ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কিশোর কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য

  • আপলোড তারিখঃ 25-06-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 2433692 জন
ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কিশোর কিশোরীদের মানসিক  স্বাস্থ্য ছবির ক্যাপশন: .

সাদিয়া আফরিন


ডিজিটাল প্রযুক্তি  কিশোর কিশোরীদের উপর জটিল প্রভাব ফেলে। ডিজিটাল প্রযুক্তি  হচ্ছে  এমন একটা প্রযুক্তি যা তথ‍্যকে  ডিজিটাল আকারে সংরক্ষণ করে এবং যার মাধ‍্যমে  যোগাযোগ করা যায়। বর্তমানে পৃথিবীতে ব‍্যবহৃত সবচেয়ে জনপ্রিয়  ডিজিটাল প্রযুক্তি হচ্ছে স্মার্টফোন। যা একদিকে  পরস্পরের সাথে সংযোগ, শিক্ষা ও সমর্থন লাভের পাশাপাশি নতুন পথ উন্মোচন করে দেয় অপরদিকে  অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব‍্যবহার, সাইবার বুলিং ও ভুল তথ‍্যের কারণে  এটি মানসিক  চাপ, উদ্বেগ ও বিষন্নতার  মতো সমস‍্যার সৃষ্টি হয়।


সর্বশেষ তথ‍্যানুযায়ী দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের কাছে স্মার্টফোন রয়েছে। ২০২২ সালে এর হার ছিলো ৫২ শতাংশ। বাংলাদেশের মধ‍্যে শহরে ৪১ শতাংশ গ্রামে  ২৬ শতাংশ মানুষ  স্মার্টফোন ব‍্যবহার করে। বিভিন্ন  জরিপে দেখা গিয়েছে, কিশোর কিশোরীদের মধ‍্যে  ৩০•৬৮ শতাংশ  ইন্টারনেট ব‍্যবহার করে। ১৩-১৮ বছরের কিশোর কিশোরীদের মধ‍্যে ৯৫℅ স্মার্টফোন ব‍্যবহার করে। আধুনিক যুগে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এর মতো ডিজিটাল প্রযুক্তি কিশোর কিশোরীদের  জীবনের অবিচ্ছেদ‍্য  অংশ হয়ে ওঠেছে। গবেষণামূলক  প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৭৪ শতাংশ কিশোর কিশোরী ডিজিটাল প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি  ব‍্যবহারের মাধ‍্যমে ঘরে বসেই  দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মানুষের সাথে যোগাযোগ করা যায়, পরিবার বন্ধুবান্ধবের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে যোগাযোগ করা যায়। ৩৪ শতাংশ কিশোর মানসিক স্বাস্থ‍্য বিষয়ক পরামর্শ পেতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব‍্যবহার করে যা মাইন্ডফুলনেস ও স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ‍্যমে অনলাইন কোর্স ও টিউটোরিয়াল গুলোর মাধ‍্যমে দক্ষতা অর্জন করা যায়। ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ‍্যমে গান, লেখা ভিজুয়‍্যাল আর্টসহ বিভিন্ন উপায়ে নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ করার সুযোগ করে দেয়। 


তবে, কিশোর কিশোরীদের মধ‍্যে ৪৫ শতাংশ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব‍্যবহারের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক কাল্পনিক কথাবার্তা  কিশোর কিশোরীদের  ত্রুটি তুলনা করার পরিস্থিতি পায় যা তাদের আত্নসম্মান ও আত্নবিশ্বাসে আঘাত হানে। এছাড়া অনলাইন বুলিং বা হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা মানসিক স্বাস্থ‍্যের উপর আঘাত হানে। অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম ঘুমের সমস্যা, মনোযোগ সমস্যা, বিষন্নতার মতো সমস্যা সৃষ্টি করে। এছাড়া অনেকে পর্ণের মতো খারাপ আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে যা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ। সামাজিক মাধ‍্যমে লাইক কমেন্ট করা,  ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা তরুনদের মধ‍্যে উদ‍্যেগ আত্নসম্মানবোধ ও ডিপ্রেশন  তৈরী করছে। এছাড়া গেমিং বা স্ট্রিমিং  প্লাটফর্মের  প্রতি আসক্তি  পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও একাকিত্বকে তীব্র করছে। বাচ্চাদের খেলাধুলা বা বাইরের কার্যক্রম কমে যাওয়ায় স্থুলতা  ডায়াবেটিসের মতো  রোগ বাড়ছে। কিশোর কিশোরীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার ব‍্যক্তিদের প্রায়ই  মানসিক চাপ, উদ‍্যেগ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মান বৃদ্ধি পায়। ভুয়া বিরক্তিকর  তথ‍্য  ক্ষতিকারক বিষয়বস্তুর অবিরাম এক্সপোজের মাধ‍্যমে আমাদের মানসিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করছে। 


বর্তমান  দেশ যেহুতু প্রযুক্তি নির্ভর। তাই  ডিজিটাল প্রযুক্তি থেকে একেবারে মুক্ত থাকা সম্ভব নয়। কিশোর কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থের প্রতি দৃষ্টি রেখে, ডিজিটাল প্রযুক্তির অত‍্যাধিক ব‍্যবহার থেকে মুক্তির জন‍্য কাউন্সেলিং, জনসচেতনা, প্রচার -প্রচারণা  ইচ্ছেশক্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। ডিজিটাল প্রযুক্তি  ব‍্যবহারে ইতিবাচক দিকগুলো ব‍্যবহার করে যাতে পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় এবং নেতিবাচক দিকগুলো যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে সেজন্য প্রয়োজন ভারসাম্য দৃষ্টিভঙ্গি।


সাদিয়া আফরিন

ইডেন মহিলা কলেজ 


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ Bangladesh Shomachar

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

নতুন একনেক গঠন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতি