনা ঘটছে সে তুলনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হচ্ছে না। ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে টানাপার্টির চক্র। নগরের অন্তত ১৫টি স্পর্টে অর্ধশতাধিক চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্পটগুলোর মধ্যে বন্দরবাজার, তালতলা, রিকাবীবাজার, জিন্দারবাজার, আম্বরখানা, উপশহর, মেন্দিবাগ, সোবহানীঘাট, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, কদমতলী, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেট অন্যতম।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে- আসন্ন ঈদকে ঘিরে বাজারে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে প্রতারকদের তৈরি কোটি টাকার জাল নোট। জাল টাকা তৈরির সাথে জড়িত চক্রগুলো সারা বছর তৎপর থাকলেও উৎসবে বড় টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে তারা। এ সময় মুদি দোকান থেকে শপিংমল সবখানে থাকে উপচে পড়া ভিড়। এ সুযোগে জাল নোটগুলো মাঠে ছাড়ে চক্র। অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যাংকে লেনদেন ও এটিএম বুথেও জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়া হয়। তবে জাল নোটের এসব চক্র ধরতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে ডিবি। ঈদকে সামনে রেখে জাল টাকা কারবারি চক্রের সদস্যদের ধরতে মাঠে রয়েছে গোয়েন্দারা।
কোমল পানীয় কিংবা বোতলজাত খাবার পানির সঙ্গে ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইনসুলিন মিশিয়ে তৈরি করা হয় অজ্ঞান করার রেসিপি। আবার গণপরিবহনে সিটের কাছে ক্লোরোফর্ম জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ লাগিয়েও অজ্ঞান করার কাজটি করা হয়। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা এলাকা ভাগ করে ‘অপারেশন’ পরিচালনা করছে। আবার টার্গেট ভিত্তিক এলাকার বাইরে চলে গেলে তাদেরকে নিজেদের আয়ত্তে রাখতেও দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় রিলে দৌড়ের মতো। পার্টির কেউ সাজছে ডাব বিক্রেতা, কেউ পানির ফেরিওয়ালা, কেউ হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী, আবার অজ্ঞান করা কিংবা চোখে মলম লাগানোর ক্ষেত্রে স্বল্প পাল্লার মাইক্রোবাসকে ব্যবহার করছে তারা।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান- সাধারণত ঈদে অজ্ঞানপার্টি, ছিনতাই ও জাল টাকা চক্রের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাই জনসাধারণের নিরাপত্তায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ডিবি পুলিশের টিম কয়েক স্তরে ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করছে।
পুলিশের কর্মকর্তারা আরো জানান- টানাপার্টির সদস্যদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। এসএমপির প্রতিটি থানা এলাকায় টহল পুলিশ কাজ করছে। ঈদকে সামনে রেখে টানাপার্টির তৎপরতা একটু বেড়ে যায়। সেজন্য আমাদেরও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করে যাচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved