রবিবার, ২৬ Jun ২০২২, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় মাদার তেরেসা পদক পেলেন এস এম পিন্টু পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে রামগঞ্জ থানা পুলিশের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসকের আয়োজনে শোভাযাত্রা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদ্‌যাপনে, বাংলাদেশ পুলিশের্ নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন অবিলম্বে দেশে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের দাবি-ক্যাব ফুলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত।  বাঙালি জাতির সমস্ত অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে -তথ্যমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধনে মহিউদ্দিন মহারাজের নেতৃত্বে ৬টি লঞ্চে পিরোজপুরের ১৫ হাজার নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন ময়মনসিংহ আইটি ও হাই-টেক পার্ক এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন লাকসামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

পুলিশ সদস্যের কব্জি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় সন্ত্রাসী কবির গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক সহযোগীসহ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সাম্প্রতিক সময়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের মর্মান্তিকভাবে কব্জি বিচ্ছিন্নের ঘটনার মূল আসামী কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোঃ কবির আহমদ (৪৩) র‌্যাবের অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সহযোগীসহ লোহাগড়ার পাহাড়ি এলাকা থেকে র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার। এসময় অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার ১৯ মে রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আজ শুক্রুবার ২০ মে সকালে সিপিসি-৩, চান্দগাঁও ক্যাম্প (বহদ্দারহাট) এ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন তাকে আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

আটককৃত আসামী মোঃ কবির আহমদ চট্টগ্রা্মের লোহাগাড়া থানাধীন বড় হাতিয়া এলাকার মৃত আলী হোসেন এর ছেলে এবং তার সহযোগী একই এলাকার মৃত মোস্তাক আহাম্মদ এর ছেলে মোঃ কফিল উদ্দিন (৩০)।

র‌্যাব-১ এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গত ১৫ মে  সকালে চট্টগ্রামের লোহাগড়া থানার একটি মামলার এজাহার নামীয় আসামী কবির আহমদকে গ্রেফতারে অভিযান চালায় পুলিশের একটি আভিযানিক দল। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কবির অস্ত্রসহ ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের উপর চড়াও হয়। প্রথমে সে তার বাসা সনাক্তকারী ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্য জনি তাকে বাধা দিলে কবির তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জনি খানকে সজোরে আঘাত করে বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং ঘটনাস্থলে থাকা অন্য পুলিশ সদস্য শাহাদত হোসেনকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল হতে পলায়ন করে। উক্ত ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বর্ণিত ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

তিনি জানান, গোয়েন্দা নজরদারীর এক পর্যায়ে গত রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল লোহাগাড়া থানাধীন বড় হাতিয়ার গহীন পাহাড়ি এলাকা অভিযান পরিচালনা করে মোঃ কবির আহমদকে এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করে। অভিযান চলাকালে গ্রেফতারকৃত কবির তার নিকট থাকা অস্ত্র দিয়ে র‌্যাব সদস্যদেরকে লক্ষ করে গুলি ছুড়লে একজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়। প্রতি উত্তরে র‌্যাব পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল হতে কবিরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় পুলিশ সদস্যদেরকে জখমে ব্যবহৃত ১টি দা, ১টি ওয়ান শুটার গান, ৩ রাউন্ড গুলির খোসা, ৩ রাউন্ড তাজা গুলি, ২ টি হাসুয়া, ১ টি ছুরি, ১৮০ পিস ইয়াবা, ২ টি মোবাইল ও ২ টি সীম কার্ড।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় যে, ঘটনার পর কবির তার সহযোগী কফিলকে নিয়ে বান্দরবান এর দক্ষিণ হাংগর এলাকার একটি দূর্গম পাহাড়ে আত্মগোপন করে। অতঃপর সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে গ্রেফতারকৃত কবির তার সহযোগীসহ দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে পুনরায় লোহাগাড়া থানাধীন বড় হাতিয়ার গহীন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয়। সর্বশেষ  র‌্যাব-৭ এর অভিযানে তারা গ্রেফতার হয়।

তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত কবির স্থানীয় এলাকার একজন চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। সে দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় জমি দখল, মারামারিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে আসছে। কেউ তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপে বাধা দিলে তার উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করত। গ্রেফতারকৃত আরও জানায় যে, তার কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্রটি এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর নিকট হতে ক্রয় করে। তার নামে বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারামারির মামলাসহ ৬টি মামলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত কফিল একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বিভিন্ন সময় সে পাশ্ববর্তী দেশ হতে মাদক নিয়ে এসে চট্টগ্রাম ও তার পাশ্ববর্তী এলাকায় মাদক সরবরাহের সিন্ডিকেট পরিচালনা করত। সে গ্রেফতারকৃত কবির এর বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সহযোগী ও প্রশ্রয়দাতা। সে এলাকায় বিভিন্ন মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত। তার নামে বিভিন্ন থানায় মাদক, হত্যাচেষ্টা ও মারামারি সংক্রান্ত ৬টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/৮ঃ২০পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved