বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মে ৯ ফিলিং স্টেশনকে অর্থদণ্ড ধামইরহাটে শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বালুর ট্রাকের ভিতর থেকে মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ পত্নীতলায় নৈশপ্রহরীদের মাঝে বণিক সভাপতি’র ছাতা বিতরণ। মাইক্রোবাসে মাদক পাচার; পটিয়া বাইপাস রোডে ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ আটক ৩ সোনার বাংলা বিনির্মাণে নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবেঃ এম.এ সালাম বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণা ও উদ্দীপনার উৎস ছিলেন বঙ্গমাতা-স্থানীয় সরকার মন্ত্রী পিরোজপুরে মাদ্রাসার সম্মুখের সংযোগ রাস্তা সংরক্ষণ করার দাবীতে মানববন্ধন ভান্ডারিয়ায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ৯২তম জন্মবার্ষিকীতে হাসান মুরাদ বিপ্লব এর উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া এবং প্রতিকৃতিতে মাল্যদান

পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রথ উৎসব ধামরাই শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের রথ উৎসব ও মাসব্যাপী রথমেলা শুরু হবে শুক্রবার

বৈশ্বিক মহামারী নোভেল করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে দুই বছর ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের রথোৎসব বন্ধ থাকার পর এবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রথ উৎসব ধামরাইয়ের শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের ৩৫১ তম ঐতিহাসিক  রথোৎসব-২০২২ এর ধর্মীয় রীতি নীতি অনুসরন করে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে ১৬ই আষাঢ় -১৪২৯ বঙ্গাব্দ /১লা জুলাই -২০২২ রোজ শুক্রবার।
রথোৎসব – মহামিলন। ধর্ম,বর্ণ শ্রেণী পেশা,ধনী,গরীব নির্বিশষে  রথের রশি ধরে টানছেন , আনন্দ বিনিময় করছেন,  এই সাম্যই রথযাত্রার মূল শিক্ষা। ধামরাইয়ের শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের রথযাত্রার ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলা ১০৭৯ সালে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১২০৪ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ১২৫ বছর পর্যন্ত রথযাত্রা চলে  এসেছে। তারপর বালিয়াটি জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় রথযাত্রা অব্যাহত থেকেছে , আরও ১৪৬ বছর। বাংলা ১৩৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলোপের পর মির্জাপুরের দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা এগিয়ে আসেন রথযাত্রার উৎসব আয়োজন যা আজও অব্যাহত আছে। তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরী শ্রী রাজীব প্রসাদ সাহা, স্হানীয় গণমান্য ব্যাক্তি এবং শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির কমিটির সহযোগিতায় শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের সেবা ও রথ পরিচালনায় দায়িত্ব সুচারুরুপে পালন করে যাচ্ছেন।
১ জুলাই শুক্রবার  থেকে শুরু হতে যাচ্ছে প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো উপমহাদেশ খ্যাত ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী যশোমাধব দেবের রথযাত্রা ও মাসব্যাপী রথমেলা।  এ দেশের সনাতনধর্মী  হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় রথ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় এই ধামরাইয়ে।  ৯ই জুলাই অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথ যাত্রা বা পুর্নযাত্রা  অনুষ্ঠান। রথমেলা চলবে প্রায় মাসব্যাপী।
রথমেলা উপলক্ষে সার্কাস সহ বিভিন্ন বিনোদন মুলক ষ্টল বসবে মেলায়।
এ’রথ উৎসব হিন্দু ধর্মীয় ভাবধারায় প্রায় ৪০০ শত বৎসর পূর্ব হতে শুরু হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কারনে এই উৎসব ব্যাপক ভাবে সার্বজনীনতা লাভ করেছে। এই ধর্মীয়  রথ উৎসবকে কেন্দ্র করে ও ইতিহাস খ্যাত ধামরাইয়ে বেড়ানোর জন্য প্রতিটি বাসগৃহে দুরদুরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজন এসে ভীড় করে। অতীতে বাংলাদেশ নয় বিদেশ থেকেও হাজারো ভক্তবৃন্দরা রথ উৎসব কে কেন্দ্র করে ধামরাইয়ে এসে সমাগত হতো । এখনো আসে। পুরো উৎসবটিই কালের বিবর্তনে এখন ধর্মীয় ভাবধারা নয় সার্বজনীন স্রোতধারায় প্রভাবিত হচ্ছে।
এই ঐতিহবাহী রথ উৎসবকে কেন্দ্র করে গোটা ধামরাইয়ে এখন সাজ সাজ রব পড়ে গেছে,মেলায় শত শত ষ্টল বসেছে।
 শ্রী শ্রী যশোমাধব মাধব মন্দির ও রথোৎসব  পরিচালনা কমিটি কর্তৃক রথের যাবতীয় ও সাজ সজ্জার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে।  এবারও রথ উৎসব ও মেলার উদ্বোধনী অনষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মানণীয় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. সামসুল আলম।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা -২০ ধামরাই আসনের মানণীয় জাতীয় সংসদ সদস্য  আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার শ্রী বিক্রম কে দোরাইস্বামী, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসেন সরদার বিপিএম (বার) পিপিএম, ধামরাই পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লা,ধামরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোহাদ্দেছ হোসেন,ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী, ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান পিপিএম।
সহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও যশোমাধব মন্দির পরিচালনা ও রথ কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাস(অবঃ) , শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির পরিচালনা ও রথ কমিটির সাধারন সম্পাদক কুমুদিনি ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্টের চেয়ারম্যান ও  আর পি সাহার পৌত্র রাজিব প্রসাদ সাহা প্রমূখ উপস্থিত থাকবেন। ধামরাই যাত্রাবাড়ী শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দিরের মেলাঙ্গনের মাধব মন্দির মাঠ, কায়েতপাড়াস্হ শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির ও ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের রথ মন্দির কমিটির উদ্যোগে সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানান কমিটির সহ-সভাপতি ডাঃ অজিত কুমার বসাক।
রথ উৎসব উপলক্ষে  কায়েতপাড়াস্থ  রথ খোলায় ও রথের সামনে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে। এ সময় ডাক ঢোল কাঁসর ঘন্টা ও মহিলাদের উলু ধ্বনিতে মাধব মন্দিরের বর্তমান প্রধান পুরোহিত উত্তম কুমার গাঙ্গুলী ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবেন। দুপুরে মাধব মন্দিরে ভোগ রাগের পর প্রসাদ বিতরণ করা হবে আগত হাজারো ভক্ত বৃন্দের মাঝে। বিকেলে রথের সামনে লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী আলোচনা সভা শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দিকে রথটানা হবে বলে  মন্দির কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন ও কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও ধামরাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক রনজিত কুমার পাল (বাবু)।  বিকেল ৪টায় মাধব মন্দির থেকে মাধব বিগ্রহসহ অন্যান্য বিগ্রহগুলি নিয়ে এসে সারাবছর যেখানে রথটি থাকে সেই রথ খোলায়,রথের উপর মূর্তিগুলি স্থাপন করা হবে। এর পর বিকেল সাড়ে ৪ টায় রথের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রথখোলায় অস্থায়ী স্থাপিত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।
এই অনুষ্ঠানের আলোচানা সভা শেষে প্রধান অতিথি রথ উৎসবের পুরোহিতের হাতে প্রতিকী রশি প্রদানের মাধ্যমে রথ টানার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন  করবেন। এই রথটি মূর্তি সমেত লাখো ভক্ত নর-নারী পাটের রশি ধরে কায়েত পাড়ার রথ খোলা থেকে প্রধান সড়ক দিয়ে টেনে  পৌর এলাকার গোপনগরে। এখানেই রথটি প্রতিবছরের ন্যায় ৯ দিন অবস্থান করবে।
মাধব ও অন্যান্য বিগ্রহগুলি রথ থেকে নামিয়ে নিয়ে ৯ দিন পূজারীদের দ্বারা পুজিত হবে কথিত মাধবের শ্বশুরালয় যাত্রাবাড়ি মন্দিরে।৯ দিন পর আগামী ৯ই জুলাই অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথযাত্রা উৎসব। পূর্বের ন্যায় মাধব ও অন্যান্য দেব-দেবী বিগ্রহ  রথে চড়িয়ে ১২ জুলাই বিকেল ৬ টায় টেনে আনবে পূর্বের স্থান ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়াস্থ রথখোলায়।  এখান থেকে  মূর্তি গুলি চলে যাবে পুরোনো মাধবের নিজ আলয় মন্দিরে। রথ খোলায় রথটি সারা বছর থাকে বলে এই স্থানটির নামকরণ হয়েছে রথ খোলা।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়  পাক হানাদার ও তাদের দোসররা শত শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গগনচুম্বী দেবদেবীর কারুকার্য  খচিত আকর্ষণীয়  ৭৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ৪৪ ফুট পাশে মুল্যবান কাঠের দর্শনীয় রথ খানা পুড়িয়ে দিয়ে বাঙালীর উৎসব ও ঐতিহ্য ধ্বংস করে দেয়। রণদা প্রসাদ সাহাও সপুত্র প্রাণ হারিয়েছেন।যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে রণদা প্রসাদ সাহার সুযোগ্য কন্যা শ্রীমতি জয়াপতি স্হানীয় সমাজসেবী ঠাকুর গোপাল বণিক প্রমুখ এর সহায়তায় রথযাত্রা শুরু করেন। সেটি ছিল বাঁশের রথ। পরে ১৯৭৬সালে সংশ্লিষ্ট সবার, অক্লান্ত পরিশ্রমে  নির্মিত হয় কাঠের রথ।তা দিয়েই চলে আসছিল বাৎসরিক রথযাত্রা  উৎসব। পরবর্তিতে  ২০০৬ সালে ধামরাইয়ের রথ উৎসবে তৎকালীন মাধব মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক ধামরাইয়ের বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক প্রয়াত ঠাকুর গোপাল বনিকের আমন্ত্রনে রথ উৎসবে বিশেষ অতিথি হয়ে আসেন ঐ সময়ের বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার  শ্রীমতি বিনা সিক্রী।
ধামরাই বাসীর আন্তরিক দাবীর প্রেক্ষিতে শ্রীমতি বিনা সিক্রী তার ভাষনে পূর্বের আদলে ৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক পুড়িয়ে দেওয়া রথটির আদলেই ধামরাইয়ের রথটি নির্মান করে দেবার আশ্বাস দেন। পর্যায়ক্রমে ২০০৯ সালে তৎকালীন ভারতীয় হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী এবং শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি- মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাস একটি চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করেন।প্রায় এক বছরেরও অধিক সময় ধরে চলে রথের নকশা প্রণয়ণ এবং নির্মান কার্য সম্পাদন। এই কাজ যৌথভাবে সম্পন্ন করেছে UDC এবং Calvin Tecno Touch কোম্পানিদ্বয়। অবশেষে এই রথটি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে মন্দির কমিটিকে হস্তান্তর করা হয়।প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে ৩৭ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মনোরম এই রথটিই বর্তমান বিশ্বে সর্ববৃহৎ রথ। উক্ত রথ দিয়েই ২০১০ সাল থেকে শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের ঐতিহাসিক  রথোৎসব উদযাপন করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved