রবিবার, ২৬ Jun ২০২২, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় মাদার তেরেসা পদক পেলেন এস এম পিন্টু পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে রামগঞ্জ থানা পুলিশের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসকের আয়োজনে শোভাযাত্রা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদ্‌যাপনে, বাংলাদেশ পুলিশের্ নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন অবিলম্বে দেশে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের দাবি-ক্যাব ফুলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত।  বাঙালি জাতির সমস্ত অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে -তথ্যমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধনে মহিউদ্দিন মহারাজের নেতৃত্বে ৬টি লঞ্চে পিরোজপুরের ১৫ হাজার নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন ময়মনসিংহ আইটি ও হাই-টেক পার্ক এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন লাকসামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

নারী শিক্ষা ও বাল্যবিয়ে এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির ইউনিয়ন পর্যায়ে আলোচনা সভা

পেকুয়া প্রতিনিধিঃ
“ছেলে ২১, মেয়ে ১৮ বছর আগে বিয়ে না কর” এই শ্লোগান কে সামনে রেখে মগনামায় নারীশিক্ষা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি সংক্রান্ত ইউনিয়ন পর্যায়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা একলাবের উদ্যোগে চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

ইউনিসেফের অর্থায়নে মগনামা তথ্য ও মতামত কেন্দ্রের সিইও আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মুছার সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম খবরের সাংবাদিক মোঃ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিন, মগনামা এসডি এফ পাবলিক স্কুলের সভাপতি রিয়াজুল করিম চৌধুরী, প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম।

আরও উপস্থিত ছিলেন, মগনামা ইউনিয়নের ইউডিসির সদস্য আমিনুল কবির রানা, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মোক্তার আহমদ, ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন, ইউপি সদস্য মহি উদ্দিন, ইউপি সদস্য সরওয়ার কামাল, ইউপি সদস্য শাহ আলম, ইউপি সদস্য আবুল কাশেম, ইউপি মহিলা সদস্য আঞ্জুমান আরা বেগম, ইউপি মহিলা সদস্য মনোয়ারা বেগম, ইউপি মহিলা সদস্য কহিনুর আক্তার প্রমূখ।

সভাপতি চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস চৌধুরী বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। বাল্যবিবাহ আমাদের দেশের দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক অভিশাপ। বাল্যবিবাহের অভিশাপে একজন নারীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বিকশিত হতে দেয় না। একটি সুস্থ জাতি পেতে হলে দরকার একজন শিক্ষিত মা। শিক্ষিত মায়ের দ্বারাই সম্ভব একটি সুস্থ জাতি এবং একটি সুস্থ সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তোলা। কিন্তু বাল্যবিবাহের কারণে আমাদের এই সমাজের বেশির ভাগ মেয়ে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। আগামী প্রজন্মও সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠা ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও বাল্যবিবাহ বড় একটি বাধা। আমাদের জীবনে আধুনিকতা ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও বাল্যবিবাহের প্রবণতা কমেনি। বাল্যবিবাহ বন্ধে শুধু আইন নয়, দরকার জনসচেতনতা বৃদ্ধি। বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পারলে বাল্যবিয়েমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে হলে সবার আগে কিশোর-কিশোরী ও পরিবারকে সচেতন হতে হবে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেই বাল্যবিয়েকে রোধ করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যার যার জায়গা থেকে যদি বাল্যবিবাহ বন্ধে এগিয়ে আসে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তাহলে সমাজকে বাল্যবিবাহমুক্ত করা সম্ভব হবে।

সিইও আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মুছা তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় তিনি বলেন, তথ্য ই শক্তি, তথ্যই মুক্তি। তথ্য জানব, তথ্য জানাব। দীর্ঘ দিন ধরে একলাবকে সার্বিক সহযোগিতা করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

মগনামা এস ডি এফ পাবলিক স্কুলের সভাপতি রিয়াজুল করিম চৌধুরী বলেন -বাল্য বিবাহ ” শব্দটা বাংলাদেশে একটা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কত প্রাণ অকালে ঝড়ে পড়ছে তার সঠিক হিসেব কি কেউ রাখছে বা নিচ্ছে? বলা হয় অপুষ্টি বা জরায়ু ক্যান্সার বা কঠিন কোন অসুখে পড়ে মারা গেছে। অশিক্ষিত পরিবারে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়াটাই যেন পাপ। পিতামাতা শুধু একথাটাই ভাবেন, মেয়েটা কখন একটু বড় হবে? বিয়েটা দিতে পারলেই যেন বাঁচেন। একটি অসুস্থ প্রতিযোগীতার মতো চলছে ব্যাপারটি। সরকারীভাবে বহু সচেতনতা ও শাস্তির বিধান থাকলেও কে শুনে কার কথা। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিজে সচেতন হওয়া, আর সেটাইতো হচ্ছে না। আইনের চোখ ফাঁকি দিতে বয়স বাড়িয়ে কোর্ট হতে এফিডেবিট করিয়ে নেন নয়তো কাবিনটাই বাদ দেন। অতীতের বাল্য বিবাহের সামাজিক কুপ্রথা আজও চলছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও তা বন্ধ করা যায়নি। সকলের চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা করে কেন যায়নি? কারা এ জন্য দায়ী? সরকার, সমাজ না ব্যক্তি মানুষ?

জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) কর্তৃক প্রকাশিত ২০১৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছরের আগে ৬৬ শতাংশ মেয়ে এবং একই বয়সের ৫ শতাংশ ছেলের বিয়ে হচ্ছে। আগামী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও বাল্যবিবাহকে অন্যতম বাধা মনে করা হচ্ছে।

নারী শিক্ষা বিষয় নিয়ে মাস্টার সালাহ উদ্দিন বলেন, একজন শিক্ষিত মা পুষ্টিজ্ঞান, মানসিক পরিচর্যা, সুস্থ বিনোদন সম্পর্কে সচেতন বলে দেহ মনে সুস্থ জাতি গঠনে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আজকের যে বিশ্বসভ্যতার আলোকোজ্জ্বল বিকাশ তার পেছনে নারীর অবদান পুরুষের চেয়ে কম নয়। নারী তার স্নেহ, মায়া-মমতা ও নিরন্তর শ্রম দিয়ে বিশ্বসভ্যতার চাকা সচল রেখেছে। তাদের যথার্থ সাহচর্য ছাড়া কোনো বিজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক বা দিগ্বিজয়ীর পক্ষে আপন কীর্তিগাথা রচনা করা সম্ভব হয়নি। কবির ভাষায় কোনোকালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি/ প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে, বিজয়-লক্ষ্মী নারী। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভাষা আন্দোলন, ৬২, ৬৬, ৬৯-এর মিছিলে পুরুষের পাশাপাশি নারী ও তাদের বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। এছাড়াও ৯০-এর গণআন্দোলনেও তাদের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়।

দুর্যোগ প্রস্তুতি নিয়ে ইউপি সদস্য মোক্তার আহমদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বার্তা আমরা আগ থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে পেয়ে থাকি। কিন্তু মানবসৃষ্ট দুর্যোগের বার্তা আমরা আগে জানতে পারি না। এ কারণে ওই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে হয়। মানবসৃষ্ট দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি হচ্ছে জনসচেতনতা। আমরা সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি।

আজকের অনুষ্ঠানে ছেলেদের ২১ ও মেয়েদের ১৮ বছর আগে বিয়ে না করার আহবান জানিয়ে শপথ করানো হয়। এছাড়াও, নারী শিক্ষা ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মোকাবিলার আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে একলাব।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved