রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাতে আপনাকে স্বাগতম! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন,বিজ্ঞাপন দিন সহযোগী হোন! বাংলাদেশ সমাচার পড়ুন বেকারত্ব দূর করুন ।
শিরোনাম :
দিনাজপুরে কৃষি জমির ধান কেটে ফসল নষ্ট করার প্রতিবাদে জাবেদ কে কুপিয়ে গুরুতর জখম রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ১৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ইয়াবা উদ্ধার মুন্সীগঞ্জে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২২ হাজার লিটার চোরাই ডিজেলসহ আটক-০২ মুন্সীগঞ্জ‌ে পুলিশ পাহারায় যুবদলকর্মী শাওনের দাফন নোয়াখালীতে ক্রাইম পেট্রোল দেখে শিখে অদিতাকে খুন,   ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ; মৃত্যু নিশ্চিত করতে জবাই মেসির জোড়া গোলে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত জয় এইচএসসি ব্যাচ-২২ এর উদ্যোগে ও আয়োজনে ব্যতিক্রমী শিক্ষা সমাপনী “Flashmob” অনুষ্ঠিত ধোবাউড়া কলসিন্দুরে ফুটবল কন‍্যাদের পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন কমেছে বিক্রি, হতাশ সদরঘাটের ব্যবসায়ীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্থবির কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প

শিশুদের খেলার অধিকার আছে, তাদের বাইরে যেতে দিন

খেলাধুলা শিশুদের অধিকার। অথচ পথশিশুরা এই অধিকার থেকে চরমভাবে বঞ্চিত। সেদিকে সরকারের নজর কম। খেলাধুলার সুযোগ না পেয়ে পথশিশুরা নেশায় আসক্ত হচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে সমতা, বিশ্বাস, নেতৃত্ব গড়ে ওঠা, নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পথশিশুরা।
 দেশে ১৫ লাখের মতো শিশু পথে জীবন কাটায়। বেশির ভাগ পথশিশু ডাস্টবিনের ময়লা কুড়িয়ে, হকারি করে, মানুষের বোঝা টেনে ও ভিক্ষা করে জীবন যাপন করে। ৪০ শতাংশ পথশিশু দিনে একবার গোসলের সুযোগ পায় না। ৭৫ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যসেবা পায় না। পথশিশুদের ৮৫ শতাংশ নেশায় আসক্ত হয়।
 সব শিশুর খেলাধুলার অধিকার রয়েছে। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে না গেলে একটি শিশু পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না। বিকেলে মাঠে গিয়ে খেলাধুলার সংস্কৃতি উঠে গেছে। অভিভাবকেরা সন্তানদের শুধু পড়াশোনার মধ্যেই যুক্ত রাখতে চান, খেলাধুলা করা সময় নষ্ট বলে মনে করেন। অথচ সন্তানকে দিনে খোলা জায়গায় অন্তত আধা ঘণ্টা খেলতে দিলে একটি শিশু নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও সমতা শেখার পাশাপাশি সুস্থ মানুষ হয়ে উঠতে পারে, যা তার ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে প্রাকৃতিক পরিবেশে খেলাধুলা করার উপকারিতা অনন্যসাধারণ। শিশুরা যখন বাইরে নিজের ইচ্ছামত খেলার সুযোগ পায় তখন তারা অনেক বেশি সক্রিয় থাকে, বসে কম এবং দীর্ঘ সময় ধরে খেলে। এতে করে তাদের হাত নোংরা হয় এবং নানা রকম অনুজীবের সংস্পর্শে আসে যা তাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হয়। তারা নিজের লক্ষ স্থির করতে পারে এবং তা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়গুলো ঠিক করে নেয়। তারা শেখে, সহনশীল হয়ে ওঠে, সামাজিক দক্ষতা তৈরি হয় এবং কীভাবে ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ থাকতে হবে সেই বিষয়গুলোও তারা শিখে নিতে পারে। তাদের চোখেরও উপকার হয়, কারণ তাদের চোখ স্বল্পদৃষ্টি কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয় অনুশীলন করে নেয়। শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের ক্ষেত্রে ঘরের বাইরে খেলাধুলার প্রভুত উপকারিতা আছে। এতসব উপকারিতা থাকা এবং ক্ষতির আশঙ্কা অতিশয় বিরল হওয়ার পরও আমরা আমাদের শিশুদের বাইরে যাওয়ার অধিকারে বাধা দিচ্ছি। ২০২১সালে যখন শিশু অধিকার সনদের ৩০ বর্ষপূর্তি কেবলই পেরিয়ে গেল, তখন সেটি আমাদের শিশুদের স্বাস্থ্যসম্মত বেড়ে ওঠার জন্য তাদের ঘরের বাইরে সক্রিয় খেলাধুলায় অংশ নিতে দেওয়ার আমাদের কর্তব্যের কথাটিই মনে করিয়ে দিয়ে গেল। যদি আপনার মনে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ থাকে তবুও তাদের বাইরে যেতে দিন, এটা তাদের অধিকার।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞপ্তি

©দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার 2022All rights reserved