আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :
কেরানীগঞ্জ উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের জয়নগরে চলমান খাল খনন কর্মসূচি পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। খাল খনন কর্মসূচিকে একটি ‘বিপ্লব ও আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, খাল রক্ষায় জনসচেতনতা ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জয়নগর এলাকায় খননকাজ পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, খাল পরিষ্কার রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি সবার সামাজিক দায়িত্ব। খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, খালের বিভিন্ন অংশে অবৈধ বাঁধ ও বর্জ্য ফেলে দূষণ করা হয়েছে। এসব অপসারণ না করলে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, জনস্বার্থে জনগণের দাবির প্রতি সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দখল ও দূষণমুক্ত করে খননকাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমিসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
খাল খনন কর্মসূচির ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির সূচনা করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেরানীগঞ্জের জয়নগরে পুনরায় এ কর্মসূচি চালু করেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, জলাশয় ও খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শুভাঢ্যা খাল একটি চলমান প্রকল্প। পরিকল্পনা অনুযায়ী দখল ও দূষণমুক্ত করে খননকাজ সম্পন্ন করা গেলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
খননকাজ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে শুয়ারেজ লাইন ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী। এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ ও জান্নাতুল মাওয়া, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তাইবুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।
