রবিবার, ২৬ Jun ২০২২, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় মাদার তেরেসা পদক পেলেন এস এম পিন্টু পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে রামগঞ্জ থানা পুলিশের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসকের আয়োজনে শোভাযাত্রা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদ্‌যাপনে, বাংলাদেশ পুলিশের্ নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন অবিলম্বে দেশে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের দাবি-ক্যাব ফুলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত।  বাঙালি জাতির সমস্ত অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে -তথ্যমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধনে মহিউদ্দিন মহারাজের নেতৃত্বে ৬টি লঞ্চে পিরোজপুরের ১৫ হাজার নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন ময়মনসিংহ আইটি ও হাই-টেক পার্ক এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন লাকসামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

গ্রামে নেই স্কুল ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা

 গ্রামটিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষের বসবাস। অথচ গ্রামে নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয় লোকজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার ধরনা দেন। তারা কেবল শুধু আশ্বাসই পেয়েছেন। বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এতে ওই গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে দূরবর্তী বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া করছে। দূরবর্তী এলাকায় স্কুল হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।

গ্রামটির নাম বার আউলিয়া পাড়া। এটি চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা  ইউনিয়নে পড়েছে। সম্প্রতি ওই এলাকার লোকজন চট্টগ্রাম  জেলা প্রশাসকের কাছে বিদ্যালয় নির্মাণের দাবিতে লিখিত আবেদন করেছেন। তারা দ্রুত ওই গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া  উপজেলার পোমরা  ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বার আউলিয়া পাড়া গ্রামে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বাস করেন।  ওই ইউনিয়নের অন্য গ্রামগুলোতে বিদ্যালয় নির্মিত হলেও আজ অবধি বার আউলিয়া গ্রামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।২০১৯ সালে বার আউলিয়া পাড়া গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী উদ্যোগ গ্রহন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর উদাসীনতায় আজও সেখানে কোনো বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়নি। এ কারণে গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দূরবর্তী হিলাগাজী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডলুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাজী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয় দূরবর্তী হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়ছেন। এতে অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন।

সম্প্রতি ওই এলাকায় বিদ্যালয় নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

গ্রামের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের গ্রামে কোনো বিদ্যালয় নেই। এতে তারা কষ্ট করে পাশের গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে লেখা পড়া করছে। গ্রামে বিদ্যালয় না থাকায় আমাদের অনেক সহপাঠী দূরের স্কুলে যায় না। অনেকে লেখাপড়াও ছেড়ে দিয়েছে। আমরা আমাদের গ্রামে একটি বিদ্যালয় চাই। লেখাপড়া শিখে আমরা বড় হতে চাই।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চৌধুরী কুতুবউদ্দিন হারুনী বলেন, আমরা উর্ধতন মহলের সাথে কথা বলেছি। অতি শীগ্রই ঐ এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপনের প্রচেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়  না হওয়া পর্যন্ত আমার ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে একটি কিন্ডারগার্টেন স্হাপন করা পরিকল্পনা করছি। এলাকাবাসী ও স্হানীয় সকলের সহযোগিতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে এটি কার্যকর করা হবে। তিনি এতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ( ১ নং ওয়ার্ড)  মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান আজাদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি, বার আউলিয়া পাড়া এলাকায় বিদ্যালয় স্হাপনে আমি উদ্ধতন মহলের সাথে কথা বলে ঐ বিষয়ে  দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনে আন্তরিকতার সহিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বার আউলিয়া পাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি মিয়া বলেন, ‘বয়স অনেক হলো। বৃদ্ধ হয়ে গেছি। গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য অনেক মানুষের দ্বারে-দ্বারে গেছি। তারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মৃত্যুর আগে এই গ্রামে একটি বিদ্যালয় দেখে যেতে চাই। এব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাই।’

গ্রামের আব্দুল গণি নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমাদের গ্রামে কোনো স্কুল নেই। তাই পাশের গ্রামের হিলাগাজী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার সন্তানকে ভর্তি করি, অনেক সময় বৃষ্টি হলে রাস্তার বেহাল অবস্থা  হয়ে পড়ে। এ জন্য দূরের স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয়না।  গ্রামে বিদ্যালয় না থাকায় আমার সন্তানসহ বার আউলিয়া পাড়া গ্রামের অনেক শিশু-কিশোর ঝরে পড়ছে। শিক্ষার অভাবে শিশু-কিশোর ও যুবসমাজ বিপদগামী হচ্ছে।

ওই এলাকার মহিউদ্দিন  জানান, বার আউলিয়া পাড়া গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন হলে সু-শিক্ষা গ্রহণ করে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করতে পারবে এলাকার শিশু-কিশোররা।

এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা  প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিন্দোল বারী বলেন,বার আউলিয়া পাড়া  গ্রামে একটি স্কুল প্রয়োজন। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা  নির্বাহী কর্মকর্তা

(ইউএনও) আতাউল গণি ওসমানী  বলেন, ‘বার আউলিয়া  গ্রামে বিদ্যালয় নেই। বিষয়টি আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না। আমি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved